ভিনটেজ কার, মোটর রেসিং, সবচেয়ে দ্রুতগামী গাড়ির মতো বিষয়ে আগ্রহ থাকলে জার্মানির জাতীয় গাড়ি মিউজিয়ামে ঢুঁ মারা উচিত। প্রায় অমূল্য এই ব্যক্তিগত সংগ্রহে ইতিহাসের কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনারও চিহ্ন পাওয়া যাবে।
চোখ ধাঁধানো রেসিং কার, বিরল যান, চকচকে ভিন্টেজ কার। জার্মানির হেসে রাজ্যে সদ্য উন্মোচিত ‘জাতীয় গাড়ি মিউজিয়াম’-এ প্রায় দেড়শো যান শোভা পাচ্ছে। মিউজিয়ামের কিউরেটর ও সহ নির্বাহী পরিচালক ফ্লোরিয়ান উর্বিচ বলেন, ‘গাড়িগুলি সব খাঁটি। কলকবজাও ভালো অবস্থায় রয়েছে। পথে নামার জন্যও প্রস্তুত। দর্শকদের স্বার্থে বর্তমানে অবশ্যই সেগুলি মিউজিয়ামে রয়েছে। আমরা সেগুলি রক্ষাণাবেক্ষণ করে চালানোর উপযুক্ত করে রাখি।’
কর্ণধার হিসেবে ফ্লোরিয়ান উর্বিচ প্রত্যেকটি গাড়ির নানা খুঁটিনাটী বিষয় সম্পর্কে জানেন। তার ঝোলায় অনেক গল্পও রয়েছে। যেমন এই ফর্মুলা ওয়ান ফেরারি স্পোর্টস কার কিংবদন্তীর মতো। ২০০০ সালে মিশায়েল শুমাখার এটি চালিয়ে তাঁর তৃতীয় বিশ্বকাপ জেতেন। ফ্লোরিয়ান উর্বিচের মতে, ‘ফর্মুলা ওয়ান অবশ্যই স্পোর্টস কার জগতের সেরা প্রতিযোগিতা। সর্বকালের সেরা রেসার মিশায়েল শুমাখারের সঙ্গে ফেরারির বিশেষ সংযোগ রয়েছে। ফলে এখানে বিশেষ মেলবন্ধন ঘটেছে। গাড়ি বেচার ছোট বিজ্ঞাপনে এমনটা পাওয়া যায় না। কিন্তু ৩৫ বছর ধরে গাড়ি সংগ্রহ করলে যথেষ্ট যোগাযোগ গড়ে ওঠে। অন্যান্য সংগ্রহকারীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় এবং বিরল যান সংগ্রহের সুযোগ পাওয়া যায়।’
‘দ্য লো কালেকশন' মিউজিয়ামের ডাকনাম হয়ে উঠেছে। এটি কোটিপতি ফ্রি়ডহেল্ম লো-র ব্যক্তিগত সংগ্রহ। ৩৫ বছর ধরে তিনি বিশেষ গাড়ির সন্ধান করে চলেছেন। বেনৎস ভিক্টোরিয়া মডেলটি অত্যন্ত পুরানো ও বিরল এক যান। ১৮৯৬ সালের গাড়িটি একেবারে অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। উর্বিচ বলেন, ‘ভিক্টোরিয়া বা মিশায়েল শুমাখারের বিশ্বকাপের গাড়ি যে এখানে রয়েছে, সেটা মোটেই কাকতালীয় নয়। সাধারণ পুরানো গাড়ি বা যে কোনো ফর্মুলা ওয়ান রেসিং কার সংগ্রহে রাখা হয় নি। খুঁটিনাটী বিষয়ের প্রতি তাঁর ভালোবাসা মিউজিয়ামটিকে আজকের রূপ দিয়েছে।’
প্রদর্শিত গাড়িগুলি সম্পর্কে ধারণা পেতে মিউজিয়ামের নিজস্ব অ্যাপ সাহায্য করে। সেখানে একের পর এক স্বপ্নের গাড়ি পাশাপাশি দাঁড়িয়ে রয়েছে। সংগ্রহের আর্থিক মূল্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া কঠিন। যেমন মাত্র একবার তৈরি মাইবাখ এক্সেলেরো-র দাম কম করে হলেও ৮০ কোটি ইউরো। ২০০৫ সালের এই যানটি ঘণ্টায় ৩৫১ কিলোমিটার গতিবেগ ছুঁয়ে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল। তবে সংগ্রহে আরো দ্রুত গতির গাড়িও রয়েছে। কিউরেটর ও সহ নির্বাহী পরিচালক ফ্লোরিয়ান উর্বিচ বলেন, ‘এখানে বুগাটি ভাইরন সুপার স্পোর্টস মডেল শোভা পাচ্ছে। এই মডেলের মোট ৪৮টি গাড়ি তৈরি করা হয়েছিল। ২০১২ সালে এটি বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগামী গাড়ি ছিল। ঘণ্টায় ৪৩১ কিলোমিটার গতির কারণে গিনিস বুকে এটির নাম উঠেছিল। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে বাজারে আনা গাড়ির গতি ৪১৫ কিলোমিটারে সীমিত রাখা হয়েছিল।’
ল্য ম্যাঁসের ২৪ ঘণ্টার রেসকে উৎসর্গ করে এক বিশেষ প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়েছে। সেটা ছিল রেসিং জগতের চমকপ্রদ ঘটনা। দূরপাল্লার রেসিংয়ের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষ্যে ২১টি বোলিডের মধ্যে ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। প্রত্যেকটি রেসই ছিল প্রযুক্তির সম্ভাবনার সীমার মাইলফলক। উর্বিচ বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের মিউজিয়ামের সিংহভাগ জুড়েই কম্বাসচন প্রযুক্তি প্রাধান্য পেলেও আমরা কিন্তু মিউজিয়াম হিসেবে ইলেকট্রোমোবিলিটি সম্পর্কে উদাসীন নই। আমাদের আশা, জার্মানির গাড়ি শিল্প এ ক্ষেত্রে সমান তালে এগিয়ে যেতে পারবে।’
জাতীয় গাড়ি মিউজিয়ামের দৌলতে ইউরোপের অন্যতম বিশাল ব্যক্তিগত গাড়ির সংগ্রহ সাধারণ দর্শকদের নাগালে চলে আসছে। অটোমোবাইল জগতের ইতিহাস এভাবে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
