দিল্লি অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে আজকের বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ম্যাচটির কি বিশেষ কোনো গুরুত্ব আছে? চাইলে ‘হ্যাঁ’ উত্তর দিতে পারেন, আবার একটু দুঃসাহসী হয়ে ‘না’ উত্তরও দিতে পারেন। বাংলাদেশ ভারতের মাটির বিশ্বকাপটা শুরু করেছিল আফগানিস্তানের বিপক্ষে স্বপ্নের মতো এক জয় দিয়ে।
কিন্তু ধর্মশালার সেই জয়ের সুখস্মৃতিকে মাটিচাপা দিয়ে ২০২৩ বিশ্বকাপটা এরই মধ্যে বাংলাদেশ দলের জন্য দুঃস্বপ্নের এক বিশ্বকাপে পরিণত হয়েছে। জয় দিয়ে শুরুর পর টানা ৬ ম্যাচে হেরে চুরমার হয়েছে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল খেলার স্বপ্ন। মানে গ্রুপপর্ব থেকেই বাংলাদেশের বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে।
কাজেই আজকের শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটি তো বটেই; ১১ নভেম্বর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিও বাংলাদেশ দলের জন্য শুধুই আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার। তবে প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কার জন্য মোটেই স্রেফ আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার ম্যাচ নয়। আজকের ম্যাচটি মহাগুরুত্বপূর্ণ। এখনো যে জিইয়ে আছে লঙ্কানদের সেমিফাইনালে ওঠার নিবু নিবু আশা। এমনিতে ৭ ম্যাচে মাত্র ৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকায় বর্তমানে ৭ নম্বরে অবস্থান তাদের। তারপরও কাগজে-কলমের সীমকরণে লঙ্কানদের আশা জিইয়ে আছে।
তবে সেই আশাটা এতটাই নিবুনিবু যে, তা সত্যিই বাস্তব হয়ে জ্বলবে কি না, বলার উপায় নেই। কারণ, সরাসরি সেমিফাইনালের টিকিট কাটার অধিকার তাদের হাতে নেই। নিজেদের সামর্থ্য উজাড় করে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের পেতে হবে অন্যের সাহাযেও। মানে, আজ বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটিসহ বাকি দুই ম্যাচেই তাদের জিততে হবে। পাশাপাশি নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, আফগানিস্তানকে পরের সবগুলো ম্যাচেই হারতে হবে। তাতেই শেষ রফা নয়।
যদি উপরি উক্ত দুটি সমীকরণ লঙ্কানদের হয়ে এক বিন্দুতে মেলে, তার সামনে চলে আসবে, রানরেটের হিসাব। বর্তমানে মাইনাস ১.১৬২ রানরেটের অধিকারী লঙ্কানদের জন্য তাই সেমির সমীকরণ বাস্তবে রূপ দেওয়াটা মহাকঠিন। তারপরও সম্ভাবনার পথ যখন খোলা, আশা করতে দোষ কি! দোষ নেই বলেই আজ দিল্লিতে জয়ের জন্য মরণকামড় বসাতে চাইবে কুশল মেন্ডিসের শ্রীলঙ্কা।
টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ঘণ্টা বেজে গেলেও বাংলাদেশ দলের জন্য বিশেষ একটা লক্ষ্য আছে। সাকিবের দল মাঠে নামছে ‘৩’-এর বৃত্তে চোখ রেখে। সেটা কি? ২০০৭, ২০১১, ২০১৫ ও ২০১৯-সর্বশেষ ৪টি বিশ্বকাপেই বাংলাদেশ দল সমান তিনটি করে ম্যাচে জয় পতাকা উড়িয়েছে। সেমির স্বপ্ন ভেঙে গেলেও সেই ‘৩’-এর কীর্তি গড়ার সম্ভাবনা এখনো জিইয়ে আছে। তবে সেজন্য বাকি দুই ম্যাচেই বাংলাদেশকে জিততে হবে। মানে আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জেতার পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজেদের শেষ ম্যাচেও জিততে হবে। সাকিবরা পারবেন এই ‘৩’-এর স্বপ্নটা পূরণ করতে?
