বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

জিকোকে সালাহউদ্দিনের ফোন

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৩, ১১:০১

জাতীয় দলের স্বার্থেই এখন অভিজ্ঞ ফুটবলারদের গুরুত্ব অনুধবান করছে বাফুফে। নতুন ফুটবলার আসবে, সঙ্গে পুরোনোদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। আগামী ম্যাচগুলো নিয়ে বাফুফের মধ্যে চিন্তা-ভাবনা বাসা বাঁধছে। দেশের ফুটবল এখন আর সাফের মধ্যে আটকে নেই। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে বসেও থাকতে চায় না।

দেশের ফুটবল এখন মধ্যপ্রাচ্যের দলের বিপক্ষে লড়াই করছে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ এখন কঠিন দলগুলোর বিপক্ষে লড়াই করে ভালো কিছু করতে চায়। কতটুকু এগোতে পারবে তা নিয়ে ভাবনা নেই। বাফুফের মন্ত্র হচ্ছে লড়াই করতে হবে। আর এ জন্য যতটুকু শক্তি দরকার তা কাজে লাগাতে চায়।

বাফুফে এই মুহূর্তে মনে করছে তপু বর্মন এবং গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো, দুজনকে জাতীয় দলে প্রয়োজন। এখন যারা জাতীয় দলে খেলছেন তাদের নিয়ে কোনো কথা নেই। সবাইকে ভালো মনে করছে। তবে অভিজ্ঞতার মূল্য ভিন্ন। প্রতিপক্ষ যেখানে শক্তিশালী সেখানে অভিজ্ঞ ফুটবলার থাকতে কেন দেশের জাতীয় দল সংকটে ভুগবে। তপু বর্মন এবং গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকোকে মাঠে ফেরানোর পক্ষে বাফুফে।

এই দুই ফুটবলারের সঙ্গে কথা বলছে বাফুফে। কীভাবে জাতীয় দলে ফেরানো যায় তার একটা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন নিজেই কথা বলছেন। খোঁজখবর নিচ্ছেন। গোলরক্ষক জিকো জানিয়েছেন তাকেও বাফুফে সভাপতি ফোন করেছিলেন। জিকো বলেন, ‘আমাকে ফোন করে সালাহউদ্দিন ভাই খোঁজখবর নিলেন। আমি অনুশীলন করছি কি না। কঠোর অনুশীলনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।’ বাফুফে মনে করছে একজন ফুটবল এক দিনে তৈরি হয় না। কিন্তু ধ্বংস হয়ে যেতেও সময় লাগে না।

জাতীয় দলের রক্ষণে তারিক কাজীর সঙ্গে ডিফেন্ডার তপু বর্মনের রসায়নটা খুব ভালো। একই সঙ্গে কিংসে খেলছেন। আর জাতীয় দলে গেলেও একই সঙ্গেই খেলছেন। সেখানে দুই জনের মধ্যে বোঝাপড়াটা খুব ভালো এবং সহজ হয়। প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগ, তপু এবং তারিক কাজীর যৌথ শক্তির রক্ষণভাগটা এক তুড়িতে উড়িয়ে দিতে পারত না। তপু না থাকায় তারিক কাজী যেন সঙ্গীবিহীন আহত বাঘ। ১৭ নভেম্বর মেলবোর্নে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তারিক কাজীর অসহায়ত্ব দেখা গেছে। তপু থাকলে হয়তো রক্ষণভাগ আরেকটু ভালো হতেও পারত। ২১ নভেম্বর ঢাকায় লেবানানের বিপক্ষে রক্ষণভাগেরও একই চিত্র ছিল। তপু থাকলে এই ম্যাচটার রক্ষণভাগ নিয়ে ভাবতে হতো না।

আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নেই গোলরক্ষক মেহেদি হাসান শ্রাবণের। এই শ্রাবণ লেবাননের বিপক্ষে গোলটা যেভাবে হজম করেছেন তা ফুটবল দর্শকেদের হাসির খোরাক জুগিয়েছে। যেন কাদায় মাছ ধরতে নেমেছিলেন। সাবেক ফুটবলার ব্রাদার্সের সালাম বললেন, ‘এভাবে কেউ বল ধরতে যায় ? ফিস্ট করে দিলেও বলটা দূরে গিয়ে পড়ত। সেটা না করে বারবার গ্রিপ করতে গিয়ে গোল। আমি হাসতে হাসতে শেষ। এত কম বয়সের খেলোয়াড়কে জাতীয় লেভেলে খেলিয়ে দেওয়াটা ঠিক না।’ আরেক সাবেক ফুটবলার শেখ আশরাফ আলী, তিনি সালামের কথা তুলে নিয়ে বললেন, ‘ওর কী দোষ? কোচ ওকে নামিয়েছে। আর ডিফেন্ডাররা কী করেছে? এটাও তো দেখতে হবে। লেবাননের বিপক্ষে আমাদের জেতা ম্যাচ ছিল।’

বসুন্ধরা কিংসের পাঁচ ফুটবলার তপু বর্মন এবং আনিসুর রহমান জিকো, তৌহিদুল আলম সবুজ, শেখ মোরসালিন এবং রিমন হোসেন দলের সঙ্গে মালদ্বীপে খেলে ঢাকায় ফিরে বিমানবন্দরে নামলে তাদের কাছ থেকে নিষিদ্ধ মদের বোতল জব্দ করা হয়। সেই ঘটনায় অভিযুক্ত এই পাঁচ ফুটবলারকে বিভিন্ন মেয়াদের শাস্তি দেওয়া হয় এবং আর্থিক জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে শেখ মোরসালিন ১ লাখ এবং রিমন হোসেন ৩ লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে খেলায় ফিরেছেন। বাকি তিন জন নিজ নিজ বাড়িতে। তপুর মেয়াদ শেষ হবে ৩১ ডিসেম্বর, জিকোর মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৩১ মার্চ।

বাফুফে দেখছে মোরসালিন ফিরেছেন, আর খেলা থেকে দূরে তপু ও জিকো। জাতীয় দল এই  দুজনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। ক্লাব শাস্তি দিয়েছে কিন্তু বাফুফে শাস্তি দেয়নি। তাহলে কেন জাতীয় দলে খেলতে পারবেন না, তপু, জিকোরা। জাতীয় দলে যদি এই ফুটবলাদের প্রয়োজন থেকে থাকে তাহলে কোন রহস্যজনক কারণে আটকে আছের তারা। 

ইত্তেফাক/এএম