দৈনিক ইত্তেফাক-এর আলোকচিত্রী আব্দুল গনির জীবন নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র চলতি বছরের জ্যাকসন ওয়াইল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অর্জন করেছে। প্রামাণ্যচিত্রটি ‘গ্লোবাল ভয়েসেস’ ক্যাটাগরিতে জয় পেয়েছে। এটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন শহিদুল আলম এবং মালাইকাভাস। দৃক পিকচার লাইব্রেরি এবং আনটেমড প্ল্যানেট এ প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছে। গত বৃহস্পতিবার এই পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়।
শুক্রবার দৃক পিকচার লাইব্রেরির পক্ষ থেকে এই পুরস্কারপ্রাপ্তির তথ্য জানানো হয়। দৃক পিকচার লাইব্রেরি তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মানবাধিকারের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতিকে আরও সমুন্নত করবে এবং ফিল্মের কাহিনীর চমৎকারিত্বের প্রতি আরও মনোযোগী করবে।
প্রামাণ্যচিত্রটি আবদুল গনির জীবনযুদ্ধ এবং সেই যুদ্ধ জয়ের কাহিনী তুলে দরে। সে জীবন সংগ্রামের, বেদনার। আবার সেই বেদনাকে শক্তিতে পরিণত করে আলোকিত জীবনের দিকে ধাবিত হওয়ার কাহিনী হচ্ছে ‘গনি’। প্রামাণ্যচিত্রটি একজন অভিবাসী কর্মী থেকে একজন ফটোসাংবাদিক হয়ে ওঠার গল্প বলে। যার কেন্দ্রে ‘গনি’। পাশাপাশি একজন ফটোসাংবাদিকের দৃষ্টিকোণ থেকে কাতারে অভিবাসী শ্রমিকদের দুর্বিষহ জীবনযাত্রা ও করুণ পরিস্থিতিকে তুলে ধরে। এছাড়াও এতে উঠে এসেছে গনির বর্তমানের কাজের পরিবেশ এবং পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্কের গল্পও। প্রামাণ্যচিত্রে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসী শ্রমিকদের যে কঠোর কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় তার জীবন্ত চিত্র উঠে এসেছে। সেইসঙ্গে
নিয়োগকারীদের দ্বারা শ্রমিকদের শোষণ এবং গ্রীষ্মকালে কাতারের নির্দয় সূর্যালোকে দগ্ধ হয়ে কত যুবক মারা গেছে সেই তথ্যকেও সামনে নিয়ে আসে।
এবারের প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ৭৪টি দেশ থেকে ১১শ’ ক্যাটাগরিতে ছবি জমা পড়েছিল। ১২শ’ ঘণ্টা স্ক্রিনিংয়ের পর ২ শতাধিক বিচারকের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ফলাফল তৈরি করা হয়। বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়া অভিবাসী শ্রমিকদের সেদেশের নির্মাণশিল্পে কাজ করার সময় যে কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় তার জীবন্ত চিত্র উঠে এসেছে দৃকের পুরস্করজয়ী ‘গনি’ প্রামাণ্যচিত্রে। দৃকের উদ্যোগে ২০২১ সালে কাতারে ছবিটির কাজ শুরু হয়। ২০২২ সালের জুলাইতে আনটেমড এই উদ্যোগে যোগ দেয় এবং ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ এবং কাতারে আরও শুটিং করা হয়।
এর আগে, আলোকচিত্রী আব্দুল গনি দৃক আয়োজিত বাংলাদেশ প্রেস ফটো কনটেস্ট-২০২৩ এর বর্ষসেরা পুরস্কার জিতে নেন।
