বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

রিসাইক্লিং ইকোনমি

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৫:১৫

পলিথিন-পলি ভিনাইল হাইড্রোক্লোরাইড তথা ইথিলিন জাতকের কার্বনের লম্বা শিকলযুক্ত হাইড্রোকার্বন বা জৈব যৌগ। এটি ডিকম্পোজড হয় না অর্থাত্ পচে না। কোনো অনুজীব একে পচাতে পারে না। পলিথিনকে পচাতে পারে এমন কিছু ফাংগাসের নাম শোনা গেলেও বাস্তবে এর কার্যকারিতা দেখা যায়নি। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এর উপযোগিতা ব্যপক। বিপরীতে এটি পরিবেশ ও মানব স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক। অর্থনীতিবিদরা বলছেন জিডিপি বৃদ্ধি পেলে পলিথিনের অপব্যবহারও বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ে পরিবেশবাদীদের উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা মানুষের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন। তারা বলছেন এই ক্ষুদ্র কণা মানুষের শরীরে চলাচল করতে পারে। খাবার ও পানির পাশাপাশি নিশ্বাসের মাধ্যমেও এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা মানুষ গ্রহণ করছে। প্লাস্টিকের টি-ব্যাগ সম্পর্কেও বিরূপ মন্তব্য শোনা যাচ্ছে। ফলে লিভার, কিডনি, পাকস্থলী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ছাড়াও ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকির মধ্যে এখন মানুষ সময় কাটাচ্ছে। একদিন হয়তো এর খেসারত টের পেয়ে যাবে।

বর্তমানে দেশে জনপ্রতি ১০ কেজি করে প্লাস্টিক ব্যবহার হচ্ছে। ২০৩০ সালে এটি দাঁড়াবে ৩০ কেজিতে। দেশে মোট ৫৫০০ প্লাস্টিক কারখানা রয়েছে যেগুলোতে ২০ লাখ শ্রমিক কাজ করছে। ২০২০ সালে মোট ৮ লাখ ২১ হাজার ২৫০ টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়েছে। তার মধ্যে জমিতে গেছে ৩ লাখ ১৯ হাজার ৭৪০ টন আর নদীতে  গেছে ২ লাখ ৭ হাজার ৬৮৫ টন। ৯৩ হাজার ৮২৫ টন রিসাইক্লিং করা হয়েছে। ২০২১ সালে প্লাস্টিকের বাজার ছিল ৪০ হাজার কোটি টাকার। ২০২২ অর্থবছরে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হয়েছে প্লাস্টিক রপ্তানি করে। এটি রপ্তানি খাতে ১২তম অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) ও ইউনিলিভার আয়োজিত ‘টেকসই প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নীতি প্রণয়ন (এনারিং পলিসি ফর সাস্টেইনেবল প্লাস্টিক ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট)’ শীর্ষক এক সেমিনারে এইসব তথ্য উঠে এসেছে। বলা হয়েছে প্লাস্টিকের  বর্জ্যকে সমস্যা মনে না করে এক সম্ভাবনাময় অর্থনীতিতে পরিবর্তন আনা সম্ভব। এটি নষ্ট না করে পুনঃব্যবহার করা যায়। এক্ষেত্রে এক রিসাইক্লিং, রিইউজ এবং রিফিইজ করার মাধ্যমে সমন্বয় করা যায়।

পরিবেশকে বাঁচিয়ে ব্যবসা করতে হবে। তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের মাঝামাঝিতে চীন নিজেদের বর্জ্য ছাড়াও বাইরে থেকে বর্জ্য আমদানি করে একে রিসাইক্লিং করে নিজেদের প্রবৃদ্ধি বাড়িয়েছে অনেক গুণ। ভারতে ২০১০ সালে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুন্যালের মাধ্যমে ১০০ ভাগ প্লাস্টিক বর্জ্যের মধ্যে ৯৮ ভাগই তারা সংগ্রহ করে থাকে। সিঙ্গাপুর  প্যাকেজিং অ্যাগ্রিমেন্ট এসপিএ ২০০৭ সালে যাত্রা শুরু করে। ইউরোপ আমেরিকায় প্লাস্টিক ব্যবহার করলেও আমাদের মতো ওখানে যত্রতত্র প্লাস্টিক বর্জ্য পড়ে থাকে না। কোকাকোলা তাদের প্লাস্টিকের ২০ শতাংশ ফেরত নিয়ে আসছে। জাতিসংঘ বলছে বিশ্বের মাত্র ৩০ শতাংশ প্লাস্টিক বর্জ্য সংগৃহীত হচ্ছে। বাকিগুলো পরিবেশকে বিষিয়ে তুলছে।

প্লাস্টিক দূষণ রোধ করা অবশ্যই সম্ভব। রিসাইক্লিং ইকোনোমিই হতে পারে এর সমাধান।

ইত্তেফাক/এএইচপি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন