হেঁটে যাতায়াতের নিরাপদ পরিবেশ তৈরির আহ্বান

‘অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যালয়ে হেঁটে যাতায়াত’ শীর্ষক কর্মশালা

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৩:৩০

অসংক্রামক রোগপ্রতিরোধে শিশুদের হেঁটে যাতায়াতের নিরাপদ পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছে বিভিন্ন স্কুল ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, শারীরিক পরিশ্রমের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় শিশু-কিশোরদের মধ্যে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি ক্রমেই বেড়ে চলেছে। বিদ্যালয়ে হেঁটে যাতায়াতের মাধ্যমে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব। শিক্ষার্থীরা নিরাপদে হেঁটে যাতায়াতে সক্ষম হলে সব বয়স ও সামর্থ্যের জনগণ উপকৃত হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বেঙ্গলী মিডিয়াম হাই স্কুলের অডিটরিয়ামে ‘অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যালয়ে হেঁটে যাতায়াত’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী আয়োজনে বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। সম্মিলিতভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে বেঙ্গলী মিডিয়াম হাই স্কুল, ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুল, হেলথব্রীজ ফাউন্ডেশন অব কানাডা এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট। 

মূল প্রবন্ধে ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর প্রকল্প কর্মকর্তা প্রমা সাহা বলেন, ঢাকা শহরে পর্যাপ্ত মাঠ-পার্কের অভাবে শিশুরা প্রয়োজনীয় শারীরিক পরিশ্রমের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, যা ডায়াবেটিস, ক্যানসার, হূদেরাগসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে এবং শিশুদের মধ্যে নেতিবাচক মানসিকতা তৈরি হয়। বিদ্যালয়ে হেঁটে যাতায়াতের মাধ্যমে সহজেই শিশুদের শারীরিক পরিশ্রমের চাহিদা পূরণ সম্ভব। হেঁটে যাতায়াতের ফলে গাড়ির সংখ্যা কমে দুর্ঘটনা ও যানজট হ্রাস এবং সময় ও যাতায়াত খরচ সাশ্রয় হয়। গাড়ির ওপর নির্ভরশীলতা কমে গেলে বায়ু দূষণ হ্রাস করার মাধ্যমেও অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে, একই সঙ্গে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শহর গড়ে তুলতে হেঁটে যাতায়াতের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতের বিকল্প নেই।

ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা এম এ মান্নান মনির বলেন, বর্তমানে শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সুযোগ নেই বললেই চলে। খেলাধুলার সুযোগের অভাবে তারা মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ডিভাইসে আসক্ত হয়ে পড়ছে। হেঁটে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের মাধ্যমে শারীরিক কার্যক্রম ও সামাজিকীকরণের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের সিনিয়র প্রকল্প ব্যবস্থাপক জিয়াউর রহমান বলেন, অসংক্রামক রোগ হ্রাসে শিশুদের বিদ্যালয়ে হেঁটে যাতায়াতের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় আমরা ২০১৪ সাল থেকে ‘হেঁটে যাই বিদ্যালয়, দেহ-মন-সুস্থ রয়’ শীর্ষক একটি কর্মসূচি পরিচালনা করছি। ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে হেঁটে যাতায়াত করলে শরীর ও মন ভালো রাখার পাশাপাশি দূষণ, দুর্ঘটনা, যানজট, জ্বালানি অপচয়সহ বিভিন্ন সমস্যা হ্রাসে অবদান রাখা সম্ভব।

ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী বলেন, আজকের এ কর্মশালার মাধ্যমে শিশুরা তাদের হেঁটে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা ও তার জন্য প্রয়োজনীয় সমাধান তুলে ধরেছে।

সভাপতির বক্তব্যে বেঙ্গলী মিডিয়াম হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক নারায়ণচন্দ্র দাস বলেন, একজন মানুষকে সুস্থ থাকতে হলে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটতে হয়। ব্যক্তি যে যাতায়াতমাধ্যমই ব্যবহার করুন না কেন, হাঁটা তার প্রাথমিক যাতায়াতমাধ্যম। কাজেই হাঁটার পরিবেশ উন্নয়নে কোনো বিকল্প নেই।

কর্মশালায় শিক্ষার্থীরা স্কুলে হেঁটে যাতায়াতের বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধান তুলে ধরে। হেঁটে যাতায়াতের সমস্যা হিসেবে শিক্ষার্থীরা সড়কে নির্মাণকাজের উপকরণ ফেলে রাখা, ফুটপাতে মোটরবাইক চলাচল ও অবৈধ পার্কিং, আবর্জনা, ব্যক্তিগত গাড়ির আধিক্য, অনিরাপদ রাস্তা পারাপার ইত্যাদি এবং সমাধান হিসেবে ফুটপাতে বাইক চলাচল আইনের মাধ্যমে নিষিদ্ধকরণ, প্রতিবন্ধকতাহীন ফুটপাত নিশ্চিতকরণ, জেব্রা ক্রসিং প্রদান, ইভটিজিং বন্ধে কমিউনিটি পুলিশের সহায়তা নিশ্চিতকরণ সুপারিশ করেন। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গলী মিডিয়াম হাই স্কুল এর সহকারী শিক্ষক শামীমা সুলতানা, জাকির হোসেন, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের সহকারী প্রকল্প কর্মকর্তা বাঁধন ঘোষ এবং বেঙ্গলী মিডিয়াম হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা।

ইত্তেফাক/এএইচপি