ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিত্সাধীন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এইচ এম এরশাদের রক্তে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তার রক্তচাপ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সংক্রমণ ও বার্ধক্যজনিত কারণে তার শরীর বেশ দুর্বল। গত চারদিন ধরে কৃত্রিম উপায়ে তার শরীরে খাবার সরবরাহ করছেন চিকিত্সকরা। দুর্বলতা কমাতে নিয়মিত স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালে এরশাদকে দেখার পর গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তার ছোটো ভাই ও জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, ‘আগেরদিনের চেয়ে উনি আজ ভালো। চিকিত্সকরা জানিয়েছেন তার অবস্থার ৪০ ভাগ উন্নতি হয়েছে। তবে অসুস্থতা আছে। চিকিত্সা যেটা দরকার, সেটা চলছে। উনি এখনো শঙ্কামুক্ত নন। আমার সাথে ভাই একটু কথা বলেছেন, ডাক্তারদের সাথেও কথা বলেছেন। উনি কোনোরকম কমিউনিকেট করতে পারছেন না, তা নয়। চিকিত্সকরা বলেছেন, সামনে আরো উন্নতি হবে। সবমিলিয়ে অবস্থা উন্নতির দিকে যাচ্ছে, অবনতির দিকে যাচ্ছে না।’ আমি আমার ভাইয়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চাচ্ছি, যেন উনি আবারও দেশ ও জাতির জন্য কাজ করতে পারেন। পবিত্র জুমারদিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে তার জন্য দোয়া হয়েছে। এরশাদ পত্নী রওশন এরশাদ ও ছেলে সাদ গতকালও সন্ধ্যায় এরশাদকে দেখতে সিএমএইচে গেছেন।
এদিকে, এরশাদের ‘চিকিত্সার টাকা জোগাড় হয়নি’ বলে বৃহস্পতিবার সংসদে জাপা মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা যে বক্তব্য রেখেছেন, সেটি নিয়ে দলের ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা গতকাল তার ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘এরশাদের চিকিত্সার জন্য লাখ লাখ নেতাকর্মী আছে। তারা সবাই টাকার পাহাড় তৈরি করে দেবে। সেই টাকা রাখার জায়গা বাংলাদেশের যে জমি আছে সেখানে ধরবে না। প্রয়োজনে সব টাকা আমি ব্যক্তিগতভাবে একাই দিতে পারি ইনশাআল্লাহ।’
এরশাদের আরোগ্য কামনায় আগামী সোমবার কাকরাইলে জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সদকা এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করছে জাতীয় কৃষক পার্টি। সংগঠনের সভাপতি সাহিদুর রহমান টেপা জানান, সদকার গরু দিয়ে তেহারী রান্না করে দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হবে।
