বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

সুনীল সমুদ্রের সৈকতজুড়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৩, ১২:১৩

মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর বাঙালি আরেকটি যুদ্ধে জয়লাভ করেছে। ১৯৭১-এর বিজয় অর্জিত হয়েছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। পরবর্তীতে ২০১২ সালে আরেকটি বিজয় অর্জিত হয়। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা, সফল রাষ্ট্রনায়ক জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ পথে সমুদ্র আইন সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের রায়ের মাধ্যমে। সমগ্র বাঙালি জাতি এই অভূতপূর্ব সাফল্যে গর্বিত, আনন্দে উদ্বেলিত। জাতির জন্য অনন্য এই সাফল্য বয়ে আনার জন্য বাঙালি জাতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মুক্তিযুদ্ধের আবেগে ও গৌরবে অভিনন্দন জানায়। এটি দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ সমুদ্র সীমানার স্থায়ী সমাধান, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে অনন্য একটি অধ্যায়। প্রথমত, এ বিজয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিজয়, তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার বিজয়, এ বিজয় ধর্ম-বর্ণ, দল-মত নির্বিশেষে বাংলাদেশের সব মানুষের বিজয়।

১৯৭১ সালে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গকিলোমিটার সবুজ-শ্যামল ভূখণ্ডের ওপর আমাদের সার্বভৌমত্ব অর্জিত হয়েছিল। স্বাধীনতার ৪১ বছর পর এবার বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের প্রায় সমপরিমাণ ১ লাখ ৩১ হাজার ৯৮ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রবক্ষের ওপর আমাদের সার্বভৌমত্ব অর্জিত হলো। 

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর  অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে দেশ সমুদ্রকে  যত বেশি ব্যবহার করতে পেরেছে সে দেশ অর্থনীতিতে তত বেশি সমৃদ্ধশালী হয়েছে। ভূকেন্দ্রিক উন্নয়নের পাশাপাশি সমুদ্রভিত্তিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড উপকূলীয় দেশসমূহের জন্য অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। স্বাধীনতার মাত্র তিন বছরের মধ্যে ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বপ্রথম বাংলাদেশের  জাতীয়  সংসদে 'The Territorial Water and Maritime Zones Act' আইন পাস করেন। ওই আইনে বঙ্গোপসাগরের ১২ নটিক্যাল মাইল আঞ্চলিক সমুদ্র অঞ্চল, ২০০ নটিক্যাল মাইল অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং এর বাহিরে মহীসোপান অঞ্চল দাবি করা হয়। এ আইন পাসের পর থেকেই প্রতিবেশী রাষ্ট্র  মিয়ানমার ও ভারতের সাথে সমুদ্রসীমা নির্ধারণে আলোচনা শুরু হয়। ২০০৯ সালের জুলাই এবং ২০১০ সালের জানুয়ারি ও মার্চ মাসে মিয়ানমারের সাথে তিনবার বৈঠক করেও বাংলাদেশ কোনো সমঝোতায় পৌঁছতে পারেনি। ২০০৯ সালের মার্চ ও ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে ভারতের সাথেও সমুদ্রসীমা নিয়ে দুই দফা বৈঠক হয়। কোনো স্থায়ী সমাধান  ছাড়াই বাংলাদেশের দাবিগুলো উপেক্ষিত হয়। বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরের অন্যান্য ভৌগোলিক ও ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যগুলোকে আমলে নিয়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতেই সমুদ্রসীমা নির্ধারণের দাবি জানায়। অন্যদিকে মিয়ানমার ও ভারত সমদূরত্বের ভিত্তিতে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের পক্ষে মত দেয়। 

জাতিসংঘ কর্তৃক যে সমুদ্র আইন The United Nation Convention for Law of the Sea ( UNCLOS) প্রণীত হয়েছে তা ১৯৫৮ সালে UNCLOS -1 হিসেবে প্রথম গৃহীত হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৬০ সালে UNCLOS-2 হিসেবে দ্বিতীয়বার এবং ১৯৭৩ সালে UNCLOS -3, যা ১৯৮২ সাল  পর্যন্ত অব্যাহত থাকে ও চূড়ান্ত হয়। UNCLOS-3 জাতিসংঘ সমুদ্র আইন কনভেনশন  হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সমুদ্রসীমা আইন অনুযায়ী একটি দেশের ১২ নটিক্যাল মাইল আঞ্চলিক সমুদ্র এবং ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলের সবধরনের সম্পদের ওপর একটি দেশের অধিকার থাকে। এর পরও বাংলাদেশকে এড়িয়ে মিয়ানমার ও ভারত সমদূরত্বের ভিত্তিতে রেখা টেনে সমুদ্রসীমার বেশিরভাগ নিজেদের বলে দাবি করে। বাংলাদেশ সরকার  সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য মিয়ানমার ও ভারতের সাথে অনেকবার চেষ্টা করেও আশানুরূপ সাড়া না পেয়ে জাতিসংঘ সমুদ্র আইন (UNCLOS)  ১৯৮২ অনুযায়ী সমুদ্র আইন বিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল  International Tribunal for the Law of the Sea (ITLOS)- এ  ৮ অক্টোবর ২০০৯ সালে দুটি মামলা দায়ের করে। দুটি মামলা আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল (ITLOS) ২০১২ ও ২০১৪ সালে  মামলা  নিষ্পত্তি করে রায় প্রদান করে। যার ফলে দীর্ঘদিনের সমুদ্রসীমা বিরোধের অবসান হয়। ভারতের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ ২৫,৬০২ বর্গকিলোমিটারের মধ্যে বাংলাদেশ পেয়েছে ১৯,৪৬৭  বর্গকিলোমিটার ও ভারত পেয়েছে ৬,১৩৫ বর্গকিলোমিটার।  মিয়ানমারের সাথে বিরোধপূর্ণ এলাকা থেকে বাংলাদেশ পেয়েছে   ১,১১,৬৩১ বর্গকিলোমিটার। সমুদ্রের বিশাল অঞ্চলে বাংলাদেশের এ অধিকার অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে নিঃসন্দেহে। সমুদ্রকে ঘিরে এই অর্থনৈতিক মডেল 'নীল সমুদ্র অর্থনীতি'  (Blue Economy)  বাংলাদেশের জন্য বয়ে আনতে শুরু করছে  বিশাল সম্ভাবনা।

বেইজ লাইন বা ভিত্তি লাইন হিসেবে যেটা ধরা হয় সেটি ভাটার শেষ সীমানা। সমুদ্র সীমানা এই বেইজ লাইন থেকেই নির্ধারণ করা হয়। এই বেইজ লাইন থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল ভেতরের অঞ্চলকে বলা হয় Territorial Sea অর্থাৎ আঞ্চলিক সীমা, উপকূলীয় সীমা বা রাজনৈতিক সীমা। এই Territorial Sea শেষ হওয়ার পরে যদি আরও ১২ নটিক্যাল মাইল অগ্রসর হওয়া যায় সে অঞ্চলটির নাম Contiguous  Zone বা সংলগ্ন অঞ্চল। Baseline থেকে যদি আরও অগ্রসর হওয়া যায় অর্থাৎ, ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত অঞ্চল Exclusive Economic Zone। এই ২০০ নটিক্যাল মাইলের সঙ্গে আরও ১৫০ নটিক্যাল মাইল সংযুক্ত করলে অর্থাৎ বেইজ লাইন থেকে ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত অঞ্চল Continental Shelf। সমুদ্রতীরবর্তী একটি দেশের ৩৫০ মাইল অঞ্চল অর্থাৎ Continental Shelf থাকতে হবে। ২০০ নটিক্যাল মাইলের পর থেকে শুরু হয় High Sea বা মুক্ত সাগর। ৩৫০ নটিক্যাল মাইলের পরের অঞ্চলটি হলো Deep Sea বা গভীর সমুদ্র। ভিত্তি রেখা থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত অঞ্চলের একচ্ছত্র অধিকার উপকূলীয় দেশটির অর্থাৎ আকাশ, পাতাল এবং জলরাশি সবকিছুর মালিক উপকূলীয় দেশ। এখানে বাইরের কোনো জাহাজ ইনোসেন্ট প্যাসেজ নিতে পারবে; কিন্তু জাহাজ থামাতে পারবে না। Exclusive Economic Zone এ উপকূলীয় দেশ মাছ ধরতে পারবে, শুল্ক আহরণ করতে পারবে, কোনো দ্বীপ থাকলে সেটির মালিকানা অর্জন এমনকি কৃত্রিম দ্বীপও নির্মাণ করতে পারবে। তবে পরিবেশ বিপর্যয় হয় এবং সমুদ্র স্রোতের পরিবর্তন হয় এমন কোনো কাজ করা যাবে না। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে অন্য কোনো দেশ অনুমতি ছাড়া সামুদ্রিক পথ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে; কিন্তু কোনো সম্পদ নিতে পারবে না। Continental Shelf (মহীসোপান) অঞ্চলে উপকূলীয় দেশ তেল, গ্যাসসহ অন্যান্য খনিজ সম্পদের অনুসন্ধান করতে পারবে। যদি ৩৫০ নটিক্যাল মাইলের পরও অগভীর সমুদ্র থাকে তাহলে তার সবটুকু পাবে উপকূলীয় দেশ। বাংলাদেশের কন্টিনেন্টাল শেলফ ৩৫০ নটিক্যাল মাইলের পর আরও ৪ নটিক্যাল মাইল বিস্তৃত।

ITLOS তাদের রায়ে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের ন্যায্যতাভিত্তিক সমুদ্রসীমার দাবি সমুন্নত রেখেছেন। এর ফলে বঙ্গোপসাগরে ২০০ নটিক্যাল মাইল অর্থনৈতিক এলাকায় এবং এর বাইরে মহীসোপান এলাকায় বাংলাদেশের নিরঙ্কুশ অধিকারের আইনগত স্বীকৃতি মেলে। এ রায়ের মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরের জলরাশি এবং তলদেশের সম্পদরাজিতে (তেল-গ্যাসসহ সামুদ্রিক সম্পদ) বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাসের জন্য ব্লক ইজারা-জটিলতারও অবসান হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও পরামর্শে বাংলাদেশের পক্ষে যে কয়েকজন মামলাকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন তাদের মধ্যে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও ডেপুটি এজেন্ট অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মোহাম্মদ খুরশেদ আলমের (জাতিসংঘ সমুদ্র আইনের আওতায় পরিচালিত কার্যক্রমে বাংলাদেশের নেতৃত্বে ছিলেন ) নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ রায় উভয় দেশের জন্যই বিজয়। কারণ আন্তর্জাতিক আইনে সমস্যার সমাধান শান্তিপূর্ণভাবে হয়; যে সমস্যাটি  তিন দশক ধরে উভয় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ক্ষতির কারণ হিসেবে চিহ্নিত ছিল।  

সমুদ্রসীমা নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে ২০০৮ সালে বাংলাদেশের সাগরে একবার যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। সেন্টমার্টিনের অদূরে বাংলাদেশের দাবি করা সীমানায় মিয়ানমার তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য রিগ জাহাজ আনে। বাংলাদেশ এর প্রতিবাদ জানালে মিয়ানমার সেখানে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে।  বাংলাদেশও পাল্টা চারটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে সেখানে। তবে ওই সময় উল্লেখযোগ্য কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

তিন দশকের বেশি সময় ধরে বিরোধ নিষ্পত্তিতে ITLOS এর বিচারিক এখতিয়ার মেনে নিতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বিশেষ মতৈক্য হয়। এই ঐতিহাসিক রায় বিশ্বসভায় কেবল বাংলাদেশের অধিকারই প্রতিষ্ঠা করেনি, বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতিকে নতুন মর্যাদার আসনে অভিষিক্ত করে। একটি স্বাধীন সার্বভৌম জাতি হিসেবে সমুদ্রসীমা নিয়ে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বিজয় বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত করে।

পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে চাওয়া-পাওয়ার অনেক বিষয় নিয়েই বিরোধ থাকলেও নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারকাজ দ্বারা যেকোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব, তা এ রায়ে প্রমাণিত হয়েছে। উভয় রায়ে মিয়ানমার ও ভারতের দখল থেকে মুক্ত হয় মোট ১ লাখ ৩১ হাজার ৯৮ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা। ঐতিহাসিক এ অর্জনে সমুদ্রজয়ের পাশাপাশি উভয় দেশের জনগণের সঙ্গেও বন্ধুত্বের বন্ধন সুদৃঢ় হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। জেলেরা নির্দ্বিধায় ও নিঃসংকোচে মাছসহ সব সম্পদ আহরণ ও অবাধে চলাচল করতে পারবে। মৎস্যসম্পদ ছাড়াও রয়েছে গ্যাসের মজুত। দুটি রায়ের ফলে বঙ্গোপসাগরে ২৮টি তেল-গ্যাস ক্ষেত্র বা ব্লক নিয়ে মানচিত্রে আবির্ভূত হলো আরেকটি নতুন ছোট বাংলাদেশ। এখন বাংলাদেশকে আয়তনের দিক থেকে আর ছোট বলার অবকাশ নেই। এ ধরনের বিশাল অর্জন স্বাধীনতার পরে দ্বিতীয়টি আর হয়নি। এ অর্জন ধরে রাখতে প্রয়োজন দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে সবাইকে উন্নয়নে সহযোগিতা করা। তেল-গ্যাস, মাছসহ প্রয়োজনীয় সম্পদ রক্ষা ও এর আহরণে দেশি প্রযুক্তি ব্যবহার করার লক্ষ্যে সৎ ও দক্ষ জনবল অপরিহার্য। খনিজসম্পদ উত্তোলনে বিদেশি নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। তবেই তেল-গ্যাসের অভাবমুক্ত হবে বাংলাদেশ। বছরে ইলিশ মাছ আহরিত হবে প্রায় পাঁচ লাখ টন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য  ২৫ হাজার কোটি টাকা। অন্যান্য মাছের বাজারমূল্য এর চেয়েও অনেক গুণ বেশি। এ ছাড়া রয়েছে প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, শৈবাল, ক্লোরিন, ফ্লোরিন, আয়োডিনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পদার্থ, যা প্রাকৃতিক নিয়মেই উৎপন্ন হতে থাকবে। শুধু আহরণ, প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ ও বিপণন করতে হবে । সামুদ্রিক সম্পদ আহরণ প্রক্রিয়াজাত ও বিপণনের মাধ্যমে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। কারণ এর আগে ২৮টি ব্লকের মধ্যে মিয়ানমারের দাবি ছিল ১৭টি এবং ভারতের ১০টি। বাংলাদেশের মধ্যে ছিল মাত্র একটি এবং অন্য একটির অংশবিশেষ। সমুদ্র বিজয়ের ফলে সব কটিতেই বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১২ সালের ১৪ মার্চ ও ৮ জুলাই ২০১৪-এর সমুদ্র বিজয় অর্জনই শ্রেষ্ঠ অর্জন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবার জন্যই অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে 'সমুদ্র বিজয় দিবস' হিসেবে। ঐতিহাসিক এ অর্জনের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, যা জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে। এটি নিঃসন্দেহে আমাদের গর্বের ও আনন্দের। সমুদ্রজয়ে বাংলাদেশের আয়তন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে কর্মক্ষেত্র ও পরিধি। তেল-গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার ও এর উত্তোলনে প্রয়োজন দেশি-বিদেশি দক্ষ জনবল ও মূল্যবান যন্ত্রপাতি। সমুদ্র সীমানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও উদ্ধারকাজের বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েই ক্রয় করা হয়েছে জার্মানির তৈরি অত্যাধুনিক ডর্নিয়ার ২২৮ এনজি মেরিটাইম প্যাট্রল এয়ারক্রাফট। সমুদ্র সম্পদ দেশি প্রযুক্তিতে সৎ ও দক্ষ জনবল দ্বারা আহরিত হলে দেশের আর্থসামাজিক উন্নতি সাধিত হবে, বেকার সমস্যার সমাধান হবে।  সমুদ্রের তলদেশে সঞ্চিত জলজ প্রাণী ও খনিজসম্পদ আহরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ অচিরেই উন্নত অর্থনীতির দেশে রূপান্তরিত হবে।  সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, শান্তিপূর্ণভাবে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে বহু দিনের বৈরিতার অবসান ঘটেছে  ও অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ লাভবান হয়েছে।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর জননেত্রী শেখ হাসিনা সুদূরপ্রসারী দৃষ্টি নিয়ে বঙ্গোপসাগরে অমীমাংসিত সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেন।  তিনি উপলব্ধি করতে পারেন যে, সমুদ্রসম্পদের ব্যবহার বাংলাদেশে একটি বিকল্প অর্থনীতির নতুন দিগন্ত সূচনা করতে পারে। আর এই বিকল্প অর্থনীতির জন্য প্রয়োজন বিশাল সমুদ্র অঞ্চল। সমুদ্র সম্পদকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি। আর এই দক্ষ জনশক্তি তৈরির উপলব্ধি থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অভিপ্রায়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পর বিশেষায়িত মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ২০১৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় যেমন-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগ খোলা হয়। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তার কার্যালয়ে 'সমুদ্র সম্পদ আহরণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সমন্বয় কমিটি' গঠন করা হয়। ১৯৯৬ সালে দেশের দায়িত্বভার গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে একটি স্বনির্ভর সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারি প্রকল্প হাতে নেন এবং বিশেষায়িত সমুদ্র গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ২০১৫ সালে কক্সবাজারে বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ জরিপ এবং গবেষণার জন্য 'আর ভি মীন সন্ধানী' নামে একটি জাহাজ । প্রায় সাড়ে ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১২৪ ফুট লম্বা জাহাজটি বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদের গবেষণার জন্য এক আশীর্বাদস্বরূপ। কারণ এই জাহাজের উদ্বোধনের আগে প্রায় ১৭ বছর কোনো জরিপ ও গবেষণা ছাড়াই শুধু অনুমানের ভিত্তিতে চলছিল বাংলাদেশের সামুদ্রিক মৎস্য আহরণের কাজ। ২০১৭ সালে তার নির্দেশে গঠন করা হয় ব্লু-ইকোনমি সেল। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমুদ্র সম্পদ নিয়ে গভীর চিন্তা এবং উপলব্ধির প্রকাশ পাওয়া যায় ২০১৮ সালের বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের মধ্যে, যার ৩.২২ অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের সুনীল অর্থনীতি সম্প্রসারণে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সমুদ্র অর্থনীতির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বসহকারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১-এ বাংলাদেশের সুনীল অর্থনীতির জন্য বিভিন্ন কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। সমুদ্র সম্পদের বহুমাত্রিক জরিপ সম্পন্ন করা, উপকূলীয় অঞ্চলে জাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধি, অগভীর এবং গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার কার্যক্রম জোরদার করা, ইকোট্যুরিজম চালু করা এবং সমুদ্রের পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখার কৌশলগুলো বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ সালে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১২তম একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সমুদ্র সম্পদকে কাজে লাগানোর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা শুধু সমুদ্র সম্পদ আহরণের বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বাংলাদেশের সমুদ্র সম্পদ সংরক্ষণের বিষয়েও তার ভূমিকা অতুলনীয়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষার উদ্দেশ্যে ২০১৪ সালে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের ১৬৩৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা, ২০১৯ সালে নিঝুম দ্বীপসংলগ্ন ৩১৮৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা এবং ২০২২ সালে সেন্টমার্টিন দ্বীপসংলগ্ন ১৭৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা বাংলাদেশের সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ তথা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতেও বর্তমান সরকারের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য মতে বর্তমানে বাংলাদেশের মোট মাছের উৎপাদনের প্রায় ১২.২১ শতাংশ হলো ইলিশ এবং এটি জিডিপিতে বছরে এক শতাংশ অবদান রাখছে। সরকার কর্তৃক বিভিন্ন পদক্ষেপের জন্য গত এক দশকের মধ্যে ইলিশের উৎপাদন প্রায় ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যার সমুদ্র অর্থনীতি নিয়ে দূরদর্শিতার আরও অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বঙ্গবন্ধুকন্যা সমুদ্র বিজয় করে থেমে থাকেননি, তিনি সমুদ্র অর্থনীতির সুফল পাওয়াকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে পায়রা সমুদ্রবন্দর, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপন করেন, যেটি সমুদ্র অর্থনীতি তথা দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে অসামান্য অবদান রাখা শুরু করেছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা সমুদ্র অর্থনীতি বিষয়ক দূরদৃষ্টির আরও অনেক নজির রেখেছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চলে ইকোনমিক জোন স্থাপন যেমন-সীতাকুণ্ড ইকোনমিক জোন, সাবরাং ইকোনমিক জোন ইত্যাদি। বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে আধুনিকায়ন করা ছাড়াও সম্প্রতি জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উপকূল দূরবর্তী দ্বীপে সাবমেরিন কেবল ও দ্বীপের মাঝে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে উপকূলের মানুষদের জীবনমান তথা সমুদ্র অর্থনীতির অগ্রযাত্রাকে বেগবান করে যাচ্ছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বে-টার্মিনাল, বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্মাণের মাধ্যমে আমরা তার দূরদর্শিতা ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে তার সুদৃঢ় ও বলিষ্ঠ চিন্তার প্রতিফলন দেখতে পাই। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বর্তমান সরকারের গত মেয়াদে সমুদ্রসীমা বিজয়ের মাধ্যমে সমুদ্র অর্থনীতিতে বা ব্লু- ইকোনমিতে বিনিয়োগের নতুন দিগন্তে পৌঁছে গিয়েছে বাংলাদেশ। গভীর সমুদ্রের বিশাল অংশ বাংলাদেশের জলসীমায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক খাতকে আরও বেগবান করতে চলতি বছরের মধ্যেই সমুদ্র অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করতে চায় সরকার। এই লক্ষ্য পূরণে সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের জলসীমায় সাগরের নিচে নতুন অর্থনীতির দ্বার উন্মোচন হয়েছে। সাগরের তলদেশ ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারলে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ অর্জিত হবে সমুদ্র অর্থনীতি থেকে।গভীর সমুদ্রে অন্তর্ভুক্ত হওয়া জায়গার পরিমাণ দেশের স্থলভাগের প্রায় ৮১ শতাংশ। এখানে রয়েছে ছোট-বড় মিলিয়ে ৭৫টির মতো দ্বীপ। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, এগুলোকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ প্রয়োজন। বঙ্গোপসাগরের তলদেশে তেল, গ্যাস বা খনিজসম্পদই শুধু নয়,  গভীর সমুদ্রের ন্যায্য অধিকার পাওয়ায় মৎস্য আহরণের বিপুল সম্ভাবনাও দেখছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে, এ অঞ্চলের টুনা মাছ সারাবিশ্বে খুবই জনপ্রিয়। টুনা মাছের বিচরণ গভীর সমুদ্রে। বাংলাদেশের ফিশিং ট্রলার এখন গভীর সমুদ্রে টুনাসহ অন্যান্য মাছ ধরার সুযোগ পাচ্ছে।জানা যায়, বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ সীমানার অন্তত ১৩টি স্থানে রয়েছে সোনার চেয়েও মূল্যবান বালু, ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম। যাতে মিশে আছে ইলমেনাইট, গার্নেট, সিলিমেনাইট, জিরকন, রুটাইল ও ম্যাগনেটাইট। অগভীরে জমে আছে ক্লে, যা দিয়ে তৈরি হয় সিমেন্ট। ধারণা করা হচ্ছে, এর পরিমাণ হিমালয়কেও হার মানাবে। সম্প্রতি বিশ্ববিখ্যাত তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকারী মার্কিন কোম্পানি এক্সন মোবিল বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে সোয়া তিন লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশকে। বঙ্গোপসাগরের অফুরন্ত সম্পদ কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে আহরণ সম্ভব হলে ১০ বছরের মাথায় বাংলাদেশের অর্থনীতি অভাবনীয় উচ্চতায় পৌঁছাবে।

বঙ্গবন্ধুর উন্নয়ন দর্শন ও সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন শেখ হাসিনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুর সারা জীবনের চিন্তা ও স্বপ্ন ছিল বাংলার মানুষের অন্ন, বস্ত্র ,বাসস্থানের সংস্থান এবং তাদের কষ্ট দূর করা। শেখ হাসিনা জাতির পিতার সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করছেন। বঙ্গবন্ধু যেমন ছিলেন একজন দূরদর্শী, দেশপ্রেমিক ও গণমানুষের নেতা, মানুষের জন্য কাজ করার লক্ষ্যে আমৃত্যু লড়াই -সংগ্রাম করেছেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাও জনগণের জন্য  নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের মানুষের কল্যাণ সব সময় তার চিন্তা-চেতনায়। জননেত্রী শেখ হাসিনা জলে, স্থলে এবং অন্তরীক্ষে বাংলাদেশের গণমানুষের জন্য অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক কল্যাণকর ও জনহিতকর প্রকল্প গ্রহণ করে জনমানুষের সেবায় সর্বদাই  নিয়োজিত ।  

বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে বিশ্বের বিস্ময়। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ায় বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্র ও সুনীল অর্থনীতি নিশ্চিতভাবেই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে, যার সূচনা হয়েছিল বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই। সমুদ্র বিজয়ের সুফলসহ দেশের চলমান উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে দেশপ্রেমিক জনগণ শেখ হাসিনাকে আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখতে চায়। বাংলাদেশের স্বপ্ন ও আশার আলোকিত বাতিঘর বঙ্গবন্ধুর রক্ত ও আদর্শর সুযোগ্য উত্তরাধিকার জননেত্রী শেখ হাসিনা। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় শেখ হাসিনা। 


লেখক: ড. আব্দুল ওয়াদুদ, ফিকামলি তত্ত্বের জনক, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক, প্রেসিডিয়াম সদস্য-বঙ্গবন্ধু পরিষদ, প্রধান পৃষ্ঠপোষক- বাংলাদেশ মনোবিজ্ঞান সমিতি।

ইত্তেফাক/এআই