সবকিছু আকাশ থেকে পড়বে না

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৩, ১০:০০

প্রথম বারের মতো আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সভা হয়েছে ঢাকায়। এর আগে আন্তর্জাতিক সংগঠনের মধ্যে আইসিসির একটি সভা হয়েছিল বাংলাদেশে, সেটিও অনেক আগে। দুই দিনের এই সভা ২৭ দেশের প্রতিনিধি এসেছিলেন। পাঁচটা মহাদেশের প্রেসিডেন্ট এসেছিলেন। এর মধ্যে একটি দেশের ক্রীড়ামন্ত্রীও ছিলেন সেখানে।

তিনি বৃহস্পতিবার উদ্বোধনের পর সভা শেষে চলে গিয়েছেন। আর এই সভার উদ্বোধন করেছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান শফিউদ্দিন আহমেদ। এই সভার জন্য বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশন সবরকম সহযোগিতা করেছে। বাংলাদেশের সভাপতি শেখ বশির আল মামুনের ব্যক্তিগত উদ্যোগেই এত বড় একটি সভা বাংলাদেশে হয়ে গেছে। 

সাধারণত আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের সভা হয় সুইজারল্যান্ডের লুজানে। চার বার সভা হওয়ার পর একবার সভা হবে ইউরোপের বাইরে। কিন্তু সেটা সদস্য দেশগুলোর মধ্যে। বাংলাদেশ নির্বাহী সদস্য না হয়েও সভা আয়োজনের সুযোগ পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের সভায় তাদের কর্মপরিকল্পনা করেছে। অলিম্পিক গেমস, ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপসহ নানা বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের সভার পর ডেভেলপিং সাপোর্ট প্রোগ্রাম নামেও একটি সেশন ছিল। যেখানে বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের কর্মকর্তারা ছিলেন। তুলে ধরেছেন তারা কীভাবে দেশের জিমন্যাস্টিকসকে উন্নতি করতে পারে। ‘আন্তর্জাতিক ফেডারেশন সহযোগিতা করবে। তবে তার আগে দেশের সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে। সবকিছু আকাশ থেকে পড়বে না। এটা চিন্তা করা ঠিক না’—সংবাদ সম্মেলনে বললেন আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের সভাপতি মরিনারি ওয়াতানাবা।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনেক দেশে ঘুরেছি। ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছি। কখনো দেশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও কথা বলেছি। আমরা আইডিয়া যদি সরকার ফ্যাসিলিটিস দেয় আমরা ক্রীড়া সামগ্রী দিতে পারি। আমরা কোচিং সিস্টেম দিতে পারি। ইকুইপমেন্ট দিতে পারি। সবাই যদি অপেক্ষা করে যে, সবকিছু আকাশ থেকে পড়বে তাহলে সেটা অসম্ভব। যদি সবাই সাপোর্ট করে, তাহলে উন্নতি করবে। তা না হলে রেজাল্ট পাবে না। আমি বলছি আন্তর্জাতিক ফেডারেশনের একার সাহায্যে কখনো রেজাল্ট আসবে না। এটা আমার দর্শন। আমি প্রশিক্ষণ দেখেছি বাংলাদেশের জিমন্যাস্টদের। ওরা খুব ভালো করছে। এখন রেজাল্ট পাচ্ছে না সামনে পাবে।’

দেশের জিমন্যাস্টিকসে ভালো কোচ নেই। কোচ তৈরি করে দেবে। জাজ নেই। জাজ তৈরি করে দেবে। ট্রাম্পলিং নেই সেটা দিবে। এখন যেটা আছে সেটি ৭৪ সালে আনা। এখন নাকি হাতি তুলে দিলেও স্প্রিং হয় না। বশির আল মামুন জানিয়েছেন, সবকিছু চাওয়া যাবে না। কোনটা বেশি জরুরি সেটা দরকার। ফ্লোর ম্যাট দিবে। যেটা খুব জরুরি। আন্তর্জাতিক ফেডারেশন থেকে এই সহযোগিতাগুলো নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের সভাপতি শেখ বশির আল মামুন। টেকনিক্যাল সহযোগিতাগুলো করবে তারা।

বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে স্কুল পর্যায়ে জিমন্যাস্টিকস আয়োজন করার কথা বললেন সভাপতি মরিনারি ওয়াতানাবা। তিনি বলেন, ‘জাপানে, জার্মানিতে স্কুল থেকে জিমন্যাস্টিকস শুরু হয়। একজন স্কুল শিক্ষার্থী যখন জিম্যানস্টিকস করবে তখন সেখান থেকে বিভিন্ন খেলায় চলে যেতে পারবে। হোক সেটা বাস্কেটবল, ফুটবল, ক্রিকেট, যে কোনো খেলায়। কারণ তখন মাসলে শক্তি হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘একজন মানুষ ৭০ বছর বয়সেও জিমন্যাস্টিকস করতে পারে। তাহলে শরীরের হাঁড়ের ব্যর্থও থাকবে না ওষুধ দিয়ে কত বার ভালো থাকবেন আপনি। জিমন্যাস্টিকস করলে সব ব্যথা চলে যাবে।’ বশির আল মামুন জানিয়েছেন, জানুয়ারিতে স্কুল জিমন্যাস্টিকস শুরু করবেন তারা। কোরিয়ায় পাঠানো হবে ১৪ জনের একটি দল। সেখানে তিন সপ্তাহের একটি প্রশিক্ষণ চলবে কোরিয়ান সরকারের খরচে।

ইত্তেফাক/এএম