যার স্মরণে আমরা আজ এখানে একত্রিত হয়েছি এই মহিলা পরিষদ তারই হাত ধরে গড়ে উঠেছে।
আমরা পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে তাকে তার কবি পরিচয়েই চিনি। নারী আন্দোলনে তার ভূমিকা, দেশভাগের ভূমিকা,
মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকার সঙ্গে আমাদের তরুণ প্রজন্মের তেমন পরিচয় নেই
মহিলা অঙ্গন প্রতিবেদক
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের অগ্রপথিক জননী সাহসিকা মানবতার মৃম্ময়ী কবি সুফিয়া কামালের ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সম্প্রতি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সেগুনবাগিচাস্থ সুফিয়া কামাল ভবন মিলনায়তনে এক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি নারীনেত্রী আয়শা খানম। প্রয়াত কবি সুফিয়া কামালের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য ও অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম। কবি সুফিয়া কামালের জীবন ও কর্মের উপর আলোকপাত করে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইম্যান এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সানজীদা আখতার ও সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের অধ্যাপক রুবায়েত ফেরদৌস এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম ও সিনিয়র ট্রেনিং এন্ড রিচার্স অফিসার শাহজাদী শামীমা আফজালী শম্পা। প্রয়াত কবি সুফিয়া কামালের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন মৃদুলা সমাদ্দার ও শ্রেয়া ঘোষ পূজা। অনুষ্ঠানে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন উপপরিষদের সম্পাদকবৃন্দসহ মোট উপস্থিতি ছিল ১৫০ জন।
আয়শা খানম বলেন, তরুণদের মধ্যে কবি সুফিয়া কামালের চর্চা বাড়াতে হবে। এজন্য আমাদের সেতুবেনর কাজ করতে হবে। আমরা নিয়মিত পাঠচক্র করি। সেখানে কবি সুফিয়া কামালকে নিয়ে আলোচনা করি। সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকীর স্মারক বক্তব্য নিয়ে একটি প্রকাশনা বের করেছি। শীঘ্রই আরো একটি বের করা হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের অধ্যাপক রুবায়েত ফেরদৌস বলেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন সমসাময়িক কালের একজন প্রভাবশালী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি সিভিল সোসাইটির একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। তিনি নারী পুরুষের সমতাভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে আজীবন আন্দোলন করে গেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. সানজীদা আখতার বলেন, যার স্মরণে আমরা আজ এখানে একত্রিত হয়েছি এই মহিলা পরিষদ তারই হাত ধরে গড়ে উঠেছে। আমরা পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে তাকে তার কবি পরিচয়েই চিনি। নারী আন্দোলনে তার ভূমিকা, দেশভাগের ভূমিকা, মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকার সাথে আমাদের তরুণ প্রজন্মের তেমন পরিচয় নেই।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম এবং সিনিয়র প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কর্মকর্তা শাহজাদী শামীমা আফজালী।
