শুক্রবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

সিলেটের পর্যটন স্পটগুলো পরিণত হয়েছে মৃত্যুফাঁদে, উদাসীন কর্তৃপক্ষ

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১৭:৫৪

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আঁধার সিলেটের পর্যটন স্পটগুলো একদিকে অবকাঠামোর আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। অপরদিকে নতুন নতুন সমস্যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। পর্যটন স্পটগুলোও যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

সূত্র মতে, গত দুই দশকে বেড়াতে এসে শুধু জাফলংয়ে মারা গেছেন অন্তত ৬০ পর্যটক। যেখানে নির্মল আনন্দ করতে আসার কথা সেখান থেকে ইদানীং অনেকেই লাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।

পর্যটকরা বলেছেন, পর্যটন এলাকায় যথেষ্ট নিরাপত্তার অভাবে মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি,  পর্যটকদের সচেতনতার অভাবে এমন ঘটনা ঘটছে। এমনি ঠেলাঠেলির মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ সিলেটের পর্যটন এলাকার পরিস্থিতি বেহাল।

সিলেটের সচেতন মহলের দাবি, ‘ঠেলাঠেলি বন্ধ করুণ, পর্যটন এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।

স্থানীয়রা জানান, বছরে একেকটি স্পটে অন্তত ৫-৭ টি দুর্ঘটনা ঘটে। তবে জাফলংয়ে বেশি  ঘটে। এসব দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন দেশের মেধাবী শিক্ষার্থী, সম্ভাবনাময় তরুণ পর্যটকরা।  ঘটনার পর থানা পুলিশ, অভিভাবকদের কাছে লাশ বুঝিয়েই খালাস। কর্তৃপক্ষও সতর্কতামূলক একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে যেন দায়মুক্তির সনদ নিয়ে বসে আছেন।

গত মাসের শেষদিকে চার দিনের ব্যবধানে সিলেটে দু’জনের প্রাণহানি হলে সচেতন মহলে বিষয়টি বেশ নাড়া দেয়। গত ২১ আগস্ট কোম্পানীগঞ্জের পর্যটন স্পট সাদাপাথর এলাকায় পানিতে ডুবে জয় (২৫) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু  হয়।

তার আগে ২৫ আগস্ট ডাউকি নদীতে গোসল করতে নেমে রমিজ নামে আরও এক যুবক লাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এসব স্থানে আনন্দ আর মৃত্যু যেন গলাগলি করে চলছে। সিলেটের পর্যটন এলাকায় একটি দুর্ঘটনার রেশ শেষ হতে না হতেই আরেকটি  দুঃখজনক ঘটনা ঘটে চলছে।

বর্ষায় নিহতের সংখ্যা বাড়ে

বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানির স্রোত বাড়ায় এ সময় নিহতের সংখ্যাও বাড়ে। গত ৬ জুলাই জাফলংয়ের পিয়াইন নদে বাবার সঙ্গে গোসলে নেমে নিখোঁজ হয় ঢাকার রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র মো আল ওয়াজ আরশ। ৮ জুলাই ঘটনাস্থলের পাশেই আল ওয়াজ আরশের লাশ ভেসে ওঠে। এর আগে ১ জুলাই সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে আবদুস সালাম (২৩) নামের এক তরুণ গোসলে নেমে নিখোঁজ হন।  দু’দিন পর ৩ জুলাই  লাশ ভেসে উঠে।

সিলেটের আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র জাফলং। অপরিকল্পিতভাবে পাথর ও বালু উত্তোলনের ফলে অনেক স্থান গর্ত হয়ে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। ধলাই নদীর সাদা পাথর পর্যটন এলাকায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক পর্যটক আসেন। এখানে গত ৫-৬ বছরে মারা গেছেন অন্তত ১২ পর্যটক। গোয়াইঘাটের বিছনাকান্দিতে এই সময়ে মারা গেছেন ৪ জন। নদীর তীব্র স্রোতে, চোরাবালি, নৌকাডুবি ও সাঁতার না জানার কারণে পানিতে ডুবে মারা গেছেন এসব পর্যটকরা।

সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি তাহমিন আহমদ বলেন, কয়েকটি সাইনবোর্ড টাঙানো ছাড়া সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তায়  কোনো উদ্যোগ নেই প্রশাসনের। টুরিস্ট পুলিশ বা স্বেচ্ছাসেবক নেই। তাই দুর্ঘটনা বাড়ছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এবং বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের উন্নয়নসহ নানা দিক দেখাশোনা করে। তাদের পক্ষে সিলেটে পর্যটন উন্নয়ন কমিটি রয়েছে। এ কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক। উপজেলা প্রশাসন থেকে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে কিছু স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা করা হলেও তা অপ্রতুল। পর্যটন পুলিশেরও সঙ্কট রয়েছে।

জাফলং টুরিস্ট পুলিশের ওসি রতন শেখ বলেন, অল্প লোকবল দিয়ে তা সামলানো কষ্টসাধ্য। কখনো ঝর্ণার উপর থেকে পা ফসকে পড়ে কখনো নদী বা লালাখালের সবুজ পানির নিচে চোরাবালিতে ডুবে প্রাণ হারান পর্যটকরা। 

 

ইত্তেফাক/এবি