জেসমিন এক বাংলাদেশী মেয়ে কিন্তু ব্যবসা ও অন্যান্য উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান সংযুক্ত আরব আমিরাতে। ২০২০ সালের দিকে ২৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে তার পারফিউম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান শুরু হয়।
বাংলাদেশে বেড়ে ওঠা জেসমিন মূলত ছোট থেকেই নিজে একটা কিছু করতে চেয়েছিলেন। তার স্বপ্ন ব্যবসা ও এসব দিকেই ছিল। পড়াশুনা শেষ করার পরপরই আরব আমিরাতের দিকে পাড়ি জমান এবং মনস্থির করেন নিজ উদ্যোগে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শুরু করবেন। পরিবার থেকেই ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ছিলো তার এবং সে থেকেই শুরু করা। সংযুক্ত আরব আমিরাতে তার অন্যতম সুগন্ধি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান " জেসমিন সানশাইন " আজ বহুল পরিচিত।
২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আর স্বপ্ন টা অনেক বড়। বাবার কাছ থেকে শেখা ব্যবসা আর নিজস্ব অভিজ্ঞতা সব মিলিয়ে অনেকটা সাহসিকতার সাথেই নেমে পড়লেন ব্যবসায়। নতুন পরিবেশে, নতুন দেশ ও নতুন মানুষদের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে খুব বেশি একটা সময় লাগেনি তার। খুব সহজেই মানুষের সাথে মিশে গিয়ে তৈরি করেছেন মাল্টি মিলিয়ন ডলার কোম্পানি। ২০২১ সালের দিকে পুরোপুরি ভাবে শুরু হয় তার এই পথচলা। এত দূর পর্যন্ত আসার সাথে ছিলেন তার বাবা মিরাজ আহমেদ। মেয়েকে সবসময়ই সহযোগিতা করেছেন সব বিষয়ে এবং পাশে থেকেছেন প্রতিটি মুহূর্তে।
জেসমিন আরও জানান, তিনি তার বাবা, পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞ ; কেননা তাদের অনুপ্রেরণা আর সবসময় তার পাশে থাকার কারণেই সে আজ তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন। তার প্রথম আউটলেটটি ছিল দুবাই মলে। দুই বছরের মাথায় তার ৫টি আউটলেট দিতে সক্ষম হন এবং মোট ৪৫ টি দেশে তার পারফিউম রপ্তানি করা হয়। তার ইচ্ছা আছে আগামী দু'বছরের মধ্যে যেন ৫০ টি আউটলেটের স্বপ্ন পূরণ হয়। তার বাবার আরব আমিরাতের সুগন্ধি ব্যবসায়ীদের সাথে কিছুটা পরিচয় এবং তাদের নিজের চেষ্টায় মিলে তৈরি হয়েছে আজকের জেসমিন সানশাইন।
নিজ প্রচেষ্টা এবং পারিবারিক সাহায্য ও নিজের অভিজ্ঞতা কে কাজে লাগিয়ে আজ জেসমিন সানশাইন তাদের প্রস্তুতকৃত পারফিউম অনেকগুলো দেশে রপ্তানি করছেন। সাফল্য অর্জনের জন্য জেসমিন সবসময়ই উদ্ভাবন, ইচ্ছা ও পরিশ্রমে বিশ্বাসী। তিনি কাজ করেন বিশ্ব বিখ্যাত পারফিউমারদের সাথে এবং ভবিষ্যতে তার এই ব্র্যান্ড কে বিশ্বের সামনে তুলে ধরবেন। স্বপ্নের মাঝে আসা সকল বাধা যেভাবে উপেক্ষা করে এগিয়েছেন আগামীতেও তিনি এভাবেই এগিয়ে যাবেন। বাংলাদেশী তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি উদাহরণস্বরূপ।
