বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

কপোতাক্ষ নদে কমছে পানি বাড়ছে ভাঙন, আতঙ্কে স্থানীয়রা

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২৩, ০৪:১০

বিগত কয়েক বছর ধরেই কপোতাক্ষ নদের ভাঙনে বিলীন হচ্ছে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ, কবরস্থান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নদে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে রহমতুল্লাহ আওরঙ্গী এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীসহ নদ পাড়ের মানুষ। তারা ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদনও করেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কপোতাক্ষ তীরবর্তী তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে আচিমতলা নামক স্থানে নদের ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। নদের ভাঙন উপকূলে বসবাসকারী সোহরাবউদ্দীন, আব্দুল গফফার মোড়ল, মিন্টু মোড়ল, মোজাফফর মোড়ল, আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুস সবুরসহ একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে জানান, কপোতাক্ষ নদের ভাটি অঞ্চল আচিমতলা নামক স্থানে নদ পুনঃখননের সময় মূল নকশা অনুযায়ী না করায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে নদের অপর প্রান্ত আচিমতলা এলাকায় ভূমি গঠনসহ বিস্তীর্ণ চর জেগে উঠছে। আর ভাঙনকবলিত এলাকা আচিমতলায় ভিটাবাড়িসহ আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বর্তমানে ভাঙনের মাত্রা এতটাই তীব্র যে, ঐ স্থানের পরিবারগুলো ও স্থানীয় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

ভাঙন ঝুঁকিতে থাকা রহমতুল্লাহ আওরঙ্গী এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডের ছাত্র রাকিব হোসেন, ইব্রাহিম হোসেন, মেহেদী হাসান ও হাবিবুল্লাহ জানায়, তাদের বাবা-মা নেই। মাদ্রাসা প্রাঙ্গণই তাদের ঘরবাড়ি। যখন মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছিল, সে সময় মাদ্রাসার পেছনে নদের ধারে গাছ-গাছালিসহ পর্যাপ্ত জায়গা ছিল। কিন্তু কয়েক বছর ভাঙনে নদ এখন তাদের ক্লাস রুমসহ থাকার জায়গার কাছে চলে এসেছে। তালার সরুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বলেন, কপোতাক্ষের ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এদিকে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির অতি দ্রুত ভাঙন রক্ষায় কার্যকরী ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

 

ইত্তেফাক/এসটিএম