কোনো চ্যালেঞ্জ এলে আমি মোকাবিলা করব: মুশফিক

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৩, ১১:৪৭

তখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এখনকার মতো এত পরিচিত ছিল না। কোনো বড় দলকে হারালেই বলা হতো অঘটন। তবে ২০০৭ বিশ্বকাপের পর থেকে টাইগারদের দলে বিশাল একটা পরিবর্তন দেখা যায়। একঝাঁক তরুণ দলে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল নিয়ে সকলের ধারণাই বদলে দেন তারা। তাদের মধ্যে একজন উইকেটরক্ষক ব্যাটার মুশফিকুর রহিম।

টেস্ট ফরম্যাটে ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বপ্রথম অভিষেক হয় মুশফিকের। এরপর ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারেতে অভিষেক হয় তার। অভিষেকের পর প্রথম দুই ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নামতে পারেনি তিনি। তৃতীয় ম্যাচে মিরপুরে প্রথম বারের মতো ব্যাট করে সেই যে শুরু, চলছে এখনো। দিন যত যাচ্ছে তত নিজেকে চেনাচ্ছেন তিনি। দলের যখন যেখানে প্রয়োজন নিজেকে উজার করে দিচ্ছেন এই অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক ব্যাটার। গতকাল মুম্বাইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে মুশফিককে নিয়েই ৩ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে আইসিসি।

তিন ফরম্যাট মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মুশফিক বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন ৪৪৯ ম্যাচ। এবার টাইগারদের হয়ে পঞ্চম বারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে এসেছেন তিনি। আইসিসির প্রকাশিত ভিডিওতে এর মধ্যে তার স্মরণীয় কিছু ম্যাচের বিষয়ে জানান লাল-সবুজদের অভিজ্ঞ এই উইকেটরক্ষক। বলেন, ‘বাংলাদেশ দলে খেলার বিষয়টা অনেক বড় ব্যাপার। আমি মনে করি, আমার জন্য এটি গর্বের বিষয়। ২০০৭ সালে আমি প্রথম বিশ্বকাপ খেলি, প্রথম ম্যাচ ছিল ভারতের বিপক্ষে। তাদের বিপক্ষে খেলা যাদের খেলা দেখে আমরা বড় হয়েছি ঐ ম্যাচটি আমার জন্য স্বপ্নের মত ছিল। এবং সেই ম্যাচে তাদের হারিয়ে আমরা জয় লাভ করেছিলাম। ওয়ানডে ক্রিকেটে ঐটা আমার জন্য একটা বিশেষ মুহূর্ত ছিল। এছাড়া ২০১৫ বিশ্বকাপে আমার একটি বিশেষ মেমোরি রয়েছে। যেখানে আমরা ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিলাম এডিলেইডে, ৮৯ রান করেছিলাম।’

চলমান বিশ্বকাপে বেশি একটা সুবিধেজনক অবস্থানে নেই টাইগাররা। আসরের প্রথম ম্যাচের পর আর জয়ের দেখাই পাচ্ছেননা তারা। তবে মুশফিক আশাবাদী সামনে ভালো কিছু হবে। এ প্রসঙ্গে ভিডিওতে বলেন, ‘এই বিশ্বকাপে যেই কয়টা ম্যাচে সুযোগ পাবো আমি চেষ্টা করব আরো বড় বড় এমন কন্ট্রিবিউশন করা। আমি খুবই আশাবাদী যেহেতু দুইটা অর্ধশতক করেছি। যদি শেষ পর্যন্ত খেলতে পারি এবং আরেকটু বেশি রান করতে পারি, তাহলে ইনশা আল্লাহ দল আবার জয়ের ধারায় ফিরতে পারবে।’

প্রতিটি দলেই একজন ভরসামান ব্যাটার থাকে যার ওপর চোখ বন্ধ করে ভরসা করতে পারে দল কিংবা সমর্থকরা। যিনি কিনা যেকোনো চাপের মুখে থেকে দলকে টেনে তুলে নিয়ে আসার সামর্থ রাখে। টাইগারদের তেমনি একজন ব্যাটার মুশফিক। তাই দেশের ক্রিকেট প্রেমিদের তার কাছে প্রত্যাশাটা থাকে বেশি। তবে এই প্রত্যাশার চাপে মোটেই বিচলিত হন না ‘মিস্টার ডিপেন্ডবল’ খ্যাত এই ক্রিকেটার। বরং মুশফিক নিজেও চাপ নিতে পছন্দ করেন। এই ধারাটা সামনেও বজায় রাখতে চান বলে জানিয়েছেন। বলেন, ‘কোনো চ্যালেঞ্জ আসলে আমি বলতে পারি এই চ্যালেঞ্জ আমি মোকাবেলা করব। আমি সত্যিই এই দায়িত্ব ও ভার নিতে পছন্দ করি যে তারা যেন ভাবে এখন মুশফিক ক্রিজে আছে, সে বড় অবদান রাখবে।’

এদিকে মুশফিকের পেশাদারিত্ব দেখ অবাক হয়েছেন টাইগারদের পেস বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড। ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আমি তার (মুশফিক) চেয়ে পেশাদার কাউকে দেখিনি। আমরা মুখে বলি, জয়ের জন্য অনুশীলন করো। সে জয়ের জন্য অনুশীলন করে। তরুণ কোনো ক্রিকেটার কিংবা এমনিতে কেউ যদি তাকে অনুসরণ করে, তাকে দেখে বলবে, ওয়াও। ছোট্ট শরীরের এই ছেলের প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা। সে নেতা। সে যা অর্জন করেছে, বাংলাদেশের গর্ব করা উচিত। আমি জানি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সে আরো কিছু সময় আছে।’

ইত্তেফাক/এএম