জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডির কথা আমি প্রথম শুনেছিলাম আমার মায়ের মুখে। মা খুব একটা বিশদ আকারে বর্ণনা দিতে পারেননি, তার যা কিছু মনে ছিল তা নিতান্তই ভাসা ভাসা। সাল সঠিক মনে নেই, তবে বিটিভিতে নাটক চলছিল, আর সে রাতে নোয়াখালীতে হচ্ছিল ভয়াবহ বৃষ্টি, ঝড়ই খুব সম্ভবত। ১৯৮৫’র ১৫ই অক্টোবরের কথা মায়ের স্মৃতিতে আজও অম্লান থাকার ব্যাপারটা আমার কখনোই ঠিক বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি।
নোয়াখালী শহর থেকে এত দূরে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার রেশ আমার প্রৌঢ়া মায়ের মনে আজ অবধি রয়ে গেছে, এই ব্যাপারটা সহসা বিশ্বাস হওয়ার নয়! এমন বেদনাবিধুর মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর তিন দিনব্যাপী যে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়েছিল এবং ১৬ই অক্টোবর দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল, তারই পরিপ্রেক্ষিতেই এই ঘটনাটি আমার মায়ের বিশেষ রূপে মনে রয়েছে। এতে প্রমাণিত হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বুকে ছাত্রদের একটি আবাসিক হলে ঘটে যাওয়া এই ট্র্যাজেডির আঁচ সেসময় ছড়িয়ে পড়েছিল বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে, পাড়ায়-পাড়ায়, মহল্লায়-মহল্লায়।
জগন্নাথ হলের ভেতর শোক সন্তপ্ত ভারী হাওয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে পাকিয়ে হলময় ঘুরে বেড়াচ্ছিল সে দিন। দুর্ঘটনার আকস্মিকতায় হতবিহ্বল কেউ কেউ ধরে বাড়ির পথ। আর যারা রয়ে যায়, তারা দৌড়ে বেড়ায় হল থেকে মেডিকেল, মেডিকেল থেকে হলে। ঢাকা মেডিকেল, পিজি, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল, সলিমুল্লাহ, হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল, অক্টোবরের এই কয়েকটা দিন সেখানে গিজগিজ করছিল ঢাবি শিক্ষার্থীদের মুখ, আহতদের পরিচিত স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, আর ঢাকার বুকে তাদের অসংখ্য অপরিচিত শুভানুধ্যায়ীরা।
আসলে কী ঘটেছিল সেই রাতে?
ব্রিটিশ আমলে নির্মিত অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য ভবন (সাবেক এসেম্বলি হল) তৎকালীন সময়ে ব্যবহৃত হতো জগন্নাথ হলের মিলনায়তন হিসেবে। ভবনটি ১৯৪৭ এর পর কিছুকাল ব্যবহৃত হয়েছে প্রাদেশিক পরিষদের অধিবেশন স্থান হিসেবে। পরবর্তীতে ১৯৬৩ সালে এটিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হলে জগন্নাথ হলে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। নাম বদলে রাখা হয় একাত্তর সালের শহীদ বুদ্ধিজীবী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্যের নামে। অবশ্য সংযোজনের কয়েক বছরের ভেতরেই সম্পূর্ণ ভবনটি ব্যবহারের প্রায় অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। এরই মধ্যে ১৯৭৯ সালে এই ভবনটিতে রঙিন টিভি স্থাপন করা হয়। হলের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ছোট্ট একটু বিনোদনের খোরাক।
১৯৮৫’র ১৫ই অক্টোবর, রাত তখন বাজে সাড়ে আটটা। বিটিভিতে শুরু হয় ধারাবাহিক নাটক ‘শুকতারা’। রাতের খাবার শেষে একজন দুইজন করে আসতে শুরু করে টিভি রুমে। একসময় টিভির সামনে মেঝেতে পেতে রাখা চেয়ারগুলো পূর্ণ হয়ে যায়। জায়গা না পেয়ে বাকিরা দাঁড়িয়ে পড়ে দেয়াল ঘেঁষে, দরজার সামনে, অথবা বসে পড়ে মেঝেতেই। প্রায় চারশো জন জলজ্যান্ত মানুষ সেদিন রাতে ভিড় জমিয়েছিল টিভি রুমে, একই ছাদের তলায়। তাদের কেউ কি ওই মুহূর্তে ঘুণাক্ষরেও আঁচ করতে পেরেছিল, নিয়তি কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের সামনে অবতারণা করতে চলেছে এক নির্মম পরিহাসের?
রাত বাজে প্রায় পৌনে নয়টা। পর্দায় শুকতারা চলছে। বাইরে টিপটিপ বৃষ্টি। অনেকেই রাতের খাবার সারছেন ক্যান্টিনে। হঠাৎ বাইরে চেঁচামেচি। সকলে ভেবেছে সরকার সমর্থিত ছাত্র সংগঠন, নতুন বাংলা ছাত্র সমাজ জগন্নাথ হল আক্রমণ করেছে। কারণ এর আগে বেশ ক’দিন যাবত এমন গুজবই শোনা যাচ্ছিল। কেউ কেউ দৌড়ে পালায় হলস্থ কর্মচারীদের আবাসিক কোয়ার্টারগুলোর দিকে। আবার অনেকে সাহস করে বাইরে বেরিয়ে আসে। আর বেরিয়েই তারা শুনতে পায় সেই সর্বনাশা দুঃসংবাদ। টিভি রুম ধসে পড়েছে।
মাত্র ক’দিন হল বহু দেন-দরবারের পর টিভি রুম সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। ছাদের ফাঁকফোকর বেয়ে যেন বৃষ্টির জল গলিয়ে না পড়ে তাই ওপরে টিন দিয়ে ছাউনি মতোন দেওয়া হয়েছিল বেশ আগেই। তবে নিছক কোন দৈবী ছলেই ১৫ই অক্টোবরের সকালবেলাতে মেরামতের উদ্দেশ্যে ছাদের টিনগুলো সরিয়ে নেয়া হয়। সারাদিনের অঝোর বৃষ্টিতে ধীরে ধীরে ছাদের চুন-সুরকি নরম হতে থাকে। যতোই সময় গড়ায়, ততোই বাড়ে বৃষ্টির তোড়। আর সকলের অগোচরে টিভি রুম পরিণত হতে থাকে এক অদৃশ্য মৃত্যুপুরীতে।
ছাদ ধসে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বাদলা দিনের ঘন অন্ধকার জমাট বেঁধে রয়েছে চারপাশে। আর এরই মাঝে অগুনতি মানুষের গোঙানি, চাপা কান্না আর ভীত-সন্ত্রস্ত মানুষগুলোর আহাজারিতে পুরো পরিবেশ বিষণ্ণ। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে ঘটনাস্থলেই নিহত মানুষগুলোর রক্তের গন্ধ। মুহূর্তেই চারপাশের মানুষ অবতীর্ণ হয় স্বেচ্ছাসেবীর ভূমিকায়। শতাব্দী প্রাচীন এই ধসে পড়া ভবনের লোহার বীম, কাঠের চৌকাঠ আর কংক্রিটের ঢালাই সরিয়ে সবাই এগিয়ে আসে আটকে পড়া মানুষগুলোকে উদ্ধারের লক্ষ্যে। রাত বারোটার ভেতরেই হলের শহীদ মিনারের বেদী ভরে যায় পঁচিশটি লাশে। তখনও উদ্ধারকাজ চলছে। সেদিন ঘটনাস্থলেই ৩৪ জনের মৃত্যু হয়। আরও ৫ জন মারা যায় হাসপাতালে অথবা হাসপাতালে নিয়ে যাবার পথেই।
রশ্মিনী কুমার বর্মন। ঠাকুরগাঁওয়ের এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়তে আসা রশ্মিনী তখন কেবল প্রথম বর্ষের ছাত্র। এলাকার সুবাদে পরিচিত হলেরই একজন দাদা’র (নারায়ন বর্মা) রুমে ডাবলিং করে থাকত ও। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরপরই পুরো দমে ক্লাস শুরু হয়ে যায়। কিন্তু স্বল্প ও মৃদুভাষী রশ্মিনীর মন তখনও বাঁধা পড়ে আছে তার পাড়াগাঁয়ে। মাকে দেখার জন্য মন বারবার আনচান করে। কিন্তু বিক্ষিপ্ত মনকে বারবার সে প্রবোধ দেয়, সামনেই পূজার ছুটি। আর মাত্র ক’টা দিন ধৈর্য ধরার ব্যাপার।
