খাগড়াছড়ির প্রবেশদ্বার মানিকছড়ির ডিসি পার্ককে গড়ে তোলা হচ্ছে প্রকৃতিবান্ধব আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে। প্রায় ১৬০ একর এলাকায় পার্কটি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রকৃতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২২টি টিলা ও ৩টি লেক পর্যটকদের মনের তৃষ্ণা মেটাবে। পার্কের ভেতরে তাঁবু বাসের সুযোগও রয়েছে। প্রকৃতি প্রেমীরা এখানে রাতও কাটাতে পারবেন। সেই সঙ্গে অরণ্য কুটির রিসোর্টেও রাত কাটানো যাবে।
পার্কের গোধূলি পয়েন্টে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্তের দৃশ্যপট দেখে মুগ্ধ হবে যে কেউ। এরই মধ্যে ডিসি পার্কের ২০ একর বনভূমিকে পাখির অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়েছে। পাখিবান্ধব গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। পার্কের ভেতরে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠা বন্যপ্রাণী ও পাখিদের নিরাপত্তা দিতে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটিই খাগড়াছড়ি জেলার প্রথম পাখির অভয়ারণ্য। বন মোরগের পাশাপাশি এখানে মাঝেমধ্যে দেখা পাওয়া যায় দুর্লভ মথুরারও। এমন প্রকৃতি বান্ধব পর্যটনকে স্বাগত জানিয়েছে পরিবেশবাদীরাও।
প্রকৃতিবান্ধব সংগঠন পিটাছড়া বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা মাহফুজ রাসেল বলেন, ‘এটি অসাধারণ উদ্যোগ। কারণ এখানে জীব বৈচিত্র্যকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পর্যটন শিল্পেরও বিকাশ হবে। এখানে একশ প্রজাতির দেশীয় বৃক্ষ লাগানো হচ্ছে। যার মধ্যে দুলর্ভ প্রজাতির গাছও রয়েছে। এসব গাছপালা বড় হলে পাখিদের জন্য তা নিরাপদ হবে। প্রকৃতিবান্ধব পর্যটনের মডেল হবে এটি।’
মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রক্তিম চৌধুরী বলেন, এটা যেহেতু বনে ঘেরা টিলা ও লেকবেষ্টিত তাই এখানে একটা ওয়াচ টাওয়ার বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বেড়াতে আসা পর্যটকদের রাত্রি যাপনের জন্য ক্যাম্পিংয়ের পাশাপাশি রির্সোটও নির্মাণ করা হবে। পার্কে যাতায়াত সহজ করার জন্য সড়কটি সংস্কার করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মানিকছড়ি ডিসি পার্ক এক অনন্য প্রাকৃতিক নিসর্গের স্থান। জনবসতিহীন প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে বনমোরগ, মথুরাসহ বিভিন্ন প্রজাতি পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে পার্কটি। এরই মধ্যে পাখির অভয়ারণ্যও ঘোষণা করা হয়েছে। পাখিদের নিরাপদ বসবাসের জন্য পার্কের বিভিন্ন গাছে স্থাপন করা হয়েছে প্রায় ১০০টি মাটির হাড়ি দিয়ে বানানো পাখির বাসা।
খাগড়াছড়ি জেলা খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান বলেন, ‘পুরো জেলায় পর্যটনকে সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে মানিকছড়িতে প্রকৃতিবান্ধব এই পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। পার্কে জিপলাইন, জায়ান্ট সুইং, আর্চারি পয়েন্টসহ বিভিন্ন অ্যাডভেঞ্চার রাইড চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যটনের সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে ক্যাম্পিংসহ আবাসন সুবিধা আরো বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।’
এদিকে, পার্কটিকে আরো আকর্ষণীয় ও প্রকৃতি বান্ধব পর্যটন কেন্দ্র করার লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ১০০ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় ২৫ হাজার ফলদ, বনজ ও বিভিন্ন প্রজাতির ওষুধি গাছ রোপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ২৩ আগস্ট ১টি বটগাছ, ১টি কোরপুর ও ১টি বক্স বাদাম গাছ রোপনের মধ্য দিয়ে বনায়নের নতুন উদ্যোগের উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান। পরে পার্কের অভ্যন্তরে প্রায় ২০ একর বনভূমিকে পাখির অভয়ারণ্য ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক।
