রোববার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

যুবদলের সেই নেতাকে ডাণ্ডাবেড়ি পরানো কেন অবৈধ নয়, হাইকোর্টের রুল

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৪:৪৫

যশোর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি মো. আমিনুর রহমান মধুকে ডাণ্ডাবেড়ি পরানো কেন অবৈধ হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে তাকে ১০ দিনের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং আদালতের রায় বাস্তবায়ন করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

সোমবার (৪ ডিসেম্বর) বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।

গত ২৯ নভেম্বর কারাবন্দি আমিনুুর রহমানকে হাতকড়া ও ডাণ্ডাবেড়ি পরা অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়ার ঘটনা হাইকোর্টের নজরে আনেন বিএনপির আইনজীবীরা। বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চে বিষয়টি নজরে আনা হয়।

ডান্ডাবেড়ি পরিহিত যুবদল নেতা আমিনুর রহমান হাসপাতালের মেঝেতে ঘুমিয়ে আছেন

গত ২ নভেম্বর সদর উপজেলার আমদাবাদ এলাকা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় পুলিশ আমিনুরকে গ্রেপ্তার করে। এরপর ১২ নভেম্বর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা অবস্থায় আমিনুর রহমান মধু হৃদরোগে আক্রান্ত হন। কারাগার থেকে তার দুই পায়ে ডাণ্ডাবেড়ি হাতকড়া লাগিয়ে প্রথমে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ওই রাতেই তাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। পরদিন ১৩ নভেম্বর কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। দুই পায়ে ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে ও ডান হাতে হাতকড়া লাগানো অস্থায় হাসপাতালের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয় তাকে। একই হাতে একগুচ্ছ দড়ি পেঁচানো ছিল। তার শরীরে ডাণ্ডাবেড়ি এবং হাতকড়া এমনভাবে লাগানো ছিল, যাতে সামান্য নড়েচড়ে বসারও কোনো সুযোগ নেই। কেবলমাত্র দুই হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকা ছাড়া।

চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় পুলিশের আপত্তির মুখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে বিছানা পর্যন্ত দেয়নি। যে কারণে আমিনুর রহমান মধুকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা করা হয়। তার বাম হাতে ক্যানোলা লাগানো। সেখানে স্বজনদের কাছে যেতে দেয়নি পুলিশ। এমনকি সময়মতো তাকে ওষুধ সেবন পর্যন্ত করতে দেওয়া হয়নি।

ইত্তেফাক/এসকে