ঐতিহাসিক গোলকুন্ডা দুর্গ

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৩, ১৫:৪২

হায়দরাবাদের গোলকুন্ডা দুর্গ। এর পরতে পরতে ছড়িয়ে রয়েছে নানা অজানা কাহিনী। হায়দ্রাবাদের পশ্চিম প্রান্তে ১১ কি.মি. দূরে অবস্থিত এই দুর্গ। দুর্গটি নির্মাণে হিন্দু এবং মুসলিম দুই শাসকের ভূমিকা থাকায় দুর্গের স্থাপত্যশৈলীতে তার প্রভাব দেখা যায় প্রবলভাবে।

ভারতে সফররত বাংলাদেশী সাংবাদিক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বুধবার (১৮ অক্টোবর) গেলাম গোলকুন্ডা দুর্গ দর্শনে। আমাদের আগলে রেখেছেন ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি প্রেস অফিসার শিলাদিত্য হালদার আর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণ্লয়ের কর্মকর্তা পবন সাহারণ।

গোলকুন্ডা একসময় পরিচিত ছিল মানকাল নামে। ভারতের বিখ্যাত কাকাতিয়া রাজবংশের তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয়েছিল এই দুর্গ। মুলত কাকাতিয়া সাম্রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের নিরাপত্তার অংশ হিসেবে কান্দাপল্লী দুর্গের সাথে নির্মিত হয় গোলকুন্ডা দুর্গটি।

দুর্গটি একটি গ্রানাইট পাহাড়ের উপর নির্মিত। উচ্চতায় এটি ১২০ মিটার (৪৮০ ফুট), যার চারপাশে বাইরের শক্তির আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য তৈরি করা হয়েছিলো পরিখা। পরবর্তী সময়ে রানী রুদ্রমা দেবী এবং তার উত্তরাধিকারী প্রতাপারুদ্রের তত্ত্বাবধানে দুর্গটি পুনঃনির্মাণ করা হয় ও এর ভিত আরো শক্ত করে গড়ে তোলা হয়।

দুর্গের গাইড শেখ বাবা আমাদের জানালেন নানা গল্প। তার গল্পে যেন সেই কয়েক শ বছর আগের স্মৃতি দৃশ্যমান হয়ে উঠছিল হায়দরাবাদ সফররত বাংলাদেশ সাংবাদিক প্রতিনিধি দলের সদস্যদের চোখে।

এই দুর্গের প্রথমে নাম ছিল মাটফোর্ট। স্থানীয় ভাষায় বলা হতো গোল্লাকুন্ড, যার মাঝে গোল্লা অর্থ গোলাকার ও কুন্ড অর্থ পাহাড়। বাহমানি সুলতান কুতব শাহ এই দুর্গ নির্মাণ শুরু করেন যা সম্পন্ন হতে সময় লেগেছিল প্রায় ৬২ বছর। সুলতান অবশ্য তার জীবদ্দশায় দেখে যেতে পারেননি এই দুর্গ। দুর্গ নির্মাণে ইট, বালি, সুরকির সঙ্গে মেশানো হয়েছিল ওড়ুত অর্থাৎ অড়হর ডাল, যাতে শক্তিশালী হয় দুর্গের প্রাচীর; মোকাবিলা করতে পারে শত্রু পক্ষের আক্রমণ। পরবর্তীতে পুনঃনির্মাণের সময় এর ভিত আরো শক্ত করে গড়ে তোলা হয়।

গাইড শেখ বাবার সাথে কথা বলে জানা যায়, বহু হীরের সন্ধান মিলেছে এই অঞ্চলে। শুধু তা-ই নয়, বিখ্যাত কোহিনুর হীরের সন্ধানও মিলেছিল এই অঞ্চলে। গল্প শুনতে শুনতে আমরা পৌঁছে গেলাম চূড়ায়। ৪৮০ ফুট উঁচু এই দুর্গ থেকে পাখির চোখে দেখা যায় প্রায় গোটা হায়দরাবাদ শহর।

গাইড জানান, দুর্গ থেকে বাইরে যাওয়ার জন্য ছিল গুপ্ত রাস্তা যদিও তা পরে বন্ধ করে দেয় সরকার। এই  দুর্গের সর্বোচ্চ চূড়ায় আছে মহাকালী ও জগদম্বা মন্দির, যা হায়দরাবাদের প্রথম মন্দির হিসেবে মনে করা হয়। 

দুর্গের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাসে প্রতিদিন দেশি-বিদেশি প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার পর্যটক বেড়াতে আসেন তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়দরাবাদের বহু প্রাচীন এই দুর্গে।

ইত্তেফাক/এএইচপি