১৯৮৫’র ১৯শে অক্টোবর থেকে শুরু হবে দুর্গাপূজার ষষ্ঠী। ১৫ই অক্টোবরের বিকাল সাড়ে চারটায় দিনাজপুর-গামী ট্রেনে হাফ ভাড়ায় যাওয়ার লক্ষ্যে সে আগেভাগেই কমলাপুর থেকে কেটে আনে কনসেশন টিকেট। গুলিস্তান থেকে সস্তায় কাপড় কেনে বাড়ির সবাইকে পূজায় উপহার দেবে বলে। কিন্তু ওইদিন দুপুরবেলায় মত বদলায় রশ্মিনী। ঠিক করে পরদিন, অর্থাৎ ১৬ তারিখে সে রওনা দেবে বাড়ির পথে। তবে জীবিত অবস্থায় রশ্মিনীর আর বাড়িতে যাওয়া হয়নি। শেষমেশ তার কপালে জোটে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিমান বাহিনীর নিজস্ব হেলিকপ্টারে চেপে বাড়ির পথে রওনা দেওয়ার সুযোগ। কিন্তু এই অভূতপূর্ব সম্মানকে উপভোগ করার জন্য রশ্মিনী কুমার বর্মন তখন আর বেঁচে নেই।
সেদিন দুর্ঘটনায় কবলিত মানুষগুলোকে উদ্ধার করতে, নিহতদের প্রতি সম্মান জানাতে, সমগ্র ঢাকা শহর থেকে জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে ভিড় জমায় সাধারণ মানুষ। হল গেটে যে রিকশাওয়ালা মামাদের সাথে ভাড়ার দর কষাকষি নিয়ে ছাত্রদের নিত্যনৈমিত্তিক ঝগড়া বাঁধত, তারা নিজ উদ্যোগে বিনা ভাড়ায় আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে। জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থীরা ঢাকা শহরে যাদের বাড়িতে টিউশন পড়াতে যেত, সেসব বাড়ি থেকে লোকজন এসে ভিড় জমায় সাহায্যের দু’হাত বাড়িয়ে দিতে। ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের ভেদাভেদ ভুলে আহতদের রক্ত দিতে এগিয়ে আসে সবাই।
বাংলার ওপর যতবারই এমন জাতীয় পর্যায়ের দুর্যোগ নেমে এসেছে, ততবারই বাংলার মানুষ তাদের একতার পরিচয় দিয়েছে। তারা বারবার প্রমাণ করেছে, সবার ওপরে মানুষ সত্য, তাহার ওপরে নাই।
এমন দুর্ঘটনা আমাদেরকে হতবাক করে দেয়, আমাদের মনকে, মননকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। বিবেকের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আমরা নিজেরাই নিজেদেরকে জিজ্ঞেস করি, ‘এ কি নিছকই দুর্ঘটনা? নাকি তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক অসাবধানতা-বশত ঘটে যাওয়া কোন প্রহসন?’
মনে রাখা জরুরি, ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট কেমন ছিল। দীর্ঘদিন পর সাম্প্রদায়িক পাকিস্তান সরকারের বেড়ি ভেঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। কিন্তু পঁচাত্তরেই দান উল্টে যায়। এক মহান নেতাকে খুন করে পদাসীন হয় এক জোরজবরদস্তিমূলক সরকার। অবশেষে বাংলাদেশের রাজনীতির বিস্তর পটপরিবর্তনের পর, বহু জল ঘোলা করে ক্ষমতায় আসে সেনা শাসক লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। কে যেন ধীরে ধীরে অসাম্প্রদায়িক শক্তিকে বিলুপ্ত করে আরও একবার কায়েম করতে চায় সাম্প্রদায়িক চেতনা, ভাঙ্গনের বীজ বপনে উদ্যত হয় কালো শক্তি।
হলের প্রাক্তন প্রাধ্যক্ষ রঙ্গলাল সেনের স্মৃতিচারণা পড়ে আমরা জানতে পারি, তৎকালীন সময়ে সংখ্যাগরিষ্ঠের ধারণা ছিল, হিন্দু মানেই আগে হোক বা পরে, এই দেশ ত্যাগ করবেই। জগন্নাথ হলের ছাত্র মানেই ভারতে পাড়ি জমাবে। তাই তাদের জন্য সুবিধাদির বিশেষ ব্যবস্থা করে খুব একটা লাভ নেই। অবশ্য এই ধারণা আজকের দিনেও আর কাহাতক বদলেছে!
ভবন ধসে পড়ার ঘটনায় শেষমেশ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের টনক নড়েছিল। সেই স্থান শীঘ্রই দখল করে নেয় নবনির্মিত অক্টোবর ভবন। অতঃপর একটি দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে অন্তত হলের বাদবাকি শিক্ষার্থীদের স্বার্থরক্ষা করা সম্ভব হল। আফসোস, এই অভ্যাসের বদল আজ অবধি হয়নি। কেবলমাত্র দুর্ঘটনা ঘটার পরেই আমাদের সামষ্টিক চেতনার হেন উদ্বোধন আমরা এরপর আরও বহুবার প্রত্যক্ষ করেছি। কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নয়, এই রোগ আমাদের জাতীয় স্তরের সর্বত্রও ছড়িয়ে পড়েছে। এই রোগ হতে অতিসত্বর মুক্তি চাই।
আজও জগন্নাথ হলের অভ্যন্তরে অবস্থিত হল সংসদ ভবন, গোবিন্দ চন্দ্র দেব ভবন এবং জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা ভবনের দিকে আমরা তাকিয়ে তাকিয়ে প্রমাদ গুনি। এই বুঝি ঘটে যায় আরেকটি দুর্ঘটনা! তবে বর্তমান হল প্রশাসনকে কুর্নিশ জানাই। দ্রুততম সময়ে রবীন্দ্র ভবনের কাজ শেষ হচ্ছে। আশা রাখি খুব শীঘ্রই হল প্রশাসনের নেতৃত্বে জগন্নাথ হলের ছাত্রদের আবাসন সংকট মোকাবিলা করা সম্ভবপর হবে। যে জলজ্যান্ত তিনটি টাইম বোমের ভেতর আমাদের শত-শত ছাত্র বর্তমানে বসবাস করছে, সেখান থেকে সরিয়ে তাদেরকে নতুন ভবনে স্থানান্তর করা এখন সময়ের দাবি। আমরা আরেকটি জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডি চাই না। আমরা আরেকটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস চাই না।
তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের প্রতিবেশী হলগুলোতে (সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, হাজী মুহম্মদ মহসীন হল, সূর্যসেন হল, জহুরুল হক হল, শহিদুল্লাহ হল প্রভৃতি) আবাসনের যে তীব্র সংকট বিরাজমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবসের এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে সেদিকে অঙ্গুলিনির্দেশ করা আমাদের প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব। বিশেষত এসব স্থানে অনেকগুলো ভবনই সত্তর বছরের বেশি পুরনো, এবং সেগুলিকে পুরোপুরিভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী ঘোষণা করে, বিকল্প অবকাঠামো নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন। কেবলমাত্র কোন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটার পরেই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বোধোদয় হওয়ার যে সংস্কৃতি আমাদের চারপাশে আজ চলমান, তা বন্ধে আমাদের প্রত্যেকের এখনই সোচ্চার হওয়া জরুরি।
লেখক: শিক্ষার্থী, জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

