বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

কিশোরের বুদ্ধিতে বাঁচলো কয়েকশ ট্রেনযাত্রীর প্রাণ

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১৩:৩১

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রের উপস্থিত বুদ্ধিতে বাঁচলো ভারতের আপ শিয়ালদহ থেকে শিলচরগামী কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ট্রেনের কয়েকশ যাত্রীর প্রাণ। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট মোরফাস্ট ট্রেনসেলিম শেখ দ্রুতগতির ট্রেনটিকে রক্ষা করেছে। এ ঘটনার ছবি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। ঘটনার পরে রীতিমত স্তম্ভিত রেল কর্মকর্তারা।

গত বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলের দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, দ্রুতগতিতে ছুটে যাচ্ছিল আপ কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। মালদা জেলার ভালুকা রোড স্টেশন পার হতেই বিপদ অপেক্ষা করছিল ট্রেনটির জন্য। সেই সময় ট্রেন লাইনের পাশ দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন আট বছরের মুরসালিন। সে হঠাৎ লক্ষ্য করে আপ-লাইনে বেশ কিছু অংশের মাটি সরে গেছে। তাড়াহুড়ো নিজের পরনের লাল গেঞ্জি খুলে রেললাইনে দাঁড়িয়ে সংকেত দিতে থাকে চালককে। লাল সংকেত দেখে চালক এমারজেন্সি ব্রেক কষে ট্রেনটি দাঁড় করিয়ে দেন। আর তাতেই বড় বিপদ থেকে রক্ষা পায় ট্রেনটি এবং বেঁচে যায় ট্রেনে থাকা কয়েকশ যাত্রী।

খবর পেয়ে রেলকর্মীরা ছুটে গিয়ে দেখেন লাইনের নিচে প্রায় ৫০ মিটার জায়গার মাটি সরে গেছে। এরপর আপ-লাইন মেরামত করেন এবং শেষ পর্যন্ত ট্রেনটি ঠিকভাবে গন্তব্যে পৌঁছায়।

কড়িয়ালী বারিনওয়ার মিশন বিদ্যালয়ের ছাত্র মোরসেলিম শেখ বলেন, 'আমি বাড়ি ফিরছিলাম। হঠাৎ রেললাইনের ধারে দেখলাম কিছুটা মাটি সরে আছে। একটা খাঁদের মতো হয়ে গিয়েছে। আমার গায়ে একটা লাল গেঞ্জি ছিল। ওটা খুলে আমি ড্রাইভারের দিকে দেখানোর চেষ্টা করি। এরপর ট্রেনটি থেমে যায়। ড্রাইভার এসে দেখেন লাইনে ঝামেলা আছে। আমাকে ড্রাইভার কাকু খুব বাহবা দেয়।'

ছেলেটির মা বলেন, 'আমাকে বাড়ি এসে পুরো ঘটনাটি জানালো ছেলে। আমরা খুব খুশি। আমার ছেলে বুদ্ধি করে এতগুলো লোকের প্রাণ বাঁচিয়েছে।'

এই কিশোরের কৃতিত্বে খুশি স্থানীয় বাসিন্দারাও। ছেলেটির তাৎক্ষণিক বুদ্ধিকে সাধুবাদ জানিয়েছে সকলেই।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ওখানে অনেক জন জড়ো হয়েছিল। সবাই লক্ষ্য করেন, রেললাইনের নিচে একটা গর্ত হয়ে আছে। অনেকে চিৎকার করে ট্রেন থামানোর জন্য বলে। তবে ছেলেটা বুদ্ধি করে নিজের গেঞ্জিটা খুলে ওড়াতে থাকে। সেটা লক্ষ্য করেন ড্রাইভার। ছেলেটিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন রেলের কর্মকর্তারাও।

ইত্তেফাক/এসকে