রাবি ছাত্রলীগের নতুক কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, পদ বঞ্চিতদের ভাঙচুর

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৩, ১৭:৪৯

৭ বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (২১ অক্টোবর) রাতে দলীয় ওয়েবসাইটে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। 

বিজ্ঞপ্তিতে আগামী এক বছরের জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ৩৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে মোস্তাফিজুর রহমান বাবুকে সভাপতি এবং আসাদুল্লাহ হিল গালিবকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।


 
নতুন কমিটির ২০ জন সহসভাপতি হলেন মো. মেজবাহুল ইসলাম, শাহিনুল ইসলাম সরকার ডন, জাকিরুল ইসলাম জ্যাক, মো. মঈনউদ্দিন রাহাত, মো. মেহেদী হাসান মিশু, মেহেদী হাসান তায়েব, মো. মামুন শেখ, মোঃ নূর সালাম, আলতাফ সায়েম জেমস, আশিকুর রহমান আশিক, তাওহীদুল ইসলাম দুর্জয়, আল আমিন মো. তানভীর, তামান্না আক্তার তন্বী, আবুল বাশার আহম্মেদ, জান্নাতুল নাঈমা আকন্দ জানা, সামিউল আলম সোহাগ, মো. মোমিন ইসলাম, শাখাওয়াত হোসেন শাকিল, মো. জুয়েল হোসেন এবং মনু চন্দ্র মোহন দেব বর্মন। 

৮ জন যুগ্ম-সম্পাদক হলেন ভাস্কর সাহা, মো. নাঈম আলী, নিয়াজ মোর্শেদ, মো. আশিকুর রহমান অপু, আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বদেশ, তাজরিন আহমেদ মেধা, সাদেকুল ইসলাম সাদিক এবং মো. শামীম হোসেন। 

৯ জন সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন মো. কাব্বিরুজ্জামান রুহুল, আল মুক্তাদির তরঙ্গ, প্রিয়াংকা সেন মৌ, ইমরান হোসেন, বুলবুল জোয়ার্দার, মো. জুবায়ের হাসান, নাশরাত আর্শিয়ানা ঐশী, জাহিদ হাসান সোহাগ এবং মো. কাইয়ুম মিয়া।

এ দিকে কমিটির খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের আগেই বিবাহিত, ড্রপ আউট, অছাত্র ও টাকার বিনিময়ে কমিটি গঠনের অভিযোগ এনে বিক্ষুব্ধ ও পদবঞ্চিত নেতারা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির কতিপয় শীর্ষ নেতাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন। 

এ ছাড়া নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ হিল গালিবের কক্ষও ভাঙচুর করেছে পদবঞ্চিত নেতারা। এ সময় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দলীয় টেন্টে অবস্থান নিয়ে নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন  স্লোগান দিয়েছে পদ বঞ্চিত নেতারা। 

তাদের অভিযোগ, নতুন কমিটির সিংহভাগই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করেছেন অনেক আগেই। ছাত্রত্ব টিকিয়ে রাখতে সান্ধ্যকালীন ও শর্ট টাইম কোর্স করছেন। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে জাল সনদে ভর্তি, ড্রপআউট, মাদক ব্যবসাসহ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ারও।
 
এ ছাড়া নতুন কমিটি ঘোষণার পর সাধারণ সম্পাদক গালিবের এক সমর্থককে বিক্ষুব্ধ ও পদবঞ্চিত কয়েকজন মিলে মারধর করেছে এবং একটি মোটরসাইকেল ভা‌ঙচুর করা হয়েছে। এ নিয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
 
এ বিষয়ে বর্তমান কমিটির সহসভাপতি শাহিনুল ইসলাম সরকার ডন বলেন, ইন্টার পাশ ছেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিবে আমরা তা মানি না। যে ছেলেটা সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর ক্যাম্পাসে রাজনীতি শুরু করেছে তাকে আমরা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে মেনে নিতে পারি না। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো বিবাহিত ছেলে ছাত্রলীগের নেতা হতে পারে না, অথচ তার সকল তথ্য প্রমাণ থাকা সত্বেও তাকে কেমনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে গালিব গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হয়েছে। আমরা গণমাধ্যমের কাছ থেকে জানতে পেরেছি। আমরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এই নেতৃত্ব মানব না। বিতর্কমুক্ত কমিটি ঘোষণা করতে হবে। অন্যথায় তাদেরকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে দিব না।

