নিজেদের স্বার্থেই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৩, ০৭:৩০

এমনিতেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেশে কোনোকালেই খুব একটা সন্তোষজনক ছিল না। খুন, ধর্ষণ, রাহাজানি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে থাকিলেও আমাদের দেশে ইহার সংখ্যা অপেক্ষাকৃত অধিক। লক্ষ করিলেই দেখা যায়, এই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নির্বাচন নিকটে আসিলে অধিক অবনতির দিকে ধাবিত হয়। ইহাও নূতন নহে। যদি এক দিনের সংবাদ উল্লেখ করা হয় তাহা হইলে দেখা যাইবে—কোথাও ঘরের ভিতর হইতে নারীর গলিত লাশ উদ্ধার, কোথাও নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধার, কোথাও-বা ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত বা ডাকাতের গুলিতে নিহত। আবার লক্ষ করিলেই দেখা যাইবে—একশ্রেণির দুর্ধর্ষ অপরাধী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাক ব্যবহার করিয়া, পুলিশ-ডিবি, এমনকি র্যাব বাহিনী সাজিয়া ছিনতাইকাজে লিপ্ত হইতেছে। ইহা ছাড়া জমি-সম্পদ লইয়া বিরোধ, পারিবারিক কলহ তো রহিয়াছেই। এই বিশেষ সময়ে আসিয়া আইনশৃঙ্খলার অবনতি হইবার একটি দৃশ্যমান কারণ হইল, নির্বাচন সামনে রাখিয়া প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোযোগ অধিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের দিকে চলিয়া যায়। এই সময় রাজনীতির সহিত জড়াইয়া পড়া উচ্চাভিলাষী কিছু ব্যক্তিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভিন্ন দলের নাম ভাঙাইয়া ব্যতিব্যস্ত রাখিতে তত্পর হইয়া উঠে। এই সময়টাকে শত্রুতা চরিতার্থ করিবার সুযোগ বলিয়াও ইহারা মনে করেন। বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় নির্বাচনের সময়ও আমরা লক্ষ করিয়াছি, তাহারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করিতে অধিক তত্পর হইয়া উঠিয়াছে। ইহা ছাড়াও বিভিন্ন অবৈধ পন্থায় অর্থ উপার্জন এবং সেই অর্থ ব্যয় করিয়া প্রশাসনের কিছু ব্যক্তির সহায়তায় নানা ধরনের অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করিবার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। এই ধরনের কর্মকাণ্ডে সমাজে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা যে বৃদ্ধি পায় তাহা বলিবার অপেক্ষা রাখে না।

ইহার ব্যত্যয় প্রয়োজন। দেশ এখন ডিজিটাল হইয়াছে। সকল বিষয়ে পূর্বের মতো পরিস্থিতি থাকিলে চলিবে কেন? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও অধিক কর্মক্ষম হইয়া চতুর্দিকে নজর রাখিবার দক্ষতা প্রদর্শন করিতে হইবে।  একদিকে কেহ যাহাতে সংকীর্ণ স্বার্থে ব্যবহার করিতে না পারে, অন্যদিকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ লইয়া অপরাধীরা যাহাতে অপরাধের মাত্রা বাড়াইয়া দিতে না পারে সেই দিকে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। ইহার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট উচ্চমহলকেও অত্যন্ত বিচক্ষণতার সহিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি নজর রাখিতে হইবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সিভিল প্রশাসনের যাহারা ব্যক্তিবিশেষ দ্বারা ব্যবহূত হইতেছে বলিয়া অভিযোগ রহিয়াছে তাহাদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে। তাহা না হইলে চরমভাবে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হইবার আশঙ্কা রহিয়াছে। অধিকন্তু মনে রাখিতে হইবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখিয়া থাকে। মানুষ ত্যাগের বিনিময়ে হইলেও পারিপার্শ্বিক শান্তি প্রত্যাশা করে। আর সেই শান্তি নির্ভর করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর উপর। এই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থার সংকট দেখা দিলে, সেই আস্থার দায় বর্তায় শাসকগোষ্ঠীর উপর। তাই শাসকগোষ্ঠীকে মনে রাখিতে হইবে, বিষয়টি মোটেই তুচ্ছ নহে। আমরা আশা করিব, সকল ধরনের আইনশৃঙ্খলাজনিত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনিবার যথাসাধ্য চেষ্টা করা হইবে।

ইত্তেফাক/এমএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন