শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

দক্ষিণখানের ভাঙাচোরা রাস্তায় দুর্ভোগে এলাকাবাসী

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২৩, ১১:৪৭

রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকার ভাঙা সড়ক মানুষের চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নদ্দাপাড়া ও আইনুসবাগের সড়কগুলো দিয়ে চলাচল করতে গেলে মনে হয়- এ যেন মরণফাঁদ। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতায় যে কয়টি ইউনিয়ন নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে, তার মধ্যে নদ্দাপাড়া, আইনুসবাগ ও দক্ষিণখানসহ ৮টি ওয়ার্ডের ছোঁয়া লাগেনি উন্নয়নের।

এলাকাগুলো ঢাকা-১৮ আসনের অন্তর্ভুক্ত। আওয়ামী লীগের সাবেক বর্ষীয়ান নেত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন দীর্ঘদিন যাবত এ এলাকার সংসদ সদস্য ছিলেন। এখানে দৃশ্যমান তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। রাস্তাগুলোর বিভিন্ন জায়গায় কার্পেটিং উঠে গেছে। কোথাও রাস্তায় ইটের সলিং ভেঙে বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। আবার রাস্তার কোথাও রড বেরিয়ে এসেছে।

অসুস্থ রোগীকে এ রাস্তা দিয়ে নিয়ে গেলে রোগী মৃত্যু পথযাত্রী হয়ে যায়। গর্ভবতী মায়েরা এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে বিড়ম্বনার শিকার হয়। তারা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে যায়। সামান্য বৃষ্টিতে এলাকার রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। এমন নজির আছে বহু।

দক্ষিণখানের হলান অটো স্ট্যান্ড থেকে আশকোনা প্রাইমরি স্কুল, দক্ষিণখান থেকে কসাইবাড়ি রোড, পণ্ডিত পাড়া থেকে শোনার খোলা, সিটি কমপ্লেক্স রোড, মাজার রোড, মাস্টারপাড়া রোড, দোবাইদা, আটীপাড়া, কাঁচকুরা বাজার থেকে বাওথা পর্যন্ত সড়কগুলোর একেবারেই বেহাল দশা। এছাড়া আভ্যন্তরীণ চলাচলের রাস্তাগুলোর আরও খারাপ অবস্থা। এই রাস্তাগুলোতে পায়ে হেঁটে চলাচলেরও অনুপযোগী।

পরিবহন চালকরা জানান, ভাঙা রাস্তায় প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। রাস্তায় পানি জমে থাকলে মাঝেমধ্যেই ইঞ্জিনের মধ্যে পানি ঢুকে গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। কেউ কেউ বলছেন, 'এসব রাস্তায় চলাচল করে দিনশেষে দুইটি করে ব্যথানাশক ট্যাবলেট খাওয়া লাগে!'

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাস্তায় কয়েকটি ম্যানহোল রয়েছে। তবে বেশিরভাগ ম্যানহোলের ঢাকনা উপচে ময়লা পানি রাস্তায় আসে।

দক্ষিণখান কাঁচাবাজার এলাকায় বসবাসরত আমেনা বেগম জানান, গত বছর ডাক্তার তাকে হৃদরোগ বিষয়ক হল্টার মনিটরিং টেস্ট করাতে দিয়েছিল। ডাক্তার পরামর্শ দিয়েছিল, টেস্ট চলাকালীন রোগীর চলাফেরায় যেন ঝাঁকি কম লাগে। তাই আমেনা বেগম সিদ্ধান্ত নেন হাসপাতালের কেবিনে থেকে এই টেস্ট করাতে চান। ডাক্তার এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, দক্ষিণখান এলাকায় যাতায়াত ব্যবস্থা খুবই খারাপ, টেস্ট চলাকালীন সময়ে ভাঙ্গা রাস্তায় চলাচল করলে অনেক ঝাঁকির মোকাবেলা করতে হবে তাই তিনি এই সিদ্ধান্ত্ নেন। এজন্য তাকে টেস্টের খরচসহ কেবিন ভাড়ার জন্যে বাড়তি টাকা গুনতে হয়েছে।

নদ্দাপাড়ায় বসবাসরত শিউলি জানান, তিনি তার পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন। কিন্তু রাস্তা খারাপ হওয়ায় আগামী  জানুয়ারিতে এলাকা থেকে চলে যাবেন।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটির ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের সচিব সজিব মিয়া জানান, ইতোমধ্যে কাওলার শিয়ালডাঙ্গা থেকে তালতলা পর্যন্ত, দক্ষিণখান কাঁচাবাজার থেকে কসাইবাড়ি এবং বিভিন্ন রাস্তার মেরামত কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন হয়ে গেছে। রাস্তা মেরামতের প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ চলছে।

তিনি আরও জানান, দক্ষিণখান কাঁচাবাজার ও আরও কিছু রাস্তার পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার যেন স্থায়ী সমাধান হয়- এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসকে