দেশেই এখন উচ্চশিক্ষার সুযোগ উল্লেখযোগ্য বেড়েছে। তারপরও গত ১৫ বছরে দেশের বাইরে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪৯,১৫১ জন। অথচ, ২০১৩ এবং ২০০৮ সালে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২৪ হাজার ১১২ এবং ১৬ হাজার ৬০৯ জন।
উচ্চশিক্ষার মানের অভাব, সীমিত কর্মসংস্থান এবং অবারিত সুযোগের ঘাটতি শিক্ষার্থীদের বিদেশে পড়তে যাওয়ার অন্যতম কারণ। শুধু একাডেমিক সাফল্য বা উচ্চপদস্থ চাকরি নয়। বিশ্বসেরা শিক্ষকদের শিক্ষণ কৌশলের সুবাদে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের নতুন দিশা খুঁজে পাওয়াও বড় লক্ষ্য। এছাড়া অত্যাধুনিক রিসোর্সের পর্যাপ্ততা, বিশাল লাইব্রেরি, গবেষণাগার, ক্যারিয়ার সেন্টার সবকিছু দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চেয়ে আলাদা এবং উন্নত। উচ্চশিক্ষা অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জার্মানি, মালয়েশিয়া, এমনকি সংযুক্ত আরব আমিরাত পছন্দের তালিকায় এগিয়ে রয়েছে। বিশ্বমানের শিক্ষাব্যবস্থা ও চাকরির বাজারের সাথে পরিচিত হওয়া, বিশেষায়িত দক্ষতা অর্জন করা, সর্বোপরি মেধা এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে ঝুঁকছেন।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করার আগেই গন্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির যোগ্যতা ও শর্তসমূহ কীভাবে পূরণ করা যায়, তার পরিকল্পনা করতে হয়। এক্ষেত্রে ইংরেজিসহ অন্যান্য ভাষায় দক্ষতা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ। আইইএলটিএস, জিআরই বা পিটিই পরীক্ষা দক্ষতা যাচাই ও বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বিদেশে পড়তে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই প্রস্তুতি পর্যায়টি অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে ওঠে। বিশেষত, অর্থ ও সময়ের অপ্রতুলতার কারণে অনেকেই মেধা থাকা সত্ত্বেও পিছিয়ে পড়েন। এক্ষেত্রে দেশেই চালু হওয়া কিছু বিশেষ ‘পাথওয়ে প্রোগ্রাম’ এই প্রক্রিয়াকে অনেকটাই সহজ ও সাশ্রয়ী করে তুলেছে।
ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদিত একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশেই বিশ্বমানের শিক্ষা প্রদানে কাজ করছে ইউনিভার্সাল কলেজ বাংলাদেশ (ইউসিবি), যা অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ ইউনিভার্সিটি ও যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের এলএসই’র (লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিকস) সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ‘পাথওয়ে প্রোগ্রাম’ চালু করেছে। এই প্রোগ্রাম সম্পন্নের পর অস্ট্রেলিয়া বা মালয়েশিয়ায় অবস্থিত মোনাশ ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির সুযোগ রয়েছে।
এই প্রোগ্রামগুলোর আরেকটি বিশেষত্ব হচ্ছে বিস্তৃত অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক। ‘পাথওয়ে প্রোগ্রাম’ শেষে কর্মজীবনে শিক্ষার্থীরা সফল ও আন্তরিক অ্যালামনাইদের কাছ থেকে যেকোনো ধরণের পরামর্শ ও সহায়তা পাবেন, যা তাদের চাকরি বাজারে অন্যান্যদের চাইতে এগিয়ে থাকতে সাহায্য করবে।
সাধারণত, শিক্ষার্থীরা ‘ও’ বা ‘এ’ লেভেল শেষ করে মোনাশ ইউনিভার্সিটি ফাউন্ডেশন ইয়ার, মোনাশ কলেজ ডিপ্লোমা বা এলএসই ইএমএফএসএস প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন। এছাড়া উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পাশ শিক্ষার্থীদের জন্য ‘চেস’ নামে আরেকটি প্রোগ্রাম চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ‘চেস’ প্রোগ্রামের অধীনে এখন এইচএসসি পাশ শিক্ষার্থীরাও দেশে বসে লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিকসের ডিগ্রি অর্জন করতে পারবেন।
লেখক: সিনিয়র লেকচারার, ইউনিভার্সাল কলেজ বাংলাদেশ।
