ডিলারদের কারসাজিতে মিলছে না সার, খুচরা বিক্রেতাদের ক্ষোভ

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৩, ২২:৫৪

দেশীয় জাতের বাঙলা ডিএপি ও পতেঙ্গা টিএসপি সার আমদানি এবং বিপননে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে গুরুদাসপুরের বিসিআইসি এবং বিএডিসি ডিলারদের বিরুদ্ধে। বরাদ্দ থাকা স্বত্তেও দীর্ঘদিন ধরে ডিলাররা এই দুই জাতের সার নিয়ে খুচরা ডিলারদের সঙ্গে কারসাজি করছেন।

ডিলারদের এসব অনিয়ম তুলে ধরে মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) সাংবাদিক সম্মেলন করেছে গুরুদাসপুরের কার্ডধারী খুচরা সার ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। এ সময় উপজেলা, পৌর এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের খুচরা সার ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।


 
উপজেলা খুচরা সার ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, প্রায় বছরখানেক হলো তারা কার্ডের মাধ্যমে সার উত্তোলন করছেন। তবে এই দীর্ঘ সময়ে দেশে উৎপাদিত বাঙলা ডিএপি ও পতেঙ্গা টিএসপি সার তাদের কাছে সরবরাহ করা হয়নি। কাগজে কলমে প্রতি মাসে বরাদ্দ তাকলেও নানা অজুহাতে বিসিআইসি এবং বিএডিসি ডিলারেরা প্রভাবখাটিয়ে আমদানি বন্ধ রেখেছিলেন।
 
পৌর খুচরা সার ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি সাইম সরদার বলেন, খুচরা ডিলারদের পক্ষ থেকে বার বার আগ্রহ দেখালেও বিসিআইসি এবং বিএডিসি ডিলারেরা সার দুটি আমদানি করেননি। গত মাসে দৈনিক ইত্তেফাকে সার নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর এই দুইটি সার আমদানি করেছেন বিসিআইসি এবং বিএডিসি ডিলারেরা। ১৬ অক্টোবর খুচরা ডিলারদের কাছে এই দুইটি সার সরবরাহ করার কথা ছিল। কিন্তু বিসিআইসি এবং বিএডিসি ডিলারেরা মজুত থাকা সত্ত্বেও খুচরা ডিলারদের কাছে সার সরবরাহ করেননি।

স্থানীয় কৃষি অফিস বলছে, গুরুদাসপুরে ১০জন বিসিআইসি, ১০জন বিএডিসি সার ডিলার রয়েছেন। এছাড়া গুরুদাসপুরের একটি পৌরসভা এবং ছয় ইউনিয়ন পর্যায়ে ৬১ জন খুচরা ডিলার আছেন। নিয়ম অনুযায়ী বিসিআইসি এবং বিএডিসি সার ডিলারেরা প্রতিমাসে বরাদ্দমতো ইউরিয়া, পটাস, ড্যাপ, ডিএপি ও টিএসপি সার আমদানি করার কথা। এর মধ্যে দেশীয় জাতের বাঙলা ডিএপি ও পতেঙ্গা টিএসপি সার আমদানিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হিসাব মতে, আমাদানি করা মোট সারের অর্ধেক খুচরা ডিলারদের মাধ্যমে গ্রামীণ পর্যায়ে এবং বিসিআইসি ও বিএডিসি ডিলারদের মাধ্যমে বাজার এলাকার কৃষকদের কাছে সরাসরি বিক্রির কথা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ইস্যুকৃত ডিলারদের নামের বরাদ্দ তালিকায় দেখা গেছে,  চলতি অক্টোবর মাসে বিসিআইসি ডিলারদের অনুকুলে পতেঙ্গা টিএসপি সার ৩৬ মেট্টিকটন এবং বাঙলা ডিএপি ১৮২ মেট্টিক টন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু চলতি মাসের এবং আগের মাসের বরাদ্দকৃত সার এখন পর্যন্ত খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করা হয়নি।

উপজেলা খুচরা সার ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দু সাঈদ, পৌরর সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম এবং খুবজিপুর ইউনিয়নের সভাপতি নজরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশে উৎপাদিত অধিক কার্যকরী সার না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। ডিলারদের কাছে এই দুই জাতের সার না পাওয়ায় সরকার নির্ধারিত ১হাজার ৩৫০ টাকা বস্তার পতেঙ্গা টিএসপি এবং ১ হাজার ৫০ টাকা দামের সার উচ্চ মূল্যে কিনছেন কৃষকেরা।   
                                                                                                                                                                           
খুচরা ডিলারদের ভাষ্যমতে, ইউরিয়া, পটাস, ড্যাপ, ডিএপি ও টিএসপি সার বিসিআইসি, বিএডিসি এবং খুচরা ডিলারদের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে সরকারি বরাদ্দ মতো দেশে উৎপাদিত বাঙলা ডিএপি ও পতেঙ্গা টিএসপি সার দীর্ঘদিন ধরে আমদানি করা হয় না। দেশে উৎপাদিত এই সারের পরিবর্তে মরক্ক এবং বুলগেরিয়া থেকে আমদানি করা ডিএপি ও টিএসপি সার বিক্রি করা হচ্ছে।

নাটোর জেলা বিসিআইসি ডিলার সমিতির সহসভাপতি আব্দুল মজিদ ইত্তেফাককে বলেন, খুচরা ডিলারদের অভিযোগ ভিত্তিহীন। মূলত তারা সরকারি রেজুলেশন মোতাবেক সার সরবরাহ করছেন। সার নিয়ে কারসাজির কোনো সুযোগ নেই।

গুরুদাসপুর কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হারুনর রশিদ ইত্তেফাককে বলেন, সার মজুত রেখে সরবরাহ না করার সুযোগ নেই। খোঁজ নিয়ে ডিলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/পিও