সড়কে পানি থইথই!

আশকোনায় বাসাবাড়ি ও দোকান জলমগ্ন

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৩, ১৪:০৯

দূর থেকে দেখলে মনে হবে এটি কোন খাল। পানির স্রোতের কারণে বোঝারই উপায় নেই এটি খোদ রাজধানীর একটি সড়ক। উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আশকোনা পানির পাম্প এলাকার সড়কের অবস্থা এটি। শুধু পানির পাম্প সড়ক নয়, মেডিক্যাল রোড, আশকোনা বাজার রোড, খলিল বক্স রোডসহ পুরো আশকোনার সড়ক এখন পানির নিচে। অথচ এটি সিটি করপোরেশনের আওতাধীন একটি এলাকা। 

অন্যদিকে দক্ষিণ সিটির ২৬ নম্বর ওয়ার্ড আজিমপুর কলোনির অগ্রণী স্কুলের সামনের সড়কে ও আশপাশে এবং নিউমার্কেটের দক্ষিণ পাশের সড়কে একই অবস্থা। হাঁটু সমান পানির কারণে ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে এ অবস্থার মধ্যেই চলাচল করছেন বাসিন্দারা। নতুন অন্তর্ভুক্ত ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড আশকোনায় দীর্ঘ সময় পার হলেও পৌঁছায়নি কোনো নাগরিক সুবিধা। পচা পানি জমে থাকার কারণে বাড়ছে মশা-মাছিসহ বিভিন্ন কীটপতঙ্গের উপদ্রব। বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও দোকানে প্রবেশ করছে এই পানি। এ সংকট নিরসনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কোনো সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এখানে এখনো কোনো ধরনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। যার কারণে পানি সরতে পারে না। প্রাকৃতিকভাবে অনেক এলাকার পানি শুকিয়ে গেলেই মানুষ চলাচল করতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনের গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণখানের আশকোনায় যাতায়াতের প্রধান প্রবেশদ্বার হচ্ছে আশকোনা হজ ক্যাম্প সড়ক। এ এলাকায় বিভিন্ন পেশার লক্ষাধিক লোকের বসবাস। বিমানবন্দর, ভিআইপি রেলওয়ে স্টেশন ও রাজধানীতে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বহু চাকরিজীবী এ এলাকায় বসবাস করেন। প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আশকোনা হজ ক্যাম্প সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন তারা।

এলাকাবাসী জানান, হজ ক্যাম্প থেকে আশকোনা বাজার পর্যন্ত সড়কটির প্রায় এক কিলোমিটার হাঁটুপানিতে সয়লাব। সড়কে জমে থাকা হাঁটুপানিতে অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে দুর্ঘটনার শিকার হন যাত্রীরা। বায়তুল মাহফুজসহ কয়েকটি মসজিদের মুসল্লিদেরও এই নোংরা পানি মাড়িয়ে জামায়াতে শরিক হতে হয়।এ সড়কের পাশেই বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এছাড়া দুই পাশে শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ময়লা পানির দুর্গন্ধে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এখানকার বাসিন্দারা। এখানকার কয়েক জন বাসিন্দা জানান, এলাকাবাসীর এ দুর্ভোগের বিষয়ে সংশ্নিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কোনো মাথাব্যথা নেই। দীর্ঘদিন ধরে ময়লা ও পচা পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়। এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলেও জানান তারা।

এদিকে টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে পুরান ঢাকার জুরাইনে হাঁটু সমান পানি জমেছে। আজিমপুর কলোনিতে অগ্রণী স্কুলের সামনে জমেছে পানি। এতে শিক্ষার্থীরা সড়ক পারাপার হতে ভোগান্তিতে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা থাকলেও এটি এখনো সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

ইত্তেফাক/এএইচপি