ডিএনএ হচ্ছে জেনেটিক কোডের সংক্ষিপ্ত নাম। পুরো নাম deoxyriboneucleic acid। এটি মূলত অক্সিজেন, কার্বন, নাইট্রোজেন এবং হাইড্রোজেনের দ্বারা গঠিত মাইক্রোমলিকিউল। এটি রাসায়নিক তথ্যের অনুবর্তী ফিতার মতো বস্তু। আমাদের দেহকোষ বা সেলের নিউক্লিয়াসে এর অবস্থান। পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষের ডিএনএ টেস্টের ফলাফল ভিন্ন ভিন্ন। তাই এই ফলাফলকে ব্যবহার করে যে কোনো অপরাধ শনাক্তকরণ খুব সহজ হতে পারে। অপরাধ ছাড়াও আপনজন শনাক্তকরণ নিয়ে পড়তে হয় বিপাকে। আগুনে পোড়া লাশ, পানিতে পচে যাওয়া দেহ শনাক্তকরণ বেশ জটিল। পিতৃত্ব, মাতৃত্ব নির্ধারণেও দেখা যাচ্ছে জটিলতা। যদিও উল্লিখিত অপরাধ ও শনাক্তকরণে ফরেনসিক বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে, তবে সন্দেহভাজন ব্যক্তির অভাবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জটিলতা আসছে ডিএনএ টেস্টের পরও। অনেক সময় এ বিভাগের কাজ এতটা দীর্ঘ হয় যে ভুক্তভোগী উপযুক্ত বিচার পাবার আশা ছেড়ে দেয়। পুলিশ সদর দফতরের পরিসংখ্যান বলছে, সারা দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমনের মামলা হয়েছে ১১৩৯টি এবং হত্যা মামলা হয়েছে ৩৫১টি। শুধু মামলাই হয় কিন্তু অপরাধের বিচার হয় না। তাই ডিএনএ টেস্ট প্রযুক্তির উপযুক্ত প্রয়োগ প্রয়োজন। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের জন্মনিবন্ধনের মতো ডিএনএ টেস্টও হতে হবে বাধ্যতামূলক। আর সেই টেস্টের রেজাল্ট কোড আকারে জমা থাকবে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় অনলাইন সার্ভারে। স্মার্টকার্ডের আইডি নম্বরের নিচে যুক্ত করা হবে এই ফলাফল। অনলাইনে যেমন আইডি নং সার্চ দিলেই ঐ ব্যক্তির সকল তথ্য চলে আসে, ঠিক তেমনি ডিএনএ টেস্টের কোড দিয়ে সার্চ করলেও সকল তথ্য পাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে যে সুবিধাটা হবে তা হলো অপরাধী বা যে ব্যক্তিকে শনাক্তকরণে তার দেহের ডিএনএ বহনকারী একটি নমুনাই (চুল, নখ, ত্বক, রক্ত, বীর্য ইত্যাদি) যথেষ্ট হবে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের খোঁজার প্রয়োজন পড়বে না। বাংলাদেশে এ পদ্ধতির যথাযথ প্রয়োগ হলে যাবতীয় অপরাধ ও শনাক্তকরণের জটিলতা দূর করা সম্ভব বলে আশা করা যায়।
মো. মোস্তাফিজুর রহমান
বায়োকেমিস্ট্রি (দ্বিতীয় বর্ষ),
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, ঢাকা
