কোনোভাবেই থামছে না চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপ-উপগ্রুপের সংঘাত-সংঘর্ষ। গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর টানা চার দিন তিন গ্রুপে আট দফা সংঘর্ষ হয়। টালমাটাল ছাত্রলীগের এই ইউনিটকে সামাল দিতে না পেরে কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কিন্তু এর দুই সপ্তাহ না পেরোতেই ফের সংঘর্ষে জড়িয়েছে দুই উপগ্রুপ সিক্সটি নাইন ও বিজয়ের একাংশ। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হল-সংলগ্ন একটি হোটেলে খাবার খেতে গিয়ে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত, এতে অন্তত ২১ জন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমার নামাজ শেষে মায়ের দোয়া হোটেলে খাবার খেয়ে বের হওয়ার সময় সিক্সটি-নাইন গ্রুপের কর্মী আজমিরের হাতের ধাক্কা লেগে টেবিলের ওপর থাকা ডালের বাটি পড়ে যায়। এ বিষয়টি নিয়ে বিজয় গ্রুপের কর্মী মাহিরের সঙ্গে আজমিরের কথাকাটাকাটি হয়। পরে বিকাল ৩টার দিকে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষের সময় বিজয় গ্রুপ সোহরাওয়ার্দী হল মোড়ে ও সিক্সটি নাইনের নেতাকর্মীরা শাহজালাল হলের সামনে অবস্থান নেন। সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি চলে ধাওয়া-পালটাধাওয়া। এ সময় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদেরই দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দিতে দেখা যায়। ঘণ্টাখানেক সংঘর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ বিষয়ে সিক্সটি নাইন গ্রুপের নেতা শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সাইদুল হক সাইদ বলেন, খাবারের দোকানে ওরা আমাদের এক ছেলের ওপর পূর্বঘটনার জের ধরে ইচ্ছেকৃতভাবে ঝামেলায় জড়িয়েছে। এরপর তাদের ছেলেরা সোহরাওয়ার্দী হল থেকে বের হয়ে শাহজালাল হলে হামলা চালাতে আসে। ফলে আমাদের ছেলেরাও হল থেকে বের হলে সংঘর্ষ শুরু হয়।
অন্যদিকে বিজয় গ্রুপের একাংশের নেতা শাখাওয়াত হোসাইন বলেন, ‘খাবারের দোকানে ঝামেলা হওয়ার পর আমি আমার কর্মীদের হলে ঢুকিয়ে দিয়ে সিনিয়রদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছিলাম। এমন সময় তারা শাহজালাল হল থেকে বের হয়ে আমাদের হলে অতর্কিত হামলা চালায়। আমাদের ছেলেরা তাদের প্রতিহত করেছে।’
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. নূরুল আজিম শিকদার বলেন, ‘হোটেলে খাবার খেতে গিয়ে সোহরাওয়ার্দী হল ও শাহজালাল হলের ছেলেদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল। খবর পেয়েই আমরা পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ছেলেদের শান্ত করতে সক্ষম হই। ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি এখন শান্ত আছে।’
