শেখ রাসেল ১৯৭৫-এর পনেরো আগস্টের এক শহিদের নাম। শেখ রাসেল স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ সন্তান। শৈশব থেকেই দুরন্ত-প্রাণবন্ত শেখ রাসেল ছিলেন পরিবারের সবার অতি আদরের। ঘাতকের নির্মম বুলেট কেড়ে নেয় ছোট্ট রাসেলের প্রাণ। সেদিন ঘাতকদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি ১০ বছর বয়সী ছোট্ট, নিষ্পাপ শিশুটিও। মৃত্যুর সময় শেখ রাসেল ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।
শেখ রাসেলের মৃত্যুর ৪৬ বছর পর তাকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে প্রথম অ্যাপ ‘অদম্য শেখ রাসেল’। লেখক এবং খুদে প্রোগ্রামার আরাবী বিনতে শফিক (শিফা) এই অ্যাপটি নির্মাণ করেছে। অ্যাপটি যখন শিফা নির্মাণ করে তখন তার বয়স ছিল ১০ বছর।
১০ বছর বয়সে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশে শিফা এই অ্যাপটি নির্মাণ করে। অ্যাপটি এখন আইসিটি ডিভিশনের অ্যাকাউন্টে গুগল প্লে স্টোরে আছে। ইতিমধ্যে অ্যাপটি ১০ হাজারের ওপরে ডাউনলোডের মাইলফলক স্পর্শ করেছে।
অ্যাপটি নির্মাণ করার অনুভূতি জানতে চাইলে শিফা জানায়, শেখ রাসেলকে নিয়ে নির্মিত প্রথম অ্যাপ নির্মাণ করতে পারাটা আমার প্রোগ্রামিং জীবনের সার্থকতা। এই অ্যাপটির মাধ্যমে সবাই শেখ রাসেল সম্পর্কে খুব সহজে নির্ভুল ও সঠিক তথ্য জানতে পারছেন। শেখ রাসেলের জীবন ক্ষুদ্র হলেও তা ছিল আদর্শ জীবন। এই অ্যাপটির মাধ্যমে শেখ রাসেলের জীবনের আলোকে শিশু-কিশোররা নিজেকে গড়ে তুলতে পারবে। অনেক আগে থেকেই আমার ইচ্ছে ছিল শেখ রাসেলকে নিয়ে কাজ করার। আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক আঙ্কেলকে অনেক ধন্যবাদ, আমাকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য। আমি আরও ধন্যবাদ জানাতে চাই, আমার স্কুলের শিক্ষকদের; বিশেষ করে উজ্জ্বল স্যারকে। ‘অদম্য শেখ রাসেল’ অ্যাপটির মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের হৃদয়ে শেখ রাসেল অমর হয়ে বেঁচে থাকবে, এটাই প্রত্যাশা।
অসাধারণ মেধাবী শিফা ‘অদম্য শেখ রাসেল’ অ্যাপের আলোকে ‘অদম্য শেখ রাসেল Indomitable Sheikh Russel’ নামক একটি বইও লিখেছে; যেন শেখ রাসেল সম্পর্কে অ্যাপের পাশাপাশি বই পড়েও জানা যায়। এই বইয়ে রয়েছে উন্নতমানের কাগজে বাংলার পাশাপাশি ইংরেজিতে দারুণ নান্দনিক উপস্থাপনা। বইটি প্রকাশ করেছে পাঠকপ্রিয় প্রকাশনী জ্ঞানকোষ। ২০২২ সালের ১২ অক্টোবর শিফার নির্মাণ করা অ্যাপ ‘অদম্য শেখ রাসেল’ উদ্বোধন করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। ওইদিনই শিফার লেখা দ্বিতীয় বই ‘অদম্য শেখ রাসেলIndomitable Sheikh Russel’ যৌথভাবে মোড়ক উন্মোচন করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক এবং বাংলা একাডেমির সভাপতি সেলিনা হোসেন।
শিফা বর্তমানে ময়মনসিংহের ফুলপুর পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। শিফার বয়স মাত্র ১২ বছর। তবে এ বয়সেই তার নির্মাণ করা অ্যাপের সংখ্যা ২টি। তার লেখা বইয়ের সংখ্যা তিনটি। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় শিফা নির্মাণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবননির্ভর অ্যাপ ‘এক পলকে শেখ হাসিনা’। অ্যাপটি নির্মাণ করার পর দেশ-বিদেশে সুখ্যাতি অর্জন করে শিফা। শিফা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে অবদান রাখার জন্য অর্জন করে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষ থেকে পুরস্কার, আইসিটি ডিভিশনের পুরস্কারসহ আরও অন্যান্য। শিফা পুরস্কার হিসেবে প্রাপ্ত অর্থ বিলিয়ে দিয়েছে, যেসব শিক্ষার্থীরা ডিভাইসের অভাবে কাজ করতে পারে না; তাদের মাঝে ডিভাইস বিতরণ করে।
এই অ্যাপের আলোকেই শিফা লিখেছে তার লেখা প্রথম বই ‘এক পলকে শেখ হাসিনা Sheikh Hasina at a glance’। শিফার লেখা প্রথম বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। শিফা বইটি হাওর অঞ্চল এবং পথশিশুসহ প্রায় সারাদেশে পৌঁছে দিয়েছে নিজ অর্থে।
চলতি বছরের ২৯ আগস্ট বাংলা একাডেমিতে সম্মিলিতভাবে শিফার লেখা তৃতীয় বই ‘দুর্দম্য সুলতানা কামাল খুকী’র মোড়ক উন্মোচন করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এমপি, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আরমা দত্ত এমপি এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহাম্মদ নূরুল হুদা।
আরাবী বিনতে শফিক (শিফা) এক সম্ভাবনাময় নক্ষত্র। বর্তমানে সে প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, ভাষাসৈনিক শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে নিয়ে একটি বই লেখা এবং অ্যাপ নির্মাণের কাজ করছে। পরবর্তীতে একটি প্রোগ্রামিং শেখার অ্যাপ নির্মাণ করতে চায় শিফা, যে অ্যাপটির মাধ্যমে সব বয়সীরা প্রোগ্রামিং শিখতে পারবেন বিনামূল্যে। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়েও একটি অ্যাপ নির্মাণ ও বই লেখার ইচ্ছে আছে তার।
শিফার মা কামরুন্নাহার লাকী এবং বাবা প্রকৌশলী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। শিফা তাদের একমাত্র সন্তান। বাবার চাকরির সুবাদে তার বেড়ে ওঠা ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার অফিসার্স কোয়ার্টারে। তাছাড়া শৈশবের বর্ণিল সময়গুলো অতিবাহিত হয়েছে মামা-খালাদের সাথে নরসিংদীর নানার বাড়িতে। তবে শিফার পৈত্রিক নিবাস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার আহরন্দ-মহিউদ্দিননগর গ্রামে।

