রমেকে দুই বছরেও শুরু হয়নি শুরু হয়নি ১০০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ বার্ন ইউনিটের নির্মাণকাজ

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২৩, ০৬:০০

রংপুর বিভাগের অগ্নিদগ্ধ রোগীদের চিকিৎসায় ১০০ শয্যাবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ বার্ন ইউনিট স্থাপন প্রকল্পের কাজ দুই বছরেও শুরু হয়নি। ২০২৫ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো শুরু হয়নি এর কার্যক্রম। এতে ক্ষোভ জানিয়েছেন সচেতন মানুষ।

রমেক সূত্রে জানা যায়, হিমালয়ের কাছাকাছি থাকা দেশের উত্তরাঞ্চলে শীতের প্রকোপ বেশি হয়। বিভাগের আট জেলার অসচ্ছল মানুষ সাধারণত শীত নিবারণের জন্য খড়কুটো জ্বালিয়ে থাকেন। এতে জামা-কাপড়ে আগুন লেগে অনেক মানুষ দগ্ধ হয়। এছাড়া সারা বছরই নানান কারণে অগ্নিদগ্ধ রোগীরা ভর্তি হন রংপুর মেডিক্যাল হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। কিন্তু এত রোগীর চাপ থাকা সত্ত্বেও মাত্র ১৪ শয্যার বার্ন ইউনিটে চলে চিকিৎসা। শয্যা সংকটে সার্জারি বিভাগের বারান্দাসহ বিভিন্ন স্থানে পোড়া রোগীদের চিকিৎসা দিতে হয়। অনেক সংকটাপন্ন রোগীদের শয্যা সংকটের কারণে আইসিইউ সুবিধা দিতে পারে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিত্সকরা ঢাকায় বার্ন ইউনিটে স্থানান্তরের পরামর্শ দিলেও রোগীকে ঢাকায় নিতে পারে না অসচ্ছল স্বজনরা। এতে অগ্নিদগ্ধ রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যায়।

তাছাড়া হাসপাতালের চতুর্থ তলায় সার্জারি বিভাগে চিকিৎসা নেওয়া পোড়া রোগীদের ড্রেসিং (ক্ষত স্থান পরিষ্কার) করার জন্য প্রতিদিন হাসপাতালের নিচ তলায় বার্ন ইউনিটে আনা-নেওয়া করতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় রোগীর স্বজনসহ হাসপাতালের নার্স-ওয়ার্ড বয়দের। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর একনেক সভায় রংপুরসহ দেশের পাঁচটি জেলায় ১০০ শয্যাবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ বার্ন ইউনিট স্থাপন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়।

রংপুরের এ বিশেষায়িত ইউনিটটি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধীনে পরিচালিত হবে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ছাড়াও এ প্রকল্পে ঋণ দিয়েছে সৌদি সরকার। ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এ প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে। পাঁচ জেলায় এ ইউনিট নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫৬ কোটি টাকা।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. এম এ হামিদ পলাশ বলেন, সারা বছরই ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি থাকে বার্ন ইউনিটে। বিশেষ করে শীতকালে রোগী কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ফলে ইউনিটের বাইরে সার্জারি বিভাগে রোগীদের চিকিৎসা দিতে হয়। সব রোগী একসঙ্গে না থাকায় হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে গিয়ে চিকিৎসা দিতে নার্স চিকিত্সকদের হিমশিম খেতে হয়। ১০০ শয্যার যে আলাদা বার্ন ইউনিট হওয়ার কথা ছিল তার কোনো অগ্রগতি নেই। যথা সময়ে সেই ইউনিটটি নির্মাণ হলে বিভাগের আগুনে পোড়া রোগীদের আধুনিক ও দ্রুত সময়ে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হতো।

রংপুরের গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান খন্দকার বলেন, প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত বিদেশি প্রতিনিধিদল রংপুরে আসার কথা। তারা এসে সাইট পরিদর্শন করবেন। এরপরই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. ইউনুস আলী জানান, সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা পাশ হয়েছে। এখন গণপূর্ণ অধিদপ্তরের টেন্ডার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। তিনি জানান, প্রতি বছর শীত এলেই হাসপাতালে আগুনে পোড়া রোগীর চাপ বেড়ে যায়। কিন্তু আমাদের অবকাঠামোগত সুবিধা তেমন না থাকায় তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারি না।

ইত্তেফাক/এএইচপি