জাতীয় বাজেটে চাই পরিবেশবান্ধব প্রকল্প

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৯, ২১:৫৪

নাগরিক সংলাপে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দাবি

ইত্তেফাক রিপোর্ট

জাতীয় বাজেট, ব্যয়, প্রকল্প ও ব্যবস্থাপনাকে পরিবেশবান্ধব করার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো। তারা বলেছেন, পরিবেশকে সমুন্নত রাখতে উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশের উন্নয়নও করতে হবে। শুধু কাঠামোগত উন্নয়ন হলে তা মানুষ ও প্রাণ প্রকৃতির জন্য নিরাপদ হবে না। আর যে উন্নয়ন মানুষমুখী নয় তা কখনো প্রকৃত উন্নয়ন নয়। তারা সরকারকে পরিবেশ উন্নয়নে আরো ইতিবাচক পদক্ষেপের আহ্বান জানান এবং পরিবেশবাদীরা সরকারকে সকল ধরনের সহযোগিতা করবেন বলেও আশ্বাস দেন। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০১৯-২০: পরিবেশ ও উন্নয়ন বিতর্ক’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে বক্তারা এ সব কথা বলেন। বেসরকারি উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) যৌথভাবে এই নাগরিক সংলাপের আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. রেজাউল করিম বাবলু এমপি বলেন, আমি পরিবেশের ওপর শাতধিক প্রতিবেদন লিখেছি সাংবাদিক হিসেবে। ২০০৮ সালে পলিথিন উত্পাদন নিষিদ্ধ হলেও দেশে বর্তমানে ২ লাখ ৬৫ হাজার টন পলিথিন উত্পাদন হচ্ছে। আজ পরিবেশ বিধ্বংসীরাই দেশের সবচেয়ে বড়ো ক্ষতি করছে। কীটনাশক দিয়ে আমরা মাটির উর্বরতা নষ্ট করছি ও প্রাকৃতিক মাছ ধ্বংস করছি। কীটনাশক থেকে বের হয়ে আমাদের প্রাকৃতিক উপায়ে কৃষি উন্নয়নের চিন্তা করতে হবে। আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করার জন্য বিদেশি ষড়যন্ত্র আছে, এটি আমাদের বুঝতে হবে। আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি; কিন্তু পরিবেশ ভারসাম্যের ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছি। পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে ব্যক্তি থেকে সমাজ পর্যন্ত।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সফিক উজ জামান বলেন, প্রবৃদ্ধি বাড়লেই উন্নয়ন হয় না। যত প্রবৃদ্ধি তত পরিবেশ দূষণ। পরিবেশ রক্ষা করেই আমাদের জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। সরকার পদ্মা সেতু ও রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ রেখেছেন; কিন্তু পরিবেশ রক্ষার জন্য কতটা বাজেট রেখেছেন সে প্রশ্ন জাতির সামনে চলে আসে। তিনি পরিবেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

মূল প্রবন্ধে গবেষক জানান, পরিবেশ খাতে বাজেট বাড়ছে না কমছে— এই বিতর্কের চেয়েও গুরুত্ব দেওয়া দরকার বাজেট বরাদ্দ ও ব্যবস্থাপনায় পরিবেশবান্ধব দিকগুলোর দিকে। শালবন ও জলাভূমি বিনাশ করে গার্মেন্টস তৈরি করে কিছু কর্মসংস্থান হয়; কিন্তু এতে দেশের ভবিষ্যত্ বিকাশ রুদ্ধ হয়ে যায়। ১টি জিন্সের প্যান্ট বানাতে ২২০ লিটার পানি লাগে। জাতীয় বাজেটকে পরিবেশবান্ধব হতে হবে, পরিবেশ সুরক্ষার বাজেট বাড়ানো দরকার।

সংলাপের সভাপতি পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, পরিবেশকে সমুন্নত রাখতে উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশের উন্নয়নও করতে হবে। শুধু কাঠামোগত উন্নয়ন হলে তা মানুষ ও প্রাণ প্রকৃতির জন্য নিরাপদ হবে না। আর যে উন্নয়ন মানুষমুখী নয় তা কখনো প্রকৃত উন্নয়ন নয়। তিনি সরকারকে পরিবেশ উন্নয়নে আরো ইতিবাচক পদক্ষেপের আহ্বান জানান এবং পরিবেশবাদীরা সরকারকে সকল ধরনের সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন।

পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট হাসান তারিক চৌধুরী, প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ, কবি শাহেদ কায়েস, মেনন চৌধুরী, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিষয়ক গবেষক পাভেল পার্থ। নাগরিক সংলাপ সঞ্চলনা করেন পবার সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল।