কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দিতে হবে :রওশন

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৯, ২২:২২

সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ বলেছেন, কালোটাকা সাদা করার সুযোগ প্রত্যেক দেশেই আছে। আমাদের ব্যবসায়ীদের এই সুযোগ দিতে হবে। কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দিলে বিত্তশালীরা বিনিয়োগ করবেন। না হলে টাকা পাচার হয়ে যাবে। এসব টাকা বিনিয়োগ হলে, শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হলে আমাদের ছেলেমেয়েদের কর্মসংস্থান বাড়বে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর গতকাল শনিবার সংসদে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। অসুস্থতার কারণে বিরোধীদলীয় নেতা এইচ এম এরশাদের অনুপস্থিতিতে রওশন বিরোধীদলের পক্ষে মূল ও বাজেট আলোচনার সমাপনী বক্তব্য রাখেন।

ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিত্সাধীন স্বামী এরশাদের সুস্থতা কামনায় সবার দোয়া কামনা করে রওশন বলেন, আমাদের চেয়ারম্যান অনেক বেশি অসুস্থ। আস্তে আস্তে ভালোর দিকে যাচ্ছেন। তবে তিনি অনেক দুর্বল। আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তার আরোগ্য লাভের জন্য   দোয়া চাচ্ছি। সবাই দোয়া করবেন।

বাজেটের ওপর বক্তব্যে রওশন বলেন, ব্যাংকগুলোতে নগদ অর্থ নেই। বেসরকারি খাত ব্যাংক থেকে ঋণ পাচ্ছে না। অথচ বাজেটের ঘাটতি পূরণে সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে। কৃষকদের জন্য প্রণোদনা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ধান বেশি হলো; কিন্তু কৃষকরা মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন। কৃষক শস্য ফলাবে, তার প্রয়োজনীয় টাকা পাবে; কিন্তু তাদের মাথায় হাত। আগুন দিয়ে ধান পুড়িয়ে দিল। তাদের প্রণোদনা দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যেও কৃষকদের শতভাগ ভরতুকি দেওয়া হয়। কৃষককে কেন ধান খেতে আগুন দিতে হলো। আমি কৃষিমন্ত্রীর কাছে এর জবাব চাই।

বিরোধীদলীয় উপনেতা আরো বলেন, আমাদের কৃষকরা অনেক দুস্থ। দিন আনে দিন খায়। তাদের জন্য যা যা করা প্রয়োজন তা করতে হবে। দিনাজপুর পঞ্চগড়ের দিকে বেশি ধান হয়। সেখানে যদি এই অবস্থা হয়! গুদাম-সাইলো গড়ে তুলতে হবে। অর্থবছর জুলাই থেকে না করে জানুয়ারি থেকে করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন,  যখন অর্থবছর শুরু হয় তখন ভরা বর্ষা থাকে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা বড়ো চ্যালেঞ্জ আখ্যা দিয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, বড়ো চ্যালেঞ্জ হলো বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। না হলে বৈষম্য কমবে না। এজন্য এখন থেকেই পরিকল্পনা করতে হবে। তিনি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো এবং শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার, অনলাইনে কেনাকাটায় কর প্রত্যাহার, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে এমপিদের মতামত নেওয়ার আহ্বান জানান।