বুধবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৩, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় বাঘার শিক্ষা ক্ষেত্রে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ২০:২৭

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও রাজশাহীর চারঘাট-বাঘার সংসদ সদস্য শাহরিয়ার আলমের ঐকান্তিক  প্রচেষ্টায় শিক্ষা ক্ষেত্রে এসেছে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। তিনি বর্তমান সরকারের ১৫  বছরে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন পূরণে তার নির্বাচনী এলাকায় একের পর এক উন্নয়ন করে যাচ্ছেন। এজন্য সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দিয়েছেন একটি করে কম্পিউটার। এছাড়াও মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রায় ১০টি প্রতিষ্ঠানে চালু করেছেন আইসিটি ল্যাব। 

ঘোষণা দিয়েছেন, কেউ যদি তার সন্তানকে পড়ালেখা করাতে ব্যর্থ হন তাহলে সেই শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নেবেন তিনি। একইসঙ্গে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যয় করছেন জাতীয় সংসদ থেকে প্রাপ্ত সম্মানী ভাতার সকল অর্থ। সবশেষ এই উপজেলায় একটি মাধ্যমিক ও একটি কলেজ সরকারিকরণের মাধ্যমে এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। 

স্থানীয়রা জানান, শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকারের নীতি ও নানা যুগান্তকারী উদ্যোগের কারণে সারাদেশে অসংখ্য উন্নয়ন হয়েছে। তবে চারঘাট-বাঘায় যে সকল সাফল্য অর্জিত হয়েছে তার পেছনে সকল অবদান স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের। 

তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। এজন্য বাঘা উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দিয়েছেন ল্যাপটপ, মডেম, কম্পিউটার, ট্যাব ও প্রজেক্টর। যাতে করে বড়দের পাশাপাশি ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা বাস্তবমুখী শিক্ষায় সুশিক্ষিত হতে পারে। একইসঙ্গে গত দুই মাস পূর্বে  বাংলাদেশ আইসিটি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ৩০ জন কলেজ শিক্ষার্থীকে ফ্রি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। 

তারা বলেন, বিগত সময়েও এ উপজেলায় অনেকে এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন তবে সম্মানী ভাতার টাকা কেউ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করেননি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ অঞ্চলের মানুষ আবারও তাকেই বিজয়ী করবেন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাঘা উপজেলায় ১৩৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৭৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৯টি কলেজ, ৯টি মাদ্রাসা, ৫ টি ভোকেশনাল ও ২টি স্কুল এ্যান্ড কলেজ। এর মধ্যে বাঘা উচ্চ বিদ্যালয়, খালিদাস খালি, জোতরাঘর, চন্ডিপুর, দাদপুর ও মনিগ্রামসহ ১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩০টি করে ল্যাপটপ বিতরণের মাধ্যমে ‘ল্যাব ভবন  প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করেছেন । এছাড়াও ৬০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ এবং শতভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের পাশাপাশি অর্ধ শতাধিক বিদ্যালয়ে প্রাচীর নির্মাণ ও ৩০টি বিদ্যালয়ে মিনি পার্ক নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। সেই সঙ্গে ২৮টি মাধ্যমিক ও ৬ কলেজে নতুন অত্যাধুনিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। গত বছর ৪৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৭টি কম্পিউটার এবং ৩৫টি প্রিন্টার বিতরণ করা হয়। এজন্য সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আ ফ ম মাহামুদুল হাসান বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এক টানা ১৫ বছরে এ উপজেলার কালিদাস খালি, তেঁথুলিয়া, খুদ্দে বাউসা, বিনোদপুর, রহমতুল্লা বালিকা বিদ্যালয়, বাঘা উচ্চ বিদ্যালয়, আড়ানী কলেজ, তেঁথুরিয়া শরিফাবাদ কলেজ, বাঘা ফাজিল মাদ্রাসা ও বাঘা শাহদৌলা সরকারী ডিগ্রি কলেজসহ ৩৪টি প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে ঘুরে দাঁড়িয়েছে শিক্ষার পরিবেশ। এছাড়া বাঘা, কালিদাসখালি, জোতরাঘব, চন্ডিপুর,বাউসা ও আড়ানী প্রতিষ্ঠানে ১৭টি করে কম্পিউটার-ল্যাব প্রদান করা হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে একটি করে প্রজেক্টর, একটি করে মডেম, রাওটার, প্রিন্টার ও ১০টি করে অটোবি চেয়ার-টেবিল। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মীর মামনুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার আমলে আমাদের সংসদ সদস্য শাহরিয়ার আলমের প্রচেষ্টায় শিক্ষাক্ষেত্রে এসেছে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। গত ১৫ বছরে বাঘার ২৫টি বিদ্যালয় ওয়াশ ব্লক নির্মাণ, ২৩টি বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন মেরামত এবং সকল বিদ্যালয়ে একটি করে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও ২৫টি বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া বিতরণ করা হয়েছে। এই মাল্টিমিডিয়া (প্রজেক্টর) মাধ্যমে আধুনিক পদ্ধতিতে পাঠদান চলছে। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় এবারও জেলায় প্রথম এবং বিভাগে তৃতীয় হয়েছে এ উপজেলা। তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চেষ্টা করে যাবেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহারিয়ার আলম বলেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। যে জাতি যত শিক্ষিত, সেই দেশ ততো উন্নত। আমাদের দেশকে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে নেওয়াসহ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তনের কোনো বিকল্প নাই। এ কারণে আমাদের সরকার শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণসহ উপবৃত্তির ব্যবস্থা করেছেন। আমরা চাই মানসম্মত শিক্ষা। এজন্য প্রধানমন্ত্রী নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

ইত্তেফাক/এবি