প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকবে ইজতেমা মাঠ

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:৩৪

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, নির্বাচন পর্যন্ত আগামী এক মাসে ইজতেমার সব ধরনের প্রস্তুতি বন্ধ থাকবে। এসময় টঙ্গীতে ইজতেমার মাঠ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। বিবদমান অবস্থার মধ্যে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। একই সঙ্গে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানানা তিনি।

গতকাল শনিবার বিকাল পৌনে ৫টায় সচিবালয়ে শুরু হওয়া এ বৈঠক শেষ হয় সন্ধ্যা ৬টায়। এতে দিল্লি মারকাজের মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভিপন্থি বাংলাদেশে তাবলিগের শুরা সদস্য সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম এবং তাদের বিরোধী কওমীপন্থি শুরা সদস্য মাওলানা জুবায়েরের পক্ষ থেকে তাবলিগের উপদেষ্টা মাওলানা আশরাফ আলী ও আবদুল কুদ্দুসসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গত ১৫ নভেম্বর দুইপক্ষের বিবাদের কারণে পূর্বঘোষিত আগামী জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব ইজতেমা পেছানোর সিদ্ধান্ত হয়। এরমধ্যেই গতকাল শনিবার টঙ্গীতে পাঁচদিনের জোড় ইজতেমা নিয়ে দুইপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দফায় দফায় সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু ও অর্ধ শতাধিক মানুষ আহত হন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেন, আজ (গতকাল) টঙ্গীর মাঠ নিয়ে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এর আগে আমরা সভা করেছিলাম, সেই সভায় কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছিল। যারা যারা সেই সভায় ছিলেন তাদের বেশিরভাগ সদস্যই আজকের সভায় ছিলেন।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সর্বসম্মতিক্রমে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আগামী ৩০ তারিখে (ডিসেম্বর) জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সে জন্য আমরা আগেও বলেছিলাম নির্বাচনের আগে কোনো ধরনের ইজতেমা হবে না। আমরা সেটাকেই আবার রিপিট করেছি। ইলেকশন পর্যন্ত ইজতেমার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সভা কিংবা জোড় ইজতেমা কিংবা ইজতেমার জন্য সব ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ থাকবে। এটা দেশব্যাপী।

তিনি বলেন, ইলেকশনের পর ইজতেমার তারিখের বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। আমরা আবারও রিপিট করেছি, ইজতেমা কিন্তু বন্ধ হচ্ছে না, ইজতেমার তারিখ শুধু শিফট হচ্ছে, ইলেকশনের পর যেকোনো সময় এটা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে ইজতেমার মাঠ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। বিভিন্ন কারণে অন্যান্য দেশ চাচ্ছে ইজতেমা বাংলাদেশ থেকে চলে যাক। এ বিবাদ সেটার কোনো অংশ কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, না না, এটা কোনো অংশ হতে পারে না।

সভায় অংশ নেওয়া কাওরান বাজার শাহী মসজিদের খতিব মাজহারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ইজতেমা বাংলাদেশে হবে এটা নিশ্চিত। আশা করি একটা সমঝোতায় পৌঁছাবে।

কওমি মাদ্রাসা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিলের যুগ্ম-মহাসচিব ও তাবলিগের সাদ বিরোধীপন্থি মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, ‘আমরা বৈঠকে আজকের ঘটনাটি বর্ণনা করেছি। ইজতেমার প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলছিল, অপরদিকে ওয়াসিফুল ইসলাম সাহেবের জোড় ইজতেমা ছিল ৩০ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। জোড় করার নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ওনারা সারাদেশ থেকে লোক একত্রিত করে রড, বাঁশ ইত্যাদি নিয়ে গেট ভেঙে ব্যাপকভাবে মানুষের উপর আক্রমণ করে।

বৈঠকে সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, ধর্ম সচিব আনিছুর রহমান, পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ উপস্থিত ছিলেন।