টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) দেশী মুরগির ঘর নির্মাণের জন্য দেওয়া বরাদ্দের টাকা ভয় দেখিয়ে নিজের কাছে নিয়েছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুকুমার চন্দ্র দাস। ওই প্রকল্পের মুরগির ঘর নির্মাণের কাজ গত জুন মাসে শেষ করার থাকলেও এখনও কোনো কাজ শুরুই হয়নি।
এদিকে চেকের টাকা তুলে দিতে দেরি হওয়ায় মুরগি খামারিদের (মহিলা) সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগ উঠেছে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুকুমার চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে এলডিডিপি প্রকল্পের উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কোনো ঘর পাওয়া যায়নি। এছাড়া কাজ শুরু করার জন্যও কোনো খুঁটি বা নির্মাণ কাজের কোনো আসবাবপত্রও দেখা যায়নি। শুধুমাত্র প্রকল্পের উপজেলার মাদারিয়া এলাকায় তারাকান্দি-ভূঞাপুর আঞ্চলিক সড়কের উপর ‘মাদারিয়া দেশী মুরগীর দল’ নামের একটি সাইনবোর্ড দেখা গেছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) দেশী মুরগির ঘর নির্মাণের জন্য উপজেলার ৬৭টি নারী খামারিদের জনপ্রতি ২০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এছাড়াও একই প্রকল্পে ভেড়া পালনের জন্য ঘর নির্মাণের বরাদ্দ দেওয়া হয় ২৮টি পিজি সদস্যদের। সেই বরাদ্দের টাকা গত জুন মাসের আগেই খামারিদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাব নম্বরে জমা করা হয়।
প্রকল্পে বলা হয়েছে, নির্ধারিত নিয়মে খামারিরা মুরগির ঘর করে নিতে হবে। এজন্য প্রকল্প দপ্তর কর্তৃক বরাদ্দকৃত অর্থের অতিরিক্ত ব্যয় হলে সংশ্লিষ্ট পিজি (খামারি) সদস্য উক্ত খরচ নিজে বহন করতে সম্মত থাকবেন। এরপর উপজেলা প্রাণিসম্পদ থেকে খামারিদের কাছ থেকে বিভিন্ন শর্তযুক্ত করে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে লিখিত রাখা হয়।
উপজেলার মাদারিয়া গ্রামের পিজি সদস্যরা (খামারি) বলেন, মুরগীর ঘর করার জন্য ২০ হাজার টাকা দিয়েছিল একাউন্টের মাধ্যমে। পরে সেই টাকার জন্য কৃষি ব্যাংকে ১১শ টাকা খরচ করে একাউন্ট করেছি। পরে টাকা তুলে আনা হয়েছিল ঘর করার জন্য। কিন্তু উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তিনি নিজেই ঘর করে দিবেন বলে টাকা ফেরত দিতে চাপ দেয়। পরে প্রকল্পের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ভয় দেখায় এবং চাপ সৃষ্টি করলে টাকা দিয়ে দেওয়া হয়। ৩ মাস অতিবাহিত হলেও এখনও ঘরতো দূরের কথা একটা খুঁটিও পাই মুরগীর খামার করার জন্য।
ফলদা মদনবাড়ি এলাকার পিজি সদস্যরা বলেন, পিজি সদস্যদের অফিসে ডেকে নিয়ে অশ্লীল ভাষায় কথাবার্তা বলেন, ইউএলও সুকুমার দাস। এছাড়া মামলার ভয় ও বাদ দেওয়ার কথা বলে টাকা নিতে চাপ দেয়। ৩ মাস অতিবাহিত হয়েছে। অথচ এই তিনমাসে মুরগীগুলো অনেক বড় হতো। এখন ঘর পাবো কিনা জানি না।
মাদারিয়া দেশী মুরগীর দল সমিতির সভাপতি জাহানারা বেগম বলেন, টাকা আসার জন্য প্রাণিসম্পদ থেকে চেক দেওয়া হয়। পরে টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করি ঘর করার জন্য। কিন্তু আমাদের ঘর করতে দেওয়া হয়নি। ইউএলও নিজেই ঘর করার জন্য টাকা ফেরত নিয়েছে। সমিতির একজনও ঘর পায়নি।
উপজেলা প্রাণি সম্পদের ফলদা ইউনিয়নের মাঠকর্মী আব্দুল কাদের বলেন, ফলদা ইউনিয়নে ৩৮ জন সদস্য রয়েছে। ঘর নির্মাণের জন্য তাদের চেক দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ইউএলও স্যার নিজে ঘর করে দেওয়া কথা বলে টাকা ফেরত চেয়েছে। সদস্যরাও টাকা ফেরত দিয়েছে। তবে ঘর নির্মাণ প্রকল্পের কমিটির একজন সদস্য হলেও এই বিষয়ে আমাকে কিছুই বলা হয়নি। ঘর করে দিবে কিনা কবে করবে সেটা জানি না।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুকুমার চন্দ্র দাস বলেন, কোনো সদস্যের টাকা আমি নেয়নি। গতকাল (সোমবার) রাতে ঘর করার আসবাবপত্র প্রকল্প এলাকায় চলে গেছে। এই বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রানা মিয়া বলেন, ঘর নির্মাণের টাকা কর্মকর্তার কাছে রাখার নিয়ম নেই। ঘর করার নিদির্ষ্ট নিয়ম রয়েছে। ঘর নির্মাণের কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
