তৈরি পোশাকশিল্প (আরএমজি) শ্রমিকদের ন্যুনতম মজুরি ২৩ হাজার টাকায় উন্নীত করতে শ্রমিক, কর্মী ও ট্রেড ইউনিয়নের দাবির সাথে একাত্বতা প্রকাশ করছে অসমতা দূরীকরণে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশ। পাশাপাশি শ্রমিকদের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ কর্তৃক সহিংস নিপীড়ন শ্রমিকের প্রতি বৈষম্যকে তুলে ধরেছে, যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি।
অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, শ্রমিকদের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সহিংসতার ঘটনা বাংলাদেশে শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ কতটা বিরূপ সে বিষয়টি উন্মোচিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই আন্দোলনে দুজন শ্রমিক নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন।
সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর অন্তর পোশাক শ্রমিকদের ন্যুনতম মজুরি বৃদ্ধি হয়ে থাকে। তবে প্রায় প্রতিবারই নিজেদের দাবি আদায়ে শ্রমিকদের রাজপথে নামার ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে ন্যুনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা (৭২ মার্কিন ডলার, যা বিশ্বের মধ্যে সর্বনিম্ন এবং সুস্পষ্ট শ্রম বৈষম্য) নির্ধারণের আগমূহূর্তেও পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। চাকরি হারিয়েছেন শত শত শ্রমিক। পাঁচ বছর পর একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে, যখন শ্রমিকদের দাবি করা ন্যুনতম মজুরি ২৩ হাজার টাকার বিপরীতে গত ২২ অক্টোবর দেশের পোশাকশিল্পের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ১০ হাজার ৮০০ টাকা প্রস্তাব করে।
দেশের চলমান অর্থনৈতিক সঙ্কটে খাদ্য ও অন্যান্য দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে (বাংলাদেশ ট্রেডিং কর্পোরেশন (টিসিবি) এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ এবং ২০২৩ সালে খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়েছে ২১%-৫০% পর্যন্ত) এই প্রস্তাবিত ন্যুনতম মজুরি যথেষ্ট নয়। পাশাপাশি বিজিএমইএ আন্দোলনরত শ্রমিকদের দমিয়ে রাখতে ‘কাজ না করলে মজুরি নেই’ নিয়ম তৈরি করছে, যা নিন্দনীয়।
অক্সফ্যাম গ্লোবাল লিভিং ওয়েজ কোয়ালিশন এর মাধ্যমে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সহমত প্রকাশ করে। এছাড়াও চলতি বছরের মে মাসে জাতিসংঘের চরম দারিদ্র্ এবং মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিনিধি সফর করেন এবং সেই সফরে বাংলাদেশের দারিদ্রতা মোকাবিলায় সকল শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি প্রাপ্তির অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট ফর লেবার স্টাডিজ (বিআইএলএস) এর একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, ২৩ হাজার টাকার নিচে যেকোনো মজুরি দিয়ে শ্রমিক ও তার পরিবারের খরচ চালানোর জন্য যথেষ্ট নয়।
অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশের দাবি গুলো হচ্ছে:
- পোশাক শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে এবং ন্যুনতম মজুরি ২৩ হাজার টাকা বাস্তবায়ন করতে হবে।
- বর্তমান ন্যুনতম মজুরি (৮,০০০ টাকা), শ্রমিকদের জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রয়োজনের তুলনায় মাত্র ৩৫%। মজুরি ৪৮ঘন্টা/প্রতি সপ্তাহে প্রদান করা উচিত এবং এর মাধ্যমে শ্রমিকের পুষ্টিকর খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশু সন্তানের যত্ন, পরিবহন এবং সঞ্চয়সহ অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনগুলো মেটাতে পারতে হবে।
- শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং অধিকারভিত্তিক আন্দোলনের নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে।
- যেসব আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড বাংলাদেশ থেকে পোশাক কেনে, তারা স্থানীয় শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ট্রেড ইউনিয়নগুলোর মজুরি বৃদ্ধির দাবির সাথে একাত্বতা প্রকাশ করবে এবং তাদের এই ন্যায্য দাবী আদায়ে জোরালো সমর্থন জানাবে।
