যেকেউ চাইলে অবৈধভাবে হলে থাকতে পারে, আমাদের হাত বাঁধা: হল প্রভোস্ট

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৩, ১২:৩৯

বাংলাদেশে টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) এর হল গুলোতে চরম অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছে। হল গুলোতে প্রায় একশোর বেশি অবৈধভাবে সিট ও রুম জবরদখল ছাড়াও অ্যালোটমেন্ট ছাড়াই অবৈধভাবে অবস্থান করছে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী। হল প্রভোস্টদের তদারকির ও দীর্ঘদিন হলে না আসার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন হলের একাধিক শিক্ষার্থী। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২তম ব্যাচের ০৮ জন এবং ৪৩ তম ব্যাচের প্রায় ৪০ জন, যাদের ছাত্রত্ব ও হলে অবস্থানের মেয়াদ শেষ হলেও অবৈধভাবে সিট দখলসহ পুরো রুম জোর-দখল করে অবস্থান করছে৷ এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪৬ তম ব্যাচের প্রায় ৬৫ জন হলে অবস্থান করছে এদের মধ্যে এলোটমেন্ট নিয়েছে মাত্র ২১ জন, ৪৭ তম ব্যাচের ৫৫ জন অবস্থানকারীর মধ্যে এলোটমেন্ট নিয়েছে মাত্র ১ জন এবং ৪৮ তম ব্যাচের ২৮ জন অবস্থানকারীর কারোই অ্যালোটমেন্ট নাই। একাধিক সূত্রে এ তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জি.এম.এ.জি. ওসমানী হল প্রায় চার শতাধিক শিক্ষার্থী ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন হল। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪তম ব্যাচের ৯১ জন, ৪৫তম ব্যাচের ১০১ জন,  ৪৬তম ব্যাচের ৪৩ জন ও ৪৭ তম ব্যাচের ২ জন ছাড়া বাকিরা অবৈধভাবে বিনা অ্যালোটমেন্টে হলে অবস্থান করছে। এছাড়াও ৪৮তম ব্যাচের প্রায় ৩০ জন অবস্থানকারীর কেউ অ্যালোটমেন্ট নেয়নি।

ছাত্রত্ব শেষ এমন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪২ এবং ৪৩তম ব্যাচের প্রায় পঞ্চাশের বেশি সিট ও রুম দখল করে হলে অবস্থান করছে। 

এ সম্পর্কে সৈয়দ নজরুল ইসলাম হল প্রভোস্ট ড. আহমেদ জালাল উদ্দিনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, 'চাইলে যে কেউ নেতাদের ধরে অবৈধভাবে থাকতে পারো। তাছাড়া আমি এখন হলের দায়িত্ব থেকে অব্যহতি নিয়েছি। ২০ (অক্টোবর) তারিখের পর নতুন হল প্রভোস্ট আসবে তার কাছে তোমাদের সমস্যা গুলো বলতে পারো।' 

হলে অবস্থানকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্রদের একাংশ জানায়, আমাদের অনেকের সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে অন্য হলে যার ফলে আমাদের বৈধভাবে অ্যালোট নিয়ে হলে থাকার সুযোগ হচ্ছে না। অন্য হলে সিট বরাদ্দ নিতে অনীহা কেনো, এ প্রশ্নের জবাবে বলেন আমাদের এলাকার সিনিয়ররা এই হলগুলোতে অবস্থান করছে দেখেই প্রথাগত নিয়মে আমরা এই হলে থাকতে চাই।

এই নিয়ে ওসমানী হলের প্রভোস্ট ড. সামিউল ইসলাম বলেন, 'হলে সব সময় হল সংযুক্তি দেখে অ্যালোটমেন্ট দেওয়া হলেও অনেকে আছে যারা এই হলে সংযুক্ত না। মূলত তাদের বের করতে না পারার কারণে আমরা সংযুক্ত দের অ্যালোটমেন্ট দিতে পারছিনা।'

ছাত্রত্ব শেষ ও যারা সংযুক্ত নই তাদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, 'আমাদের যে কাজ দেওয়া শুধু সেটাই করতে পারি। ডীন, ডিপার্টমেন্ট হেড দের মিটিং মোতাবেক যারা যে হলে সংযুক্ত শুধু তারাই সে হলে থাকতে পারবে। এরপরও আমাকে অন্য হলে সংযুক্তদের এই হলে এলোটমেন্ট দিতে চাপ দিলে আমার করার কিছুই নেই । আমাদের হাত এখানেই বাঁধা। আর চাপ টা কে দেই সেটা তুমিও (সাংবাদিক) জানো আমিও জানি। যার কারনে এর আগে অবৈধদের বের করতে পারলেও এখন সেটা পারছি না।' 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৪৬ তম ব্যাচের এক হলে সংযুক্ত শিক্ষার্থীকে অপর হলে অবৈধভাবে অবস্থানের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, 'মূলত হলগুলোতে সিনিয়ররা জোন ভিত্তিক উঠিয়ে থাকে। যার কারনে আমাদের জোনের বাইরে অন্য হলে গিয়ে থাকার সুযোগ নেই। আবার অন্য হল থেকে এই হলে সংযুক্তি দিতেও হল প্রভোস্ট অস্বীকৃতি জানিয়েছে।'

সংযুক্ত হলে অবস্থান করার পরও অ্যালোটমেন্ট না নেওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে আরও কিছু শিক্ষার্থী বলেন, 'আমরা এর আগে অ্যালোটমেন্ট নিয়েছিলাম। কর্তৃপক্ষ রুম বরাদ্দ দিতে না পারায় টাকা ফেরত দিয়েছিল এরপর আর নেওয়া হয়নি৷ হয়তো সকলেই সেমিস্টার ক্লিয়ারেন্সের সময় নিয়ে ফেলবে।'

৪৭ তম ব্যাচের রাকিব নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, 'আমরা অবৈধভাবে হলে অবস্থানে ইচ্ছুক নয়। আমাদের জোনের ভাইয়েরা যে হলে অবস্থান করে তার বাইরে গেলে আর হলেই ওঠা হবে না।' 

উল্লেখ্য, গত প্রায় ৮ মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের জি.এম.এ.জি ওসমানী, সৈয়র নজরুল ইসলাম ও শহীদ আজিজ হলের সকল প্রধান ও সহকারী হল প্রভোস্ট (১৫জন) একসাথে ব্যাক্তিগত কারণ দেখিয়ে উপাচার্য বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন। সে সময়ে উপাচার্য পদত্যাগের আবেদন গ্রহণ করেননি।

ইত্তেফাক/এআই