কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের গোহারুয়ায় প্রতিষ্ঠিত ২০ শয্যার হাসপাতালটি দীর্ঘ ১৮ বছরেও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। ফলে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এ অঞ্চলের মানুষ। এদিকে, স্বাস্থ্যসেবা চালু না হওয়ায় হাসপাতালটির মূল ভবন এবং চিকিৎসক ও কর্মচারীদের পাঁচটি আবাসিক ভবন অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। হাসপাতালের চতুর্দিকে সীমানাপ্রাচীর না থাকায় আবাসিক ভবনগুলো পরিণত হয়েছে মাদকসেবীদের আড্ডাখানায়।
জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর গ্রামীণ জনগণের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের লক্ষ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফুর ভূঁইয়ার উদ্যোগে গোহারুয়া গ্রামে ২০ শয্যার এ হাসপাতালটি স্থাপন করা হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৬ সালের ১৭ অক্টোবর হাসপাতালটির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের কক্ষগুলোর দরজা-জানালা ভাঙা। চুরি হয়ে গেছে বৈদ্যুতিক তার এবং ইলেকট্রিক্যাল সরঞ্জামগুলো। ময়লা-অবর্জনা জমে আছে পরিত্যক্ত কক্ষগুলোতে। পাঁচটি আবাসিক ভবনের চতুর্দিকে লতাপাতায় ঢেকে আছে। ভেতরের কক্ষগুলো ময়লা-আবর্জনায় পরিত্যক্ত অবস্থায় অবকাঠামাগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একটি আবাসিক ভবনে গোহারুয়া গ্রামের এক বাসিন্দা আবাসন গড়েছেন। হাসপাতালের প্রবেশমুখের দুই পাশের জলাশয় দখল করে গোহারুয়া গ্রামের এক ব্যক্তি রেণু পোনা মাছের চাষাবাদ এবং ভবনের একটি কক্ষকে মাছের খাদ্যগুদাম হিসেবে ব্যবহার করছেন। হাসপাতালে কর্মরত ওয়ার্ড বয় রাকিবুল হাসান পরিচ্ছন্নতা কর্মী, নিরাপত্তা প্রহরী, টিকেট কালেক্টর এবং ওষুধ বিতরণের দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন মজুমদার বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং লোকবলের অভাবে উদ্বোধনের দেড় যুগ পরও এলাকাবাসী স্বাস্থ্যসেবার সুফল পাচ্ছেন না। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবদাস দেব বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ এবং জনমানবহীন বিলের মধ্যে হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হয়। ওষুধপত্রের কোনো বরাদ্দ না থাকলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে লজিস্টিক সাপোর্ট দিয়ে এক জন চিকিৎসক দ্বারা বহির্বিভাগ চালু রাখা হয়েছে। হাসপাতালের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণসহ ভবন সংস্কারে প্রকল্প প্রস্তাব প্রেরণ করেছি। অনুমোদন পেলে সংস্কার ও মেরামতের পর জরুরি বিভাগ এবং আন্তঃবিভাগ চালু করা হবে বলে তিনি জানান।
