শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

বঙ্গবন্ধুর কৃষি দর্শন থেকে শেখ হাসিনার স্মার্ট কৃষি

আপডেট : ০৬ মে ২০২৪, ১৫:৪৮

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন কৃষি অন্তপ্রাণ ও কৃষিবান্ধব। তাই, যুদ্ধবিদ্ধস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করতে গিয়ে তিনি উপলব্ধি করেছিলেন কৃষি উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। তিনি কৃষি বিপ্লব তথা সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, গতানুগতিক কৃষি ব্যবস্থা দ্বারা বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যের যোগান নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য তিনি কৃষির আধুনিকায়নে মনোনিবেশ করেন।

বঙ্গবন্ধু তার স্বল্পকালীন শাসনামলে এ দেশের কৃষক ও কৃষির উন্নয়নে যে সব পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেটের ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে ১০১ কোটি টাকা কৃষি উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ, ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ, কৃষকদের জন্য সুদমুক্ত ঋণের প্রবর্তন, স্বাধীনতা পরবর্তীতে ২২ লাখ কৃষকের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ, ১৯৭২ সালে কৃষকদের মাঝে ধান, গম ও পাটবীজ বিতরণ, বৃক্ষ রোপণ অভিযান চালুকরণ, কৃষিতে ভর্তুকির ব্যবস্থা গ্রহণ, সার, কীটনাশক ও সেচযন্ত্র সরবরাহ এবং গ্রামভিত্তিক সবুজ বিপ্লবের কর্মসূচি গ্রহণ ইত্যাদি।

জাতির পিতা অনুভব করেছিলেন কৃষি গবেষণা ও কৃষি প্রযুক্তির প্রসার ছাড়া কৃষি উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই মহান স্বাধীনতা অর্জনের পরপরই কৃষির উৎপাদনশীলতা, গবেষণা ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণে গতিশীলতা আনয়নের জন্য কৃষি ও কৃষির বিভিন্ন উপখাত সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিষ্ঠান তৈরি ও পুনর্গঠন করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। পুনর্গঠন করেন হর্টিকালচার বোর্ড। প্রতিষ্ঠা করা হয় পাট মন্ত্রণালয় এবং ১৯৭৪ সালে অ্যাক্টের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইন্সটিটিউট। ১৯৭৩ সালের রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ বলে কৃষি গবেষণার উন্নয়ন ও সমন্বিত কার্যক্রমের সুযোগ তৈরি করা হয় এবং পুনর্গঠন করা হয় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট। রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ বলে ১৯৭৩ সালে কৃষি গবেষণা সমন্বয়, গবেষণা পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নের জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল। পুনর্গঠন করা হয় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট। বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব নিউক্লিয়ার এগ্রিকালচার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়। এ সকল উদ্যোগ সে সময় কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়। ফলে স্বাধীনতা অর্জনের মাত্র তিন বছরের মাথায় ১৯৭৪ সালে কৃষিতে প্রবৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ শতাংশ এবং ১৯৭৫ সালে শস্য উৎপাদন ৮৭ লাখ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ২৩ লাখ মেট্রিক টনে। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের ফলে সে সময় ধানের উৎপাদনশীলতা হয়েছিল দ্বিগুণ।

বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথে তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে খাদ্য ঘাটতির দেশ আজ খাদ্য উদ্বৃত্ত দেশে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ আজ কৃষি উন্নয়নে বিশ্বপরিমন্ডলে এক রোল মডেল। সরকারের কৃষিবান্ধব নীতি, অব্যাহত প্রণোদনা বাংলাদেশের কৃষি খাতকে নিয়ে গিয়েছে এক অনন্য উচ্চতায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্মার্ট হচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি। কৃষিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দর্শন ও ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রয়োজনের নিরিখে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, গবেষণাগার তৈরি, গবেষণার কাজে বর্ধিত অর্থ বরাদ্দ দিয়ে যাচ্ছেন। নতুন নতুন জাত, কলাকৌশল মাঠে ছড়িয়ে দিতে কৃষি বিজ্ঞানীরা নিরলসভাবে পরিশ্রম করছেন। কৃষিভিত্তিক শিল্প ও প্রক্রিয়াজাত শিল্পের বিকাশ, উন্নত জাতের ফসল উৎপাদন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন, উন্নত বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা ইত্যাদির মাধ্যমে বাংলাদেশের জীবননির্বাহ কৃষি আজ বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তরিত হয়েছে। সরকারের নানামুখী উন্নয়ন কর্মকাণ্ড যেমন উচ্চ ফলনশীল জাতের উদ্ভাবন এবং সম্প্রসারণ, সেচ ব্যবস্থা উন্নয়ন, সার ও কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ভর্তুকি প্রদান, সহজশর্তে কৃষিঋণ বিতরণ ইত্যাদির জন্য দেশের শস্য নিবিড়তা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

কৃষিতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। এসব প্রযুক্তিগত সুফল সম্প্রতি কৃষিতে জাগরণ সৃষ্টি করেছে। ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত হচ্ছে। বর্তমানে অনলাইন পরিষেবা বাড়ছে। কৃষি প্রধান বাংলাদেশে প্রযুক্তির ছোঁয়া বদলে দিয়েছে কৃষকের জীবন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তথ্যপ্রযুক্তিগত সেবা ‘কৃষি বাতায়ন’ এবং ‘কৃষক বন্ধু কল সেন্টার’ চালু করেছে। বিভিন্ন কৃষি বিষয়ক সেবাগুলোর জন্য কল সেন্টার হিসেবে কাজ করছে ‘কৃষক বন্ধু’ (৩৩৩১ কল সেন্টার)। 'কৃষি বাতায়ন' প্রযুক্তি সেবার মাধ্যমে কৃষকরা এখন তাদের চাষের ফসল সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে পারছেন, বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে নিতে পারছেন পরামর্শ। সরকারের বিভিন্ন কৃষি-সম্পর্কিত সেবাও পেয়ে থাকেন এই অ্যাপস ব্যবহার করে। তাছাড়াও রয়েছে ই-বালাইনাশক প্রেসক্রিপশন, কৃষি বায়োস্কোপ। ফলে কৃষকরা সহজেই ঘরে বসে বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। ‘কৃষকের জানালা’ নামে একটি উদ্ভাবনী অ্যাপসের সহযোগিতায় ফসলের ছবি দেখেই কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তাগণ তাৎক্ষণিকভাবে শস্যের রোগ বালাই শনাক্ত করতে পারেন।

সাজ্জাদুল হাসান। ছবি: সংগৃহীত

এসবের প্রভাবে কৃষি নির্ভর অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। অনেক তরুণ শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা আধুনিক কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। ফলে ডিজিটাল কৃষির বাস্তবায়নে ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের লক্ষ্য পূরণে অন্যতম একটি অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ও ক্লাউড বেজড অটোমেটেড এগ্রিকালচারাল সিস্টেম।

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব নিউক্লিয়ার এগ্রিকালচার ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিশ্রুত স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে ইন্টারনেট অব থিংকস (আইওটি) গবেষণাগারে প্রয়োগ করে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার অন্যতম ভিত্তি স্মার্ট কৃষি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম ভিত্তি স্মার্ট কৃষির বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় আইওটি ব্যবহার করে এগ্রিকালচারাল গ্রোথ মনিটরিং সম্পর্কিত নতুন উদ্ভাবন কৃষি খাতে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কাজ করা জটিল ও সময় সাপেক্ষ বিষয়গুলো অনেক সহজ করে দেবে। এই তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি উন্নত কৃষি পরিচর্যার পাশাপাশি অধিক উৎপাদনশীলতা বিষয়ক তথ্য প্রদান করতে সক্ষম হবে।

স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থাপনায় মাটির তথ্য যেমন: মাটির আর্দ্রতা, তাপমাত্রা, পিএইচ লেভেল, মাটির ইলেকট্রিক্যাল কনডাকটিভিটি, মাটির মাইক্রো ও ম্যাক্রো পুষ্টিমান (যেমন: নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, ফসফরাস, সালফার ইত্যাদি) পরিমাপ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ফসলের স্বাস্থ্য নির্ণয় করা সম্ভব হবে। সেন্সরের মাধ্যমে মাটির স্বাস্থ্য এবং পুষ্টির তথ্য সংগ্রহ করে উন্নত কৃষি প্রযুক্তির সাহায্যে প্রাপ্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে, উপযুক্ত পুষ্টি প্রদান করার জন্য পরামর্শ প্রদান করা সম্ভব হবে। আইওটি সেন্সর এবং স্মার্ট সেন্সরবেজড ক্যামেরা ব্যবহার করে মাটি সম্পর্কিত তথ্য ও স্মার্ট সেচ ব্যবস্থাপনা সিস্টেম ব্যবহার করে কৃষকরা সঠিক সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী পানির প্রবাহ বা সেচ ব্যবস্থাপনা প্রথাগত ম্যানুয়াল সিস্টেম থেকে অটোমেটেড সিস্টেমে রূপান্তরিত করতে পারবে। এসব ব্যবস্থায় কৃষকরা খামার ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সিদ্ধান্ত দ্রুত নিতে পারবে ও খামারের উৎপাদনশীলতা বেড়ে যাবে বহুগুণে।

