বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

সম্মিলিত শক্তি মিলিয়াই নক্ষত্র তৈরি হয়

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২৩, ০৬:৩০

প্রেসিডেন্ট হিসাবে ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম বত্সরে যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে হামলার ২০ বত্সর পূর্তি অনুষ্ঠানে জো বাইডেন একটি ভিডিও-বার্তায় বলিয়াছিলেন—‘ঐক্যই আমাদের বড় শক্তি।’ ইউনাইটেড তথা ঐক্যবদ্ধ থাকিবার মধ্যেই পুঞ্জীভূত হয় বৃহত্ শক্তি। আমরা যদি মহাবিশ্বের দিকে তাকাই, দেখিতে পাইব সেইখানে রহিয়াছে পুঞ্জীভূত মহাশক্তির মহাসম্মিলন। তাহা ছড়াইয়া রহিয়াছে এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রতিটি স্তরে। সেইখানে সম্মিলিত পুঞ্জীভূত শক্তি মিলিয়াই তৈরি করিতেছে নক্ষত্র। অর্থাত্ সম্মিলন তথা ঐক্য ব্যতীত কখনোই বড় শক্তি তৈরি হয় না। এইভাবেই এই জগত্ তৈরি হইয়াছে, যাহা অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। এই বৈচিত্র্যের ব্যাপারে গ্রেট অটোম্যান সুলতান সুলেমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট ষোড়শ শতাব্দীতে বলিয়াছিলেন, ‘মহান আল্লাহ ভিন্নতা পছন্দ করেন। তাহা না হইলে এক রঙের ফুলই সৃষ্টি করিতেন; দেখা যাইত সকল জায়গায় একই রঙের পাখি, একই রঙের মানুষ। কিন্তু আমরা একেক জন একেক রকম। কারণ, বিচিত্রতাই সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য।’

সুতরাং আমাদের চারিদিকেও ভিন্নতা থাকিবে—ইহাই স্বাভাবিক। ইহাই জগতের নিয়ম। মনে রাখিতে হইবে, নিজের ভাগ্য নিজেকেই গড়িতে হয় এবং তাহা পরিশ্রম করিয়া আদায় করিতে হয়। কোথাও অন্যায়-অবিচার হইলে তাহার বিরুদ্ধে রুখিয়া দাঁড়ানোটাই দস্তুর। সুতরাং সচেতন নাগরিক হিসাবে আমাদেরও কর্তব্য রহিয়াছে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়িয়া তোলা। এই জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকিতে হইবে। আর ঐক্যের অভাব ঘটিলে কী হইতে পারে—ইহা লইয়া অসংখ্য নীতিগল্প রহিয়াছে। এই  ক্ষেত্রে একটি প্রচলিত গল্পের পুনঃপাঠ করা যাক। গল্পটি সংখ্যাবিষয়ক। একবার স্কুলের ক্লাসে ‘সংখ্যা-৯’ ‘সংখ্যা-৮’-কে চাপিয়া ধরিয়া হেনস্তা করিল। সংখ্যা-৮ বলিল—তুমি আমাকে আঘাত করিলে কেন? সংখ্যা-৯ বলিল—আমি বড়, তাই তোমাকে মারিতে পারি। তখন সংখ্যা-৮ জ্যেষ্ঠতার অধিকার লইয়া সংখ্যা-৭-কে মারিল! সংখ্যা-৭ ঘুরিয়া সংখ্যা-৬-কে মারিল! এইভাবে চলিতে চলিতে শেষ পর্যন্ত ‘সংখ্যা-২’ যখন ‘সংখ্যা-১’-কে মারিল ‘সংখ্যা-০’ (শূন্য) তখন ভাবিল—এইবার তো আমার পালা! আমার চাইতে ছোট কেহ নাই। সে নিরাপত্তার আশায় একটু দূরে গিয়া বসিল। ‘সংখ্যা-১’ তখন গিয়া ‘০’ (শূন্য)-র বাম পাশে বসিয়া বলিল—আমি তোমাকে মারিব না। শূন্য হইলেও তোমাকে আমি সম্মান করি। কিন্তু ১ গিয়া ০-এর বাম পাশে বসিবার কারণে তাহারা দুইয়ে মিলিয়া হইয়া গেল ১০! অর্থাত্ সকলের চাইতে বড়। এই নীতিগল্পটি বলিয়া দেয়—‘ঐক্যবদ্ধ’ থাকিলে সকলকে ছাড়াইয়া যাওয়া যায়। সুতরাং আমাদের মধ্যে ঐক্য থাকিতে হইবে। আমরা যদি ‘এক’ থাকি, তাহা হইলে আমাদের ভাগ্য লইয়া কেহ ছিনিমিনি খেলিতে পারিবে না। আমাদের ধর্মেও পারস্পরিক ঐক্য, মৈত্রী ও সম্প্রীতিকে অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং মানবজাতির জন্য কল্যাণকর বলিয়া মনে করা হয়। সুরা-৯ তওবা, আয়াত-৯২-এ বলা হইয়াছে, ‘এই যে তোমাদের জাতি, এই তো একই জাতি আর আমি তোমাদের পালনকর্তা, অতএব তোমরা (ঐক্যবদ্ধভাবে) আমারই ইবাদত করো।’

সুতরাং আমাদের ঐক্যসাধন প্রয়োজন। যেই এলাকায় জনসাধারণ ঐক্যবদ্ধ রহিয়াছে, সেই এলাকার মানুষেরা কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের স্বাদ পাইতেছে। এই জন্য বলা হয়, বিভাজন নহে, ঐক্যই উন্নয়নের সবচাইতে বড় সহায়ক। এই জন্য সকলকে সচেতন হইতে হইবে। মানুষ সচেতন না হইলে অন্ধকার দূর হইবে না। এই জন্য কাজী নজরুল ইসলাম বলিয়াছেন—‘আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে?’

 

ইত্তেফাক/এমএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন