রণদা প্রসাদ হত্যা মামলা

টাঙ্গাইলের রাজাকার মাহবুবুরের ফাঁসি

আপডেট : ২৭ জুন ২০১৯, ২২:৪৬

মুক্তিযুদ্ধের সময় দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা ও তার পুত্র ভবানী প্রসাদ সাহাকে হত্যা এবং গণহত্যার ঘটনায় টাঙ্গাইলের রাজাকার মাহবুবুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনীত তিনটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গতকাল বৃহস্পতিবার এই রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর       সদস্যরা হলেন, বিচারপতি আমির হোসেন ও বিচারপতি মো. আবু আহমেদ জমাদার।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৭০ বছর বয়েসি আসামি মাহবুবুর একাত্তরে মির্জাপুর শান্তি কমিটির সভাপতি বৈরাটিয়া পাড়ার আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে। মাহবুবুর ও তার ভাই আব্দুল মান্নান সে সময় রাজাকার বাহিনীতে ছিলেন। রাজাকার বাহিনীতে থাকাকালে অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতন, হত্যা-গণহত্যার তিন অভিযোগেই মাহবুবুরকে সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছে আদালত। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় মাহবুবুরকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে তাকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে আসামি এক মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করার সুযোগ পাবেন।

রায় ঘোষণাকালে রণদা প্রসাদ সাহার পুত্রবধূ শ্রীমতী সাহা, নাতি রাজীব সাহাসহ কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের বেশ কয়েকজন ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে শ্রীমতী সাহা সাংবাদিকদের বলেন, অত্যাচারের বিচার পেয়েছি। স্বাধীনতার এতো বছর পর হ?লেও উত্তর পে?য়ে?ছে আগামী প্রজন্ম। আর?পি সাহার ম?তে, একজন মহান ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে। এ ধর?নের ঘটনা লজ্জাজনক ও মর্মান্তিক। রাজীব বলেন, আমাদের পরিবারের ওপর এটা একটা বোঝা হয়ে ছিল। আজ বিচার পেলাম। তবে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন মাহবুবুরের আইনজীবী গাজী এইচএম তামিম। তিনি বলেন, আমরা এ রায়ে সংক্ষুব্ধ। যথাসময়ে আপিল করবো। 

প্রসঙ্গত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত ৩৮টি মামলার রায় হয়েছে। এসব মামলায় ৮৮ জনের সাজা হয়েছে। যাদের মধ্যে ৬১ জনের ফাঁসি হয়েছে।