আগামী দিনের জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্মার্ট কৃষি হতে হবে আরও টেকসই। এ জন্য বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্য ও বিশ্বব্যাপী উদ্ভাবনী জনকে একযোগে কাজে লাগানো যেতে পারে। বায়োটেকনোলজি ও ন্যানোটেকনোলজির মাধ্যমে কম আবাদযোগ্য জমিতে বেশি ফসল উৎপাদন করা সম্ভব। ফ্যাক্টরিতে থ্রিডি প্রিন্টেড প্রযুক্তিতে উদ্ভিদ উপাদান থেকে মাংস ও মাছ উৎপাদন করা যেতে পারে যা ক্রমবর্ধমান আমিষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে রপ্তানি করে অর্জন করা যাবে বৈদেশিক মুদ্রা। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ভাসমান পদ্ধতিতে চাষের মতো কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি সম্বলিত ড্রোন ব্যবহার করার মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক কৃষি জমির আগাম সার্বিক অবস্থা যেমন ফসলের মাঠের আর্দ্রতা, ফসলে ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি নির্ধারণ, শস্য চারা রোপণ ডিজাইন করা, বীজ রোপণ করা, পোকার আক্রমণ জানা, কীটনাশক স্প্রে করা, ফসলের উৎপাদন জানা, ফসলের সার্বিক মনিটরিং করা, মাটির পুষ্টি, তাপমাত্রা, পিএইচ, লবনাক্ততা জানা, ফসলের রোগ ও পোকামাকড় এর উপস্থিতি জানা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং আগাম এলামিং, ফসলের আগাম সম্ভাব্য ফলনের পূর্বাভাস দেয়া যেতে পারে।

বাংলাদেশের রপ্তানি নীতি ২০২১-২৪ এ কৃষি ও কৃষিজাত খাদ্য প্রক্রিয়াকরণকে সর্বাধিক অগ্রাধিকারের জন্য অন্যতম জাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়াও সরকার ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ২০২১-২০২৫-এ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈচিত্র্যময় কৃষিপণ্য এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্য উৎপাদনের ওপর জোর দিয়েছে। প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য উৎপাদনে গবেষণা ও বাজারজাতকরণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন ব্লকচেইন কিংবা ট্রেসেবিলিটির ব্যবহার রপ্তানি খাতের বহুমুখীকরণ করে বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ করার মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির ভিতকে করবে আরও মজবুত।

কৃষি হলো আমাদের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত। ক্রমান্বয়ে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের দিকে ধাবিত হওয়ার ফলে কৃষকগণ আধুনিক চাষাবাদে অভ্যস্ত হতে শুরু করেছেন। কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয় কৃষিকে করছে সমৃদ্ধ। বঙ্গবন্ধুর দর্শন অনুসরণ করেই আজ আমরা কৃষিতে সমৃদ্ধি অর্জন করেছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান, কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশের যে ভিত্তি তৈরি করে গেছেন সে পথ ধরেই ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ করে বাংলাদেশকে নিয়ে গিয়েছেন এক অনন্য উচ্চতায়। সম্প্রতি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ প্রণীত ইশতেহারে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা স্মার্ট কৃষি লক্ষ্য স্থির করেছিলেন। স্মার্ট কৃষি কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা প্রদান। অধিকন্তু স্বল্প সম্পদ বিনিয়োগে প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করে সর্বাধিক উৎপাদন করা। অল্প পানি, অল্প সার, অল্প কীটনাশক দিয়ে যদি বেশী পরিমাণ ফসল ফলানো যায় তাহলে কৃষিতে খরচ কমবে এবং উৎপাদন বাড়বে। এতে সময়ের পরিবর্তনে বর্ধিত চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে এ দেশের জনসাধারণের খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা মেটানো সম্ভব।

লেখক- সভাপতি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি ও সভাপতি, বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতি।

ইত্তেফাক/এবি