ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ মোকাবেলায় পিরোজপুরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে দুর্যোগ মোকাবেলা কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সংক্রান্ত সভায় জানানো হয় জেলায় ৪০৭টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ছাড়া সিপিপি’র ২৪০০ স্বেচ্ছাসেবক, যুব রেড ক্রিসেন্টের ২৮০জন স্বেচ্ছাসেবকসহ বিভিন্ন এনজিওর অর্ধশতাধিক স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছে।
সরকার ও রেড ক্রিসেন্টের তহবিলে সাড়ে আট লাখ টাকা নগদ অর্থ, কম্বল, ৫০ বান্ডিল ঢেউটিন, ৪১২ টন চাল আপতকালীন মজুদ রয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগের ৫৩টি মেডিকেল টিম ও প্রায় সাড়ে তিনলাখ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ প্রয়োজনীয় উদ্ধারযান বিভিন্ন সরকারি বিভাগের হাতে মজুদ রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।
পুলিশ, ফায়ার ব্রিগেড, আনসার, বিদ্যুৎ বিভাগ জরুরিভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সভায় অন্যান্যের মধ্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সফিউর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
ইন্দুরকানীতে প্রস্তুত ২০ সাইক্লোন শেল্টার
এদিকে বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপের ফলে সৃষ্টঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে ইন্দুরকানীর নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) সারাদিন উপজেলায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিসহ গুমোট আবহাওয়া বিরাজ করছে। উপজেলার কঁচা, বলেশ্বর নদ-নদীগুলোতে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের তুলনায় ৫ থেকে ৭ ফুট বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে ঝুঁকিতে রয়েছে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ।
উপজেলার সাঈদখালীচর, কালাইয়া, সন্নাসী, টগড়া, বালিপাড়াসহ নদী পাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রস্তত করা হয়েছে ২০টি সাইক্লোন শেল্টার।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সকালে উপজেলা দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে প্রস্তুতি সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা চেয়ারম্যান এম মতিউর রহমান।
উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুবক্কর সিদ্দীকী, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম, কৃষি কর্মকর্তা কামরুননেছা সুমি, ইন্দুরকানী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. নুর উদ্দিন আহমেদ, ফায়ার সার্ভিস ইনচার্জ মো. নুরুজ্জামান শরীফ, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহসান, প্রেস ক্লাব সভাপতি এইচএম ফারুক হোসাইনসহ অনেকে।
ভারী বৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাস ও ঝড়ে আবহাওয়া নিয়ে কৃষকেরা চিন্তিত থাকলেও কৃষি বিভাগ বলছে, পানিতে আমনের রোপণের তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় হামুন আতঙ্ক রয়েছে উপজেলার মৎস্য চাষিরা। উপজেলার ঘের পুকুরের অধিকাংশই অরক্ষিত। ফলে ঘূর্ণিঝড় হামুনের আঘাতের ফলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলে ঘের পুকুর জলাশয়ের মাছ বের হয়ে যাবে বলে শঙ্কায় মৎস্য চাষিরা।
