কর্ণফুলী ড্রেজিংয়ের বড়ো বাধা পলিথিন

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৯, ২২:২১

কর্ণফুলী নদীতে ড্রেজিংয়ের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তলদেশে জমে থাকা পলিথিন। নদীতে জমা পলিমাটি পলিথিনের কারণে শোষণ করতে পারছে না। নদীতে এভাবে পলিথিনের স্তর জমতে থাকলে চট্টগ্রাম বন্দর অকার্যকর হয়ে যাবে। তাই বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম চট্টগ্রামে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন। চিটাগাং চেম্বারের উদ্যোগে আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু হলে চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে সীতাকুণ্ড শিল্পাঞ্চল ও মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ বিষয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী আরো বলেন, চট্টগ্রামে কয়েক হাজার কোটি টাকার বড়ো মাপের প্রকল্প হবে। অনেক শিল্পকারখানা স্থাপিত হবে। কিন্তু জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রামের নিচু এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। এ ব্যাপারে যে প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়নে নিবিড়ভাবে তত্ত্বাবধান করা হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের কারণে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ভালো হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশে আরো বন্দর হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশ। সঠিক প্রকল্প হাতে নিলে টাকার অভাব হবে না। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, এখন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করতে হবে। অস্থায়ী ভিত্তিতে নয়, ৫০ বছরকে সামনে রেখে নগর পরিকল্পনা করতে হবে।

তিনি বলেন, ২০১৭ সালে সীতাকুণ্ড শিল্পাঞ্চলে পানি সরবরাহের জন্য জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছি। সর্বশেষ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি। ৪০০ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে লাখো শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া ও মাত্রাতিরিক্ত আয়রন থাকায় সংকটে পড়েছে শিল্প কারখানাগুলো। নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে না। পাশাপাশি মিরসরাই বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরেও পানি সরবরাহের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। শিগগির সেখানে উত্পাদন শুরু হবে। সীতাকুণ্ড ও মিরসরাইয়ে ওয়াসার পানি সরবরাহের বিকল্প নেই।

মন্ত্রী বলেন, দেশের ৯২ শতাংশ রপ্তানি চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হয়ে থাকে। বে টার্মিনালের কাজ ২০২১ সালের মধ্যে সম্পন্ন হলে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। মাতারবাড়ী       সমুদ্রবন্দর করাটাও সময়োপযোগী। এদিকে কর্ণফুলী ড্রেজিং জরুরি। কর্ণফুলী বাঁচলে চট্টগ্রাম বন্দর বাঁচবে, বন্দর বাঁচলে দেশ বাঁচবে। বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

চেম্বার সভাপতি কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল, এলএনজি টার্মিনাল, কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ, ঢাকা-চট্টগ্রাম দ্রুত গতির ট্রেন, চট্টগ্রাাম-ঢাকা মহাসড়ক আট লেনে উন্নীত করা, চট্টগ্রামে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু নির্মাণ, মেট্রোরেল, গণপরিবহন, জলাবদ্ধতা নিরসন, মহাসড়কে ১৩ টনের বেশি পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা, ব্লু-ইকোনমিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চলমান প্রকল্পের বিষয় ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ, ওয়াসার চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চেম্বারের সহসভাপতি সৈয়দ জামাল আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।