এবার শ্লীলতাহানি ও বসতভিটা দখলের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৩, ২০:৫৮

চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইবুন্যালের পর এবার নারীর শ্লীলতাহানি ও বসতবাড়ি দখলের অভিযোগে উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরীর বিরুদ্ধে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা করা হয়েছে। 

তারই ইউনিয়নের বাসিন্দা মাহবুবুল আলম (৪৫) নামে এক ব্যক্তি সোমবার (২৩ অক্টোবর) এ মামলাটি দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)কে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে আদেশ দিয়েছেন। উখিয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ফাহমিদা সাত্তারর আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। 

গৃহবধূর শ্লীলতাহানি ও বসত বাড়ি দখলের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয় বলে জানিয়েছেন বাদীর আইনজীবী আবুল কালাম ছিদ্দিকী।

মামলার বাদী মাহবুবুল আলম হলদিয়াপালং ইউনিয়নের পূর্ব মরিচ্যার মিয়াজান ফকিরের ছেলে। 

চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী (৪৫) ছাড়াও মামলায় অভিযুক্ত অন্যরা হলেন ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কবির আহমদের ছেলে করিম উল্লাহ, তার ভাই এহেছান (৩০), মেহের আলীর ছেলে মো. রায়হান (৩৯), ছৈয়দ নুরের ছেলে ইনজিমামুল হক (২৮), ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছালামাত উল্লাহর ছেলে এনায়েত উল্লাহ (৪০) এবং পশ্চিম মরিচ্যার জাগির আহমদের ছেলে জসিম উদ্দিন।

বাদী তার এজাহারে বলেন, মরিচ্যা বাজারে তার বসতবাড়ির পার্শ্বে দীর্ঘদিন ধরে লাকড়ি ও কলার আড়ৎ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তার বসতভিটার জমি ইমরুল কায়েসকে বিক্রির প্রস্তাব দেন। কিন্তু চেয়ারম্যানের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে তাকে প্রতিনিয়ত মেরে ফেলার হুমকি দিতো। তারপরও জমি বিক্রিতে রাজি না হওয়ায় গেল ১৮ এপ্রিল একটি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে তাকে থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয় চেয়ারম্যান। একইদিন সন্ধ্যায় চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস ২০/২৫ লোক নিয়ে সশস্ত্র অবস্থায় বাদীর বসতবাড়ি ও গৃহে হামলা চালায়। এ সময় তার অনুসারীরা প্রায় একলাখ টাকার মালামাল, গৃহপালিত গরু লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় বসতবাড়ি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলায় প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। 

মামলার বাদী মাহবুবুল আলম বলেন, আমার বিরুদ্ধে ঘোড়ার মাংস বিক্রির মিথ্যা অভিযোগ তুলে একটি মামলায় আসামি করা ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। চেয়ারম্যান ইমরুল-ই গোড়াটি জবাই করে আমার ওপর অভিযোগ তুলে দেন। পরে স্বপ্রণোদিত হয়ে আমাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তার আসল উদ্দেশ্য ছিল আমার বসতভিটা দখল করা। জনপ্রতিনিধি হয়ে মানুষের জমি কেড়ে নেওয়ার ঘৃণ্যতম কাজ শুরু করেছেন তিনি। আমি যতদিন কারাগারে ছিলাম ততদিন আমার স্ত্রী সন্তান খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করেছে। আমি এর ন্যায় বিচার প্রার্থনা করছি।

অভিযোগ ও মামলার বিষয়ে জানতে উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। রিং হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তার হোয়াটঅ্যাপে বক্তব্য চেয়ে ভয়েস পাঠানো হয়, তারও কোনো উত্তর করেননি তিনি।

তবে মামলার বিষয়টি জেনে, চেয়ারম্যান ইমরুল তার ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দিয়ে লিখেন-শব-ই কদর এর দিন ঘোড়া জবাই করা মরিচ্যার কসাই মাহাবুর সঙ্গে আজকে আদালত চত্বরে কে কে ছিলো একটু খবর নিন।  

ইত্তেফাক/পিও