বর্তমান কমিটি গঠিত হওয়ার আগে পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও পদ পাননি কাজি আমিনুল হক লিংকন। এ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিবাহিত, সে কেমন করে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসে। ক্যাম্পাসের রাজনীতিতে সে নিস্ক্রিয়। অথচ সে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দায়িত্ব পেয়ে গেছে। টাকার বিনিময়ে বর্তমান কমিটি প্রদান করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে আমরা যোগ্য সম্মান পেলাম না। আমরা এই কমিটি মানি না। এ সময় অন্যদের মধ্যে নবগঠিত কমিটির সহসভাপতি তাওহিদুল ইসলাম দুর্জয়, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মোর্শেদ, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য সাকিবুল হাসান বাকিসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

ভুক্তভোগী ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা জানান, নতুন কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবু বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি জয়পুরহাট সদর উপজেলায়। ২০১৮ সালে অনার্স এবং পরের বছর মাস্টার্স শেষ করে তিনি বর্তমানে ইনস্টিটিউট অব ইংলিশ আদার ল্যাংগুয়েজের একটি শর্ট কোর্সে ভর্তি আছেন। অভিযোগ আছে তিনি দীর্ঘ সময় রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন। সম্মেলন ঘিরে ক্যাম্পাস রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ হিল গালিব আন্তর্জাতিক সম্পর্ক (আইআর) বিভাগে ২০১৪-১৫ সেশনে প্রথম বর্ষে ভর্তি হন। প্রথম বর্ষে কৃতকার্য হয়ে দ্বিতীয় বর্ষে উঠলেও দ্বিতীয় বর্ষ টপকাতে পারেননি তিনি। এক সময় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে একাডেমিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায় তার। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ড্রপআইট হন গালিব। তবে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ পদ পেতে ঢাকার উত্তরার ১৫ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত ‘অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ থেকে বিবিএ পাসের সনদ (রেজিস্ট্রেশন নম্বর-৭৭-০০১৩-১২৪) দেখিয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স কোর্সে ভর্তি হয়েছেন।

জানা যায়, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. কামরান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, গালিব ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেনি। এমনকি ৭৭-০০১৩-১২৪ রেজিস্ট্রেশন নম্বরে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সার্টিফিকেটটি জমা দিয়ে গালিব সাংবাদিকতা বিভাগের সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স কোর্সে ভর্তি হয়েছে সেটি সঠিক নয়। এছাড়াও গালিবের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া কমিটির সহসভাপতি মো. মেজবাহুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ২০১৯ সালে অনার্স এবং পরের বছর মাস্টার্স শেষ করেন। এরপর ছাত্রত্ব ধরে রাখতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংলিশ এন্ড আদার ল্যাংগুয়েজ এর ইংলিশ ভাষা শিক্ষা কোর্সে ভর্তি আছে বলে অভিযোগ আছে। এছাড়া তার পরিবার বিএনপি-জামায়াতপন্থি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে ক্যাস্পাসে প্রচার আছে।

সহ-সভাপতি শাহিনুল ইসলাম সরকার ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগে ভর্তি হন ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে। ২০১৬ সালে অনার্স এবং ২০১৮ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন করে ছাত্রত্ব টিকিয়ে রাখতে ইংলিশ অ্যান্ড আদার ল্যাংগুয়েজের জার্মান ভাষার শর্ট কোর্সে ভর্তি রয়েছেন তিনি।

আরেক সহসভাপতি মেহেদী হাসান মিশুও ড্রপআউট হয়ে ছাত্রত্ব হারিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সিট বাণিজ্য, দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৯ সালে এক শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনে নাফিউল ইসলাম জীবন নামের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সহসভাপতি আলফাত সায়েম জেমস এর নামে হলকক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চুরি, বরাদ্দকৃত সিটে না থাকতে দেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও তার নামে সিট বাণিজ্যেও অভিযোগ রয়েছে।

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী তাওহীদুল ইসলাম দূর্জয়। এই বিভাগ থেকে অনার্স শেষ করেছেন তিনি। কিন্তু ছাত্রত্ব ধরে রাখতে এখনো মাস্টার্স শেষ করেননি। তার বিরুদ্ধে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরোধী রাজনীতি করে সাংগঠনিক দুর্বলতা তৈরির অভিযোগ রয়েছে।

তামান্না আক্তার তন্নী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রকলা প্রাচ্যকলা ও ছাঁপচিত্র বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী। তার মাস্টার্সের পরীক্ষা শেষ হয়েছে ১৮ মাস আগে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়মিত শিক্ষার্থী হওয়ায় তাকে নিজের দখলে রাখা সিট ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ায় কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের রহমতুন্নেসা হলের গেটে তালা মেরে দেন এই ছাত্রলীগ নেত্রীর অনুসারীরা।

আরেক সহসভাপতি মো. মোমিন ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন । তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারীকে পিটিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেয়া এবং হল থেকে বৈধ শিক্ষার্থীকে বের করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর সাহা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। তার বিরুদ্ধে অর্থনীতি বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে রুমে ডেকে গলায় ছুরি ধরে সাথে থাকা আনুমানিক ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সাংবাদিকদের জানাতে চাইলে তাকে রড ও স্ট্যাম্প দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে ওই শিক্ষার্থীর কানের পর্দা ফেটে যায়। এরপরও এই বিষয়টি কাউকে জানালে আবরারের যে অবস্থা হয়েছে সেই অবস্থা হবে বলে হুমকি দেয়া হয়।

আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাইম আলীর বিরুদ্ধে দলীয় কর্মসূচিতে না যাওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর বিছানাপত্র নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও শিক্ষার্থী কৃষ্ণ রায়কে নির্যাতনের পর মেরে ‘শিবির’ বলে চালিয়ে দেওয়ার হুমকির ঘটনায় তদন্তে এই ছাত্রলীগ নেতার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির সভায় তার ছাত্রত্ব সাময়িক বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

সাংগঠনিক সম্পাদক নাশরাত আর্শিয়ানা ঐশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের ২৮৮ নম্বর কক্ষে থাকতেন। তবে তার নামে ডাবল সিটের কক্ষে একা থাকাসহ রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে হলের নিয়ম-নীতি না মানার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় তার কক্ষে তালা ঝুঁলিয়ে দেয় হল প্রশাসন।

এছাড়া নতুন কমিটির বেশিরভাগই ছাত্রত্ব হারিয়ে এখন সান্ধ্যকালীন কোর্সধারী। সিট বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, শিক্ষার্থী নির্যাতন, দলীয় কোন্দল সহ নানা অভিযোগ রয়েছে তাদের অনেকের বিরুদ্ধে।

প্রসঙ্গত, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ২৬তম বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় গত ১৮ সেপ্টেম্বর। এর আগে গতবছর ২৩ অক্টোবর বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রাবি শাখা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির জন্য জীবনবৃত্তান্ত আহবান করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। প্রায় সপ্তাহ না যেতেই আরেক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১২ নভেম্বর সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করে কেন্দ্রীয় কমিটি। ৫ নভেম্বর পর্যন্ত ছিল পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার শেষ সময়। শীর্ষ দুই পদের জন্য ৯৪ জন প্রার্থী জীবনবৃত্তান্ত জমা দেন। যার মধ্যে সভাপতি পদে ২২ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৭২ জন সিভি জমা দেন। এর আগে ২০১৬ সালের ৮ ডিসেম্বরের ২৫তম সম্মেলনের মাধ্যমে শাখা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে গোলাম কিবরিয়া সভাপতি ও ফয়সাল আহমেদ রুনু সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন। 

ইত্তেফাক/পিও