রোববার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

জলবায়ু সংকট থেকে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ, যা থাকছে কপ-২৮ আলোচনায়

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৪:৩১

এবারের বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৮ অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুবাইতে। বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে রাখার অ্যাজেন্ডার পাশাপাশি এবারের সম্মেলনে প্রভাব রেখেছে ইসরায়েল-হামাস দ্বন্দ্ব। বৃহস্পতিবার সম্মেলনের শুভ উদ্বোবধন করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

এবারের সম্মেলনে শুরুতেই ইতিবাচক কিছু দেখা গেছে। কারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিধ্বস্ত দুর্বল দেশগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত তহবিল চালু করতে সম্মত হয়েছেন সম্মেলনের নেতারা। প্রতিনিধিরা জীবাশ্ম জ্বালানীর ভবিষ্যত থেকে শুরু করে দীর্ঘ জলবায়ু আলোচনার বিষয়সমূহ নিয়ে আগামী দুই সপ্তাহ আলোচনা করবেন।

সম্মেলনের শুরুতেই জাতিসংঘ প্রধান সতর্ক করে বলেছেন, ২০২৩ সাল বিশ্বের উষ্ণতম বছর হতে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য পূরণ হবে না।

কপ-২৮ সম্মেলনের সভাপতি আরব আমিরাতের সুলতান আল জাবের বৃহস্পতিবার বলেছেন, ‘এখন আসল কাজ শুরু হবে। আমি নিজেই আমার হাতা গুটিয়ে নেব, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাহায্য করব এবং বাস্তব, কার্যকরী ফলাফলে ভূমিকা রাখব।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় তেল সংস্থা অ্যাডনকের প্রধান জাবের বলেছিলেন, ‘জীবাশ্ম জ্বালানির ভূমিকা’ অবশ্যই জাতিসংঘের জলবায়ু আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

কর্মীরা জলবায়ুর প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ এবং জাতিসংঘের প্রধান আন্তোনিও গুতেরেস জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বেরিয়ে বিকল্প উপায় খোঁজা, এ দুটি বিষয়ের আহ্বান জানিয়েছেন। গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের তিন চতুর্থাংশের জন্য দায়ী এই জ্বালানি৷

১৪০টির বেশি দেশের রাজা, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীরা শুক্রবার এবং শনিবার দুবাই কমপ্লেক্সে ভাষণ দেবেন। ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের মাধ্যমে ভাষণ শুরু হবে। তারপর ব্রাজিল, কেনিয়া, টোঙ্গা ও ইউক্রেনের মতো দেশের নেতারা ভাষণ দেবেন।

তবে এবারের সম্মেলনে জলবায়ু সংকটের পাশাপাশি গাজার সংঘাতের অ্যাজেন্ডাও থাকবে।

ইসরায়েলের রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হারজোগ বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিপক্ষ শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং শুক্রবার কপ-২৮ সম্মেলনে ভাষণ দেবেন।

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসেরও ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু তার কার্যালয় এএফপিকে বলেছে, তিনি আর সম্মেলনে যাচ্ছেন না। তার পরিবর্তে তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুবাই যাবেন।

হামাসের হাতে জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য একটি কূটনৈতিক চাপের জন্য হারজোগ কপ-২৮ সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, তিনি তার সম্পূর্ণ রাজনৈতিক দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আমিরাতি প্রতিপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন যেন জিম্মিদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের প্রচার ও গতি বাড়ানো যায়।

এবার কপ-২৮ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। তিনি ইসরায়েল-হামাস সংঘর্ষের বিষয়ে আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করবেন বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে।

সেক্রেটারি অব স্টেট অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বৃহস্পতিবার বলেছেন, সংঘাতের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর ভূমিকা রাখছে এবং এটি চালিয়ে যাওয়া উচিত।

ইত্তেফাক/এসএটি