বাঁশপাতাল হাসপাতালে একদিন

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৯, ২০:৩৭

 

আমি এখন আছি বাঁশপাতাল হাসপাতালে, যেখানে আমার সামনে আছেন দীর্ঘদিন যাবত এখানে চিকিত্সাধীন চারজন ভদ্রলোক—আবুল, মোখলেস, হিমেল ও মদন। প্রত্যেকেই দাবি করছেন যে, তাঁরা সম্পূর্ণ সুস্থ। এই সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন মুহা. তাজুল ইসলাম

ঠাট্টা :আপনার কী সমস্যা?

আবুল :আমার কোনো সমস্যা নেই। যত সমস্যা ছিল সব আমার প্রেমিকার। তার জন্যই আজ আমি দেবদাস হয়েছি।

ঠাট্টা :তাহলে দেবদাস হওয়াটাই সমস্যা? আমি নিজেও তো প্রেমিকাকে হারিয়ে কিছুদিনের জন্য দেবদাস হয়েছিলাম। এইজন্য আমাকে তো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়নি!

আবুল :দেবদাস হবার জন্য তো আমাকে এখানে আনা হয়নি। আমি শুধু দেবদাস ছবির পরিচালকের কাছে গিয়ে বলেছি যে, আমিই সেই দেবদাস। আমার অনুমতি ছাড়া কোনো চলচ্চিত্র নির্মিত হবে না। কিন্তু সে আমার কোনো কথা না শুনে উল্টো আমাকে ধরে এই হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দিয়েছেন। দেখুন, কী অবিচার!

ঠাট্টা :আসলেই দুঃখজনক। আচ্ছা মোখলেস, আপনি এখানে কেন?

মোখলেস :আমার স্ত্রী সম্পত্তির লোভে আমাকে পাগল সাজিয়ে এখানে ভর্তি করিয়ে দিয়েছে। বিশ্বাস করুন, আমি একদম সুস্থ, মোটেও পাগল না।

ঠাট্টা :আপনার স্ত্রীর নাম কী? কোথায় থাকে সে?

মোখলেস :সেটা তো জানি না যে, আমার স্ত্রী কে? কিংবা কী তার পরিচয়! আসলে আমি তো বিয়েই করিনি। বিয়ে না করেও আমার স্ত্রী যেখানে সকল সম্পত্তির লোভে আমাকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে, সেখানে বিয়ে করলে কী করত, নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন!

ঠাট্টা :হিমেল, কী কারণে আপনি বাঁশপাতাল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন?

হিমেল :এটা সরকারি দলের ষড়যন্ত্র।

ঠাট্টা :আপনি তাহলে রাজনীতিবিদ? কোন দলের সমর্থন করেন?

হিমেল :সেটা তো মনে পড়ছে না, আমি কোন দলের সমর্থক। বয়স হয়েছে তো, তাই কিছুই মনে রাখতে পারি না। আচ্ছা, বর্তমানে বিরোধী দলে আছে কারা, তা বলতে পারবেন কী?

ঠাট্টা :জি-না ভাই! আসলে আমি কেন, বিরোধী দলের মধ্যে কেউ কেউ নিজেরাই জানে না যে, তারা আসলে সরকারি দল নাকি বিরোধী দল। যাই হোক, মদন, আপনাকে এখানে রাখার কারণ কী?

মদন :আমি তিনজনের সাথে একটু ঝগড়া বাঁধিয়ে ছিলাম।

ঠাট্টা :ঝগড়ার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এটা প্রথম শুনলাম। ঝগড়া কী খুব বেশি হয়েছিল?

মদন :খুব বেশি একটা ঝগড়া হয়নি। ওরা কেউ আমার কথা বিশ্বাস না করে হেসেছিল তাই আমি শুধু প্রথমজনকে আস্তে ঘুষি মেরে দুইটা দাঁত ফেলে দিয়েছিলাম, একজনের মাথা ফাটিয়েছিলাম আর আরেকজনের পা ভেঙে ছিলাম।

ঠাট্টা :তাহলে তো আপনাকে পুলিশে দেওয়া উচিত ছিল।

মদন :কী, এত বড় কথা! আপনার আমার সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই! আমি হলাম উগান্ডার রানিং প্রেসিডেন্ট। যদি ভালো মানুষ হন তবে উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বাদ দিয়ে আমাকে এখান থেকে বের করার ব্যবস্থা করেন। প্রয়োজনে আপনাকে উগান্ডায় নিয়ে যেয়ে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা জানানো হবে। এখানে বসে আবার কোনো দেশের প্রেসিডেন্ট বা প্রাইম মিনিস্টারের সাথে মিটিং করা যায় না। মহা সমস্যায় আছি। হেল্প মি প্লিজ!