শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

চট্টগ্রামে কম দামে বিক্রি করা গরুর মাংস নিম্নমানের

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৪:০০

ন্যায্যমূল্যে গরুর মাংস বিক্রি করছেন নগরীর বালুরচড়া এলাকার মাংস ব্যবসায়ী রাহাত। কেজি ৫৬৫ টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি। সপ্তাহে দুই দিন মাংস বিক্রি করেন তিনি। গত তিন মাসে ৭ হাজার ৫০০ ক্রেতার কাছে ২ কোটি টাকার মাংস বিক্রি করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান জাতের গরুর মাংস বিক্রি করেছেন তিনি। তবে চট্টগ্রামে আর কোথাও এত কম দামে মাংস বিক্রির খবর পাওয়া যায়নি।

মাংস ব্যবসায়ী রাফিউল হাসনাত রাহাত বলেন, অস্ট্রেলিয়ান জাতের গরুর দাম দেশীয় জাতের গরুর চেয়ে কম। তাই কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে। কিন্তু দেশীয় ষাঁড় গরুর মাংস এত কম দামে বিক্রি করা যাবে না। আবার ষাঁড় গরু থেকে গাভি গরুর দাম কম। শুনছি অনেক জায়গায় মিশ্রিত করে কম দামে মাংস বিক্রি হচ্ছে।’

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নগরীর বহদ্দারহাট বাজারে অভিযান চালিয়ে গরুর মাংস কেজি ৯০০ টাকা দামে বিক্রির অভিযোগে চার মাংস বিক্রেতাকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তা রানা দেবনাথ বলেন, বাজার তদারকি অভিযানকালে দেখা যায়, ন্যায্যমূল্যের চেয়ে বেশি দামে গরুর  মাংস বিক্রি হচ্ছে। কোনো দোকানে হাড় ছাড়া গরুর মাংস প্রতি কেজি ৯০০ টাকা। কোনো দোকানে ৮০০ টাকা। আবার হাড়সহ গরুর মাংস ৬৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তাই চারটি দোকানকে জরিমানা করা হয়েছে ১১ হাজার টাকা। এ সময় তাদের সতর্ক করা হয়েছে। 

ন্যায্যমূল্য কত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঢাকায় গরুর মাংস ৫৮০-৬০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। চট্টগ্রামে এর চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছিল। বর্তমানে গরুর দাম অনেক কমে গেছে। তাই মাংসও কম দামে বিক্রি করাটা যৌক্তিক। তবে অভিযান হলে কেজি ৭৫০ থেকে ৯০০ টাকার কম দামে বাজারে মাংস মিলছে না।

প্রশাসনের অভিযানের কারণে চট্টগ্রামে বিভিন্ন বাজারে মাংস বিক্রি কমিয়ে দিয়েছেন মাংস বিক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নির্ধারণ করা দামে গরুর মাংস বিক্রি সম্ভব নয়। দেখা গেছে, অভিযানের কারণে মাংস বিক্রিতে অনিয়ম বেড়ে গেছে। ওজনে কম, মাংসের সঙ্গে অতিরিক্ত হাড় ও চর্বির মিশ্রণে ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছে। ষাঁড় গরু ও গাভি গরুর মাংস মিশ্রিত করে কম দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

খামারিরা জানান, দেশীয় খামারিরা যে সব গরু লালনপালন করেন তার কেজি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকার কম দামে মাংস বিক্রিতে লোকসান দিতে হবে। চট্টগ্রাম জেলা ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইকবাল হোসেন বলেন, গো-খাদ্যের দাম ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে খামারিদের খরচ বেড়ে গেছে। ভারত থেকে গরু আমদানি বন্ধ থাকলেও অবৈধ পথে গরু আসছে। মূলত, এসব গরুর মাংস বাজারে কম দামে বিক্রি হচ্ছে। অবৈধ পথে গরু আসায় বাজারে চাহিদার চেয়ে জোগান বেড়ে গেছে। আবার দেশীয় খামারিরা গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় লোকসানে গরু বিক্রি করে দিচ্ছে। ফলে বাজারে মাংসের দাম কমে গেছে। এ অবস্থায় দেশীয় খামারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’

মাংস আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের সংগঠন হালাল মিট ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি শামীম আহমেদ জানান, ভারত থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন মাংস আমদানির জন্য চারটি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। বিদেশ থেকে মাংস আমদানিতে সরকার শুল্ক অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। শুল্ক বেড়ে যাওয়ায় প্রতি কেজিতে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা শুল্ক দিতে হচ্ছে। গত ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে মাংস আমদানি বন্ধ রয়েছে। এখন কেউ মাংস আমদানি করছেন না বলে দাবি করেন তিনি। দেশের ৫০/৬০ জন মাংস আমদানি ব্যবসায় যুক্ত রয়েছেন।’

ইত্তেফাক/এমএএম