রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার দিয়াড়মানিকচক সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে এক কিশোর নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত সমিরুল হক (১৬) রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চরআষাঢ়িয়াদহ ইউনিয়নের বারীনগর গ্রামের হাসিবুল হকের ছেলে। বিএসএফের গুলি কিশোর সমিরুলের ডান বগল দিয়ে ঢুকে বাম বগল ছেদ করে বেরিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা জানান, কিশোর সামিরুল ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় ঘাস কাটতে গিয়েছিল। তাকে হত্যার পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৫৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাহিদ হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরে রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানা পুলিশ কিশোর সমিরুলের লাশ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনার পর ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে পতাকা বৈঠক আহবান করেছে বিজিবি।
চরআষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল হক ভোলা জানান, সীমান্তে বাংলাদেশ ও ভারতের কৃষকদের ফসলের খেত রয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে সমিরুলসহ কয়েকজন মিলে দয়াড় মানিকচক সীমান্তের ৫ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকার জিরো লাইন থেকে ১৫০ গজ বাংলাদেশের ভেতরে ঘাস কাটছিল। এ সময় ভারতের চর আষাড়িয়াদহ বিএসএফের একটি টহল দল তাদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। একটি গুলি কৃষক সমিরুলের এক ডান বগল দিয়ে ঢুকে বুকের ভেতর দিয়ে বাম বগল হয়ে বেরিয়ে যায়। ফলে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। তবে বাকিরা পালিয়ে বাঁচে। এ সময় কৃষক সামিরুলের লাশের পাশেই ঘাসভর্তি বস্তাটি পড়ে থাকতে দেখা যায়।
এদিকে গুলিতে বাংলাদেশি কিশোর হত্যার খবর পেয়ে বিজিবির সাহেবনগর ও দিয়াড় মানিকচক ফাঁড়ির দুটি টহল দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশও খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয়। দুপুরেই কিশোর সমিরুলের মরদেহ উদ্ধার করে আনা হয়।
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিকুল ইসলাম জানান, কিশোর সমিরুলের লাশ পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা উদ্ধার করেছে বলে খবর পেয়েছি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
