সিলেটের গোয়াইনঘাটে স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে কুপিয়ে হত্যা মামলায় হিফজুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত হিফজুর রহমান (৩৬) উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের ফুলেরতল বিন্নাকান্দি এলাকার আব্দুর রবের ছেলে।
বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় সিলেটের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মশিউর রহমান চৌধুরী আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. নিজাম উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, পেশায় পান ব্যবসায়ী হিফজুর রহমান ঘটনার ১২ বছর আগে আলেমা বেগমকে বিয়ে করেন। তার ৩ সন্তান। ঘটনার আগের দিন ২০২১ সালের ১৫ জুন স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে নগরীর এয়ারপোর্ট থানাধীন আতাপীরের বাড়িতে যায়। ফেরার সময় দ্বিতীয় ছেলে আহসানকে শ্বশুর বাড়িতে রেখে আসেন। পরদিন ১৬ জুন ভোররাতে নিজ বসত ঘরে স্ত্রী আলেমা বেগম ও শিশু সন্তান মিজান ও মেয়ে আনিশাকে ঘুমন্ত অবস্থায় কুপিয়ে খুন করেন হিফজুর রহমান। এছাড়া নিজের শরীরে নিজেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে রক্তাক্ত করে মরার মতো লাশ হয়ে পড়ে থাকে হিফজুর। প্রথমে ৪ জনের লাশ পড়ে থাকার খবর পান সিলেটের তৎকালীন চৌকষ পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন। তৎকালীন গোয়াইনঘাট থানার ওসি আব্দুল আহাদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তড়িৎ ঘটনাস্থলে পৌছান। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত পর্যবেক্ষণ করে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ। সবাই যখন ডাকাতি কিংবা জমিজমার দ্বন্দ্বের এই হিসাব মিলাতে ব্যস্থ তখন পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিনের সন্দেহের তীর চলে যায় ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সংজ্ঞাহীন স্বামী হিফজুরের দিকে। সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশ তাকে আটক দেখানোর পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হিফজুর জানায়, প্রতিপক্ষ ব্যবসায়ীদের ফাঁসাতে গিয়ে তিনি এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটান।
রাষ্ট্র পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পিপি মো. নিজাম উদ্দিন ও আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. ইলিয়াস হোসেন।
