নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি স্টিল মিলের গ্যাস পাইপ লাইনে বিস্ফোরণে ৫ শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। তাদের সবাইকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইউনিট অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (১৪ অক্টোবর) ভোররাতে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল এলাকায় শারমিন স্টিল লিমিটেডে এ দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়। দগ্ধরা হলেন জাকারিয়া (২২), মোজাম্মেল (৩০), ইকবাল (২৬), সাইফুল (৩০) ও শরিফুল (২৫)।
শ্রমিকরা জানান, শুক্রবার রাতে কাজ শেষ করে শ্রমিকরা সবাই কারখানার ভেতরেই ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোররাত সাড়ে তিনটার দিকে কারখানার ভেতরে গ্যাসের কন্ট্রোল রুমে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। এসময় ওই রুমের দুইপাশের দেয়াল ধসে পড়ে আগুন ধরে যায়। পাশের একটি রুমও বিধ্বস্ত হয়। আগুনে গ্যাসের কন্ট্রোল রুমের পাশে ঘুমিয়ে থাকা ৫ শ্রমিক দগ্ধ হন। পরে অন্যান্য শ্রমিকরা দগ্ধদের উদ্ধার করে রাজধানির শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটউটে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল সার্জন ডা. তরিকুল ইসলাম জানান, দগ্ধদের অবিস্থা সংকটাপন্ন। তাদের মধ্যে মোজাম্মেল শতভাগ, সাইফুল ৬০ ভাগ, শরিফুল ৫৭ ভাগ,জাকারিয়ার ৩৫ ভাগ ও ইকবালের শরীরের ৩৩ ভাগ পুড়ে গেছে। তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
মেসার্স শারমিন স্টিল লিমিটেডের ইনচার্জ সৈয়দ হারুন অর রশিদ আজাদ বলেন, ‘বেশির ভাগ ছুটির দিনে গ্যাসের প্রেসার বা চাপ বেড়ে যায়। এটা অটোমেটিক নিয়ন্ত্রণ হয়। গতকাল শুক্রবারও চাপ বেড়ে ওভার ফ্লো হয়ে এই দূর্ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা মনে করছি।’
সকালে ফায়ার সার্ভিস, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ও তিতাসের কর্মকর্তারা কারখানা পরিদর্শন করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার পর তিতাসের নারায়ণগঞ্জ জোনের কর্মকর্তা প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা কারখানা পরিদর্শন করি। গ্যাসের কন্ট্রোল রুমে পাইপ লাইনে কোন লিকেজ পাইনি। আমরা ধারণা করছি, গ্যাসের চাপ বেড়ে গিয়ে এই দুর্ঘটনা হয়ে থাকতে পারে। তবে আমাদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আসবেন। তারা দেখে আরও ভালো বলতে পারবেন।’
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠয়েছি। বিস্ফোরণের বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।কারখানা কতৃপক্ষ বা কারও কোনো গাফেলতি আছে কিনা সে বিষয়েও আমরা তদন্ত করছি।’
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক ফখর উদ্দিন বলেন, ‘আগুনের খবর পেয়ে ভোররাতেই আমাদের দুটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রন করে। এখানে এসে জানতে পেরেছি পাঁচজন দগ্ধ হয়েছে এবং তাদের ঢাকায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তিতাসের বিতরণ সংযোগে সরবরাহকৃত গ্যাসের চাপ বেড়ে যাওয়ায় এই বিস্ফোরণ হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। তিতাসের সাথেও আমরা কথা বলবো। এরপর নিশ্চিত করে বলতে পারবো কি কারণে বিস্ফোরণ হয়েছে।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. বাচ্চু মিয়া পাঁচজন দগ্ধ হওয়ার খবর নিশ্চিত করে জানান, তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
