স্পোর্টস রিপোর্টার
পরপর দুই জয়ে একটু হলেও উজ্জ্বল হয়েছে পাকিস্তানের সেমিফাইনাল খেলার সম্ভাবনা। ৭ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে এখন তারা বাংলাদেশের পেছনেই পয়েন্ট তালিকায় ৬ নম্বরে আছে। পরের দুই ম্যাচে জয় পেলে তারা সম্ভবত চলে যাবে সেমিফাইনালে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়ের পর দলটির কোচ মিকি আর্থার বলেছিলেন, এই জয়ের ভেতর দিয়ে সমালোচকদের চুপ রাখা গেলো। বুধবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর অধিনায়ক সরফরাজ অবশ্য এমন জবাব দেওয়ার কোনো কথা বলেননি। তিনি বরং বলছিলেন, পাকিস্তান এরকমই দল। কোনঠাসা হলেই তারা জ্বলে ওঠে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কম রানের ম্যাচে পাকিস্তান রাস্তাটা পার হয়েছে মূলত বাবর আজমের অসাধারণ এক সেঞ্চুরিতে ভর করে। নিউজিল্যান্ডের অপরাজিত যাত্রা থামিয়ে পাকিস্তান জিতেছে ৬ উইকেটে। এই জয়ের পর অধিনায়ক সরফরাজ বলেছেন, ‘আজকের এই ফল দেখে খুব ভালো লাগছে। আসলে পাকিস্তান দলের পিঠ যখনই দেয়ালে ঠেকে যায়, তখনই আমরা ভালো করি।’
তবে এই জয়ের ধারায় ফেরার আগে কঠোর সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে পাকিস্তানকে। এমনকি খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সে দেশের পত্রপত্রিকায় সমালোচনা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে অধিনায়ক সরফরাজকেই। তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণও করেছেন ভক্ত সমর্থকরা। কিন্তু এসব নিয়ে পাকিস্তান অধিনায়কের কোনো অনুযোগ নেই।
বরং সরফরাজ এখন চেয়ে আছেন, কি করে সামনের ম্যাচগুলোতে আরো ভালো করা যায়। তিনি বলছেন, ব্যাটিং-বোলিং ভালো হলেও ফিল্ডিংটা তাদের আরো অনেক ভালো করতে হবে। এমনকি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জেতা ম্যাচের ফিল্ডিং নিয়েও সন্তুষ্ট নন সরফরাজ, ‘ফিল্ডিং খুব জরুরী একটা বিষয়। আমরা আজকের আগে পর্যন্ত ফিল্ডিং একেবারেই ভালো করিনি। তবে এটা নিয়ে আমরা প্রাকটিস সেশনগুলোতে অনেক পরিশ্রম করেছি।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টা শেষ পর্যন্ত বাবর আজমের অসাধারণ সেঞ্চুরির কারণে এসেছে। কিন্তু সরফরাজ এই ম্যাচের কৃতিত্ব একক কাউকে দিতে চান না। তিনি বলছিলেন, এটা দারুণ একটা দলীয় প্রচেষ্টার ফল ছিলো, ‘এটা অসাধারণ একটা দলীয় প্রচেষ্টা ছিলো। আমির যেভাবে শুরু করেছে এবং এরপর শাহিন যেভাবে বল করেছে, তা অসাধারণ ছিলো। শাদাব মাঝের ওভারগুলোতে খুব ভালো বল করেছে। এরপর বাবর ও হারিস অসাধারণ ব্যাট করেছে।’
তবে বাবর আজমের জন্য বিশেষ প্রশংসাই বরাদ্দ রাখলেন সরফরাজ। বলছিলেন, ‘আমার মনে হয়, বাবর আমার দেখা অন্যতম সেরা একটা ইনিংস খেলেছে। এটা খুব ঝুকিপূর্ণ একটা উইকেট ছিলো। আমরা চাচ্ছিলাম, পঞ্চাশ ওভার ব্যাট করতে। এভাবে চাপ সামলানোর জন্য বাবরের সাথে হারিসেরও প্রশংসা করতে হয়।’
নিউজিল্যান্ডকে হারানোর ভেতর দিয়ে পাকিস্তান ১৯৯২ বিশ্বকাপের সাথে মিলটা অটুট রাখলো। প্রতিটি ম্যাচে সেই বিশ্বকাপের মতোই ফল পাচ্ছে পাকিস্তান। কিন্তু সরফরাজ ১৯৯২ সালের সেই বিশ্বকাপ জয়কে এখনই মাথায় ঢোকাতে চান না, ‘আমরা ১৯৯২ বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবছি না। আমরা এখন একটা একটা করে ম্যাচ নিয়ে ভাবছি। আমরা আশাবাদী যে, দল হিসেবে আমরা আরো ভালো করতে পারবো